Alexa গডরিচ জেলেপাড়া

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬,   ১৫ সফর ১৪৪১

Akash

গডরিচ জেলেপাড়া

 প্রকাশিত: ১৪:১৬ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ছবি: লেখকের

ছবি: লেখকের

‘‘When anxious, uneasy and bad thoughts come, I go to the sea, and the sea drowns them out with its great wide sounds, cleanses me with its noise, and imposes a rhythm upon everything in me that is bewildered and confused.’’ — Poet Rainer Maria Rilke

জল। মানব জীবনের একটা প্রধান অনুষঙ্গ। বিবর্তনের প্রাথমিক কাল থেকেই। জলেই তার জন্ম। অতঃপর বিবর্তনের হাত ধরে ডাঙায় উঠে আসা। সঙ্কুল অরণ্যে যুথবদ্ধ শিকারি জীবন। নীলনদ বা ভোলগা নদীর অববাহিকায় কৃষিভিত্তিক সামাজিক সভ্যতা। শিল্পবিপ্লব। শিল্পবিপ্লব উত্তর পোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটি তথা বর্তমান মানব সভ্যতা। কিন্তু যে জলজ জীবন থেকে তার প্রারম্ভ, সেই জলের তৃষ্ণা তার কোনো কালেই মিটেনি!

এ কারণেই জলের সন্নিকটে অবস্থান, জলপান, জলস্নান, প্রতিনিয়ত জলকে অবলোকন– সবকিছুই মানুষের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমন কি সংসার ত্যাগী মুনিঋষিরাও বসবাসের স্থান নির্ধারণ করতেন জলের সন্নিকটবর্তী স্থানে।

এপ্রিল ২০০২ সাল। সিয়েরালিওনের রাজধানী ফ্রি টাউন থেকে ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে গডরিচ নামক কঙ্করময় স্থান। আটলান্টিক মহাসাগরের সৈকত থেকে ২০০ গজ পশ্চিমে। ব্যানসিগ-২ (বাংলাদেশ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন-২)-এর সদর দফতরর। বাংলাদেশ থেকে জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া বাঁশ দিয়ে তৈরি সৈনিক লাইন, মসজিদ, অধিনায়কের বাস কক্ষ। অফিসারদের জন্যে লম্বা ইটের ব্লকের তৈরি চার অথবা পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট বিল্ডিং। টিনশেডের। ব্যাটালিয়ন সদর দফতরও টিনশেডের তৈরি ব্যাটালিয়নের সামনে দিয়ে লাল ধুলিধূসরিত একটা রাস্তা সমুদ্রের বেলাভূমির সমান্তরাল দক্ষিণে চলে গেছে। রাস্তার পশ্চিম পাশেই সবুজ বনের পাহাড়। পাহাড়ের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘরবাড়ি। এ পাহাড় থেকে একটা ঝর্ণা বা ছড়া। ব্যাটালিয়নের প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর দিয়ে আটলান্টিকে এসে মিশেছে। রাস্তা থেকে এই জলের উৎস দৃশ্যমান নয়। তবে এখানে দাঁড়ালে সারাক্ষণ জল পড়ার শব্দ শোনা যায়। ধুলোর কারণে পুরো এলাকাটা সারা দিনমান আচ্ছন্ন থাকে। আমাদের দেশের শীতের সকালের মতো।

জাতিসংঘ কর্তৃক সরবরাহকৃত অ্যাম্বুলেন্স সাইজের ফ্রিজ। ভেতরে স্তূপীকৃত বরফে রুপান্তরিত কঠিন টার্কি মুরগি। ফসিলের মতন। আয়তনে তিন/চার মাস বয়সী মৃগ শিশুর ন্যায়। কন্টেইনার ফ্রিজ থেকে সকালের মৃদু আলোতে সারি সারি করে রাখা হয়েছে। উঠোনের ভেতরে। শিকারির গুলিতে নিহত হরিণ শিশু যেন এক একটা! অথবা যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে মৃত হিসেবে প্রত্যাবর্তনকারী সৈন্যদলের মতন। নিদেনপক্ষে এক সেকশন। আজ রাতের বারবি কিউ অনুষ্ঠানে এরাই হবে মধ্যমণি!

প্রতি সপ্তাহান্তে সন্ধ্যার পর জাতিসংঘের অপরাপর সদস্যদের নিয়ে বারবিকিউ পার্টি। ACROSS THE ATLANTIC! সামনেই! মাত্র তিনশো গজ দূরে সমুদ্র মৃদু গর্জন করছে। আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাথায় উজ্জ্বল সাদা আলো। সমুদ্রের শরীর থেকে প্রবাহিত হচ্ছে শীতল বায়ু। আসছে আমাদের দিকে। বসনিয়ান রুটি এবং টার্কি চিকেনের শিক কাবাব। পোড়া গন্ধে মৌ মৌ করছে ব্যান সিগ সদর দফতরের আকাশ বাতাস। ঊর্ধ্বাকাশে পূর্ণ চাঁদ। অথবা নিঃসীম প্রায়ান্ধকার নীলাকাশ। ধ্রুবতারা। সপ্তর্ষিমণ্ডল। হাজার নক্ষত্রের মেলা। সবই উপস্থিত। শুধুমাত্র আমার বাড়ির চন্দ্রালোকিত ধবধবে সাদা উঠোন ছাড়া।

জীবনানন্দ দাশের ‘ক্যাম্পে’ কবিতার কথা মনে পড়ে। “এখানে বনের কাছে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি, সারারাত দখিনা বাতাসে আকাশের চাঁদের আলোয় এক ঘাই হরিণীর ডাক শুনি, - কাহারে সে ডাকে!

আজ সারারাত আমরা কেউই ঘুমাব না। এক অতীন্দ্রিয় স্বপ্নলোকের ভেতরে আধো ঘুম, আধো জাগরণের ভেতরে আমাদের সময় কেটে যাবে।পৃথিবীর অন্য প্রান্তে হয়তো নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছে আমাদের প্রিয় পরিচিতরা। আমাদের কথা ভেবে! অথবা সেখানে এখন সূর্যালোকিত দিন!

মাত্র দুই মাসেই হোম সিকনেস শুরু হয়ে গেছে সবার। জাতিসংঘ কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রাচুর্যপূর্ণ খাবার মুখে রোচে না। বিষবৎ মনে হয়! স্ত্রী বা প্রিয়জনদের হাতে রান্না করা চ্যাপা শুঁটকির গন্ধে ক্রমশ নস্টালজিক সবাই। মেজর যুবায়ের ইতোমধ্যেই তার নিজস্ব ধরনে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তার বিশ্বাস জাতিসংঘ কর্তৃক সরবরাহকৃত টার্কিগুলো এবং গরুর মাংস অতি প্রাচীন। বিশেষ করে গরুগুলোকে এই দশকে জবাই করা হয়েছিলো কিনা সে বিষয়ে তার প্রবল সন্দেহ। এছাড়াও জবাই না হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়েও সে সন্দিহান। অতএব সে নিজের টাকা খরচ করে পার্শ্ববর্তী গ্রাম বা বাজার থেকে বেশ কয়েকটা মুরগি কিনে এনেছে। নিজের জন্যে। আগামীকাল সকালেই সহি ইসলামিক তরীকা অনুযায়ী যুবায়ের এগুলোকে জবাই করবে। অতঃপর পুরো সপ্তাহ ধরে তৃপ্তির সঙ্গে আহার করবে!

আমার পর্যবেক্ষণ মোতাবেক ফার্মের মুরগি ব্যতিত পৃথিবীর সকল মুক্ত মুরগিই দেখতে প্রায় একই রকমের। ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া- সব দেশের। আশ্চর্যজনকভাবে এদের আচরণ এবং ব্যক্তিত্বও অবিকল এক! আমি কতদিন কচু-ক্ষেত বাজার (বর্তমানে রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট) দেশি মুরগি কিনতে গিয়ে পাকিস্তানী নিম্নবর্ণের মুরগি কিনে ধরা খেয়েছি, তার ইয়ত্তা নেই। অপদস্ত হয়েছি। বোকা হিসেবে। অবশেষে কান মলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ব্রয়লার মুরগি ছাড়া জীবনে আর কিছুই কিনবো না! মাত্র কিছুক্ষণ পর নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যুবায়েরের মুরগিগুলো আজ প্রত্যূষে আমাদেরকে সুবহে সাদেকের আগে ডেকে তুলেছে! কি নিঃস্বার্থ এদের মানব সেবা। আর কি নিষ্ঠুর প্রতিদানকারী আমরা!

আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জাতিসংঘের সরবরাহকৃত মাছ-মাংস বর্জন করে খেজুর, আঙুর, কলা, কমলা এবং আপেলভোজী হয়ে গেছে। যাপন করছে স্বর্গের জীবন। ফলগুলোই শুধুমাত্র বৃক্ষ অথবা বৃন্তচ্যুত হওয়ার পর এবং বিশাল অ্যাটলান্টিক পাড়ি দেয়ার পরও তাদের স্বর্গীয় গুণাবলী ধরে রাখতে পেরেছে। বিশেষ করে আঙুর ফল। সবুজ এবং বেগুনী তাদের রঙ। দ্রাক্ষারসে টসটস করছে।

কলার রঙ ইতোমধ্যেই বিবর্ণ হতে হতে পশ্চিম আফ্রিকার আকরিক পাথরের ন্যায় লালচে-কাল বর্ণ ধারন করেছে! তবে স্বাদ এখনো অটুট। আর একটা খাদ্য তার সকল শুদ্ধতা বজায় রাখতে পেরেছে। মুরগির ডিম। আকৃতি, বর্ণ, আয়তন, স্বাদ - কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি। ইউনিট অধিনায়ক কর্নেল আসিফ প্রতিদিন সকালের ব্রেকফাস্টে প্রত্যেকে দুটো করে ডিম সিদ্ধ খেয়ে থাকেন। তাকে সঙ্গ দেয় এডজুটেন্ট সরকার নজরুল ইসলাম। অধিনায়কের বয়স পঞ্চাশের ওপরে! তার কর্তৃক এই স্বাধীনতার উপভোগ শুধুমাত্র বিদেশ বিভুঁইয়েই সম্ভব। যখন তাকে শাসন করার কেউই নাই! আমার ধারণা পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ডিম ভাজি অথবা ডিম পোচ খেতে পছন্দ করে! এর চেয়ে সহজ আয়োজন পৃথিবীতে আর নেই!

নজরুল ইসলাম সরকার খুবই উদ্যমী অফিসার। প্রতিদিন সকাল দুপুর এবং রাতে খাওয়ার পর সমপরিমাণে আইসক্রিম এবং মধু মিশ্রিত করে ডেজার্ট তৈরি করে খায়। অন্য কেউ এই খাবার খেলে নিশ্চিত সে মিশন থেকে প্রত্যাবর্তনের সময়ে উড়োজাহাজের দরজা দিয়ে ঢুকতেই পারতো না। কিন্তু আমাদের নজরুল ইসলাম সরকারের শরীর সোমালিয়ার নিরন্ন দুস্থ শিশুদের মতন! হাড়জিরজিরে। পৃথিবীর কোন বিবর্তনই তার শরীরকে এফেক্ট করে না !

অধিনায়কের সবচেয়ে প্রিয়জন সে। একদিন প্রত্যূষে সে অধিনায়কের অনুমতি নিয়ে এক প্লাটুন সৈনিক সমভ্যিহারে পার্শ্ববর্তী এক বাজার অথবা জেলেপাড়ায় গেল। উদ্দেশ্য সমুদ্র থেকে সদ্য ধরা মাছ কেনা। ফিরে আসার পর তার কণ্ঠে প্রবল উত্তেজনা। আমরা জানলাম যে, সে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ কিনে এনেছে!

বিশাল নীল রঙের পাত্রের ভেতরে এক ঝাঁক রূপালী ইলিশ। আমরা ভীষণ রকম অবাক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে কোন টহল ইউনিটের বাইরে গেলেই গাড়ির চারপাশ ‘বাংলা -বাংলা’ চীৎকারে মুখরিত হতে থাকে। মনে হয় ১৯৫২ সালে ছাত্রদের মিছিলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা! তাই বলে জাতীয় মাছ ইলিশও আমাদের টানে সমুদ্রের স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে কাটতে এতদূর চলে এসেছে? রান্নাকরা ইলিশ মাছ খেতে গিয়ে সবার আক্কেলগুড়ুম হওয়ার জোগাড়! এগুলো আসলে সামুদ্রিক ‘সার্ডিন (SARDINE) মাছ’! এক ধরণের সামুদ্রিক পোনা মাছ। অবিকল ইলিশ মাছের মতন দেখতে। ইলিশের কোন স্বাদ বা গন্ধ কিছুই নেই এতে।

পরদিন সকাল। সকালের মোহন আলোতে প্রতিনিয়ত আমরা সমুদ্রকে অবজ্ঞা করে ফ্রি টাউন-গড রিচের ধুলিধূসরিত রাস্তার ওপরে দৌড়াদৌড়ি করি। আজ আমি ক্যাপ্টেন হাসিবকে নিয়ে ছুটলাম জেলেপাড়ার দিকে। গডরিচ বীচের সমান্তরালে একটা মাটির রাস্তা। শহরতলীর মতন এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা পথের শেষপ্রান্তে। চারপাশের একতলা টিনের ছাঁদের ঘরগুলো অদ্ভুত রকমের সুন্দর। যুদ্ধের আগে সম্ভবত রিসোর্ট অথবা হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন স্থানীয় অধিবাসীরা নিজেদের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করছে। একটু ভেতরের দিকে একটা গির্জা। গির্জার দেয়ালে মেরীর কোলে যিশু। রিলিফ উয়ার্ক। দুজনের রঙই কালো। তাদেরকে ঘিরে আকাশের ভেতরে পরীর পাখা নিয়ে উড়তে থাকা দেবদূতদের রঙও। আমি জীবনে এই প্রথম কালো রঙের মেরী আর যীশু প্রত্যক্ষ করলাম।

আফ্রিকা সম্পর্কে আমার অন্তর্গত ভাবনা ছোটবেলা থেকেই ভিন্ন ধরণের। আন্তঃক্যাডেট কলেজ আবৃত্তি প্রতিযোগিতার জন্যে নির্বাচন করা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা। “উদভ্রান্ত সেই আদিম যুগে স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে তার নতুন সৃষ্টিকে বার বার করছিলেন বিধ্বস্ত ...”। ঠিক তখনই আমার মনে হয়েছিল ‘স্রষ্টার অসন্তোষ’ থেকে বাঁচাতে সমুদ্রই আফ্রিকাকে দূরে কোথাও রেখে এসেছে। কস্মিনকালেও আমার সেখানে যাওয়া হবে না! গডরিচ বীচের পার্শ্ববর্তী রাস্তাটা যেখানে শেষ, সেখান থেকে একটু উত্তরে দুই বাড়ির মধ্য দিয়ে একটা সরু রাস্তা। এই পথে একটু এগোতেই প্রপাত বা ছোট নদীর ওপরে একটা কাঠের সেতু।
জেলেপাড়ায় যেতে হলে এই সেতু পার হয়ে যেতে হবে। নদীটা পূর্ব দিকের পাহাড় থেকে নেমে এসেছে। উৎসটা কোথায় আমি তা জানি না। পেনিনসুলার রাস্তার ওপরের সাঁকোর নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এই কাঠের সেতুর নীচ দিয়ে সবশেষে অ্যাটলান্টিক মহাসাগরে মিলেছে। এখন ভাঁটার সময়। নদীর পানি অনেক নীচে নেমে গেছে। কর্দমাক্ত পাড়ে কয়েকটা মাছ গুইসাপের মতন বুকের উপর ভর করে চলাফেরা করছে। উভচর মাছ। আফ্রিকার এই অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। আমি মুগ্ধ। জল থেকে স্থলের দিকে আমাদের যাত্রা তাহলে এভাবেই শুরু হয়েছিল?

সেতু পেরোতেই গ্রাম ধরনের এক বিবর্ণ ক্ষুদ্র জনপদ। এটাই গডরিচ জেলেপাড়া। ১৭৯২ সালে নোভা স্কটিয়া থেকে প্রথম দলমুক্ত কালো মানুষকে ফ্রিটাউন এলাকায় পুনর্বাসিত করা হয়। কিন্তু বৈরি পরিবেশের কারণে এদের অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করে। অতঃপর ১৮০৮ সালে এলাকাটি ব্রিটিশ কলোনির অন্তর্ভুক্ত হয়।

জেলেপাড়ার সামনে উঠোনের মতন একটা বেলাভূমি। সমুদ্রের তীরে নোঙর করে আছে সারি সারি রঙবেরঙের নৌকার বহর। সবগুলোই সাগরে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত। এখানে দাঁড়ালে নিজেকে আপনা থেকেই ‘মবি ডিক’ সিনেমার ক্যাপ্টেন আহাদ অথবা নিদেনপক্ষে ‘ইসমায়েল’ বলে মনে হবে! জেলেরা সাগরের ভেতরে নৌকায় গমন করে। দুই তিন দিন মাছ ধরার পর প্রত্যাবর্তন করে। কখনো বা ক্রান্তীয় ঝড়ে আক্রান্ত হয়ে গভীর সমুদ্রে চলে যায়। সেখানেই তাদের সলিল সমাধি ঘটে। এই সৈকতের বালির ওপরে হাজারো ধরনের রঙবেরঙের কড়ি, ঝিনুক আর পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মাছ বিক্রির কাজ চলছে। ছেড়া জাল মেরামত করছে নারী বা কিশোরীরা। বারাকুডা, মকেরেল, বিশাল আকৃতির চিংড়ি, কাঁকড়া, অয়েসটার, সার্ডিন– সব ধরণের মাছই পাওয়া যায় এখানে। গৃহযুদ্ধের সময়ে রিবেলরা এই গ্রামকেও আক্রমণ করেছিল বলে জানলাম। পুড়িয়ে দিয়েছিল নৌকা এবং মাছ ধরার জাল। অঙ্গহানি করেছিলো অনেক শিশু ও যুবার। একটা ঝাঁকার ভেতর থেকে অনেকগুলো সার্ডিনকে দেখলাম বড় বড় চোখে কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দেখতে অবিকল আমাদের পদ্মার ইলিশের মতন!

আমার সঙ্গী ক্যাপ্টেন হাসিব খুবই খুশি। বিশেষ করে এই গ্রাম এবং সৈকত আবিষ্কার করে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যার, এটা তো জেলেপাড়ার ঘাট। সাগরের সৈকত নয়! আমরা নিশ্চয়ই এখানে প্রতিদিন আসতে পারব!” আমি মৃদু হেসে বললাম, “ঠিক”! সাগরপারে আসার ওপরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনো উত্তোলন করে নেয়া হয়নি! এক বিশেষ কারণে বাংলাদেশ সেক্টর হতে বাংলাদেশি সব সেনা সদস্যের জন্যে সমুদ্র বা সমুদ্রের বেলাভূমিকে আউট অফ বাউন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। অনির্দিষ্ট কালের জন্যে!

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে