Alexa খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

আবু জর গিফারী, বদলগাছী (নওগাঁ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৮ ১১ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ১৯:১৩ ১১ মার্চ ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর বদলগাছীর ‘মির্জাপুর কে.সি উচ্চ বিদ্যালয়’ ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩৮৮ ছাত্র-ছাত্রী আছে। এরমধ্যে ১৮৫ জন ছাত্র এবং ২০৩ জন ছাত্রী। শিক্ষক রয়েছেন ১১জন এবং কর্মচারী চারজন। 

একটি দ্বিতীয় তলা ভবনের মোট ঘর সংখ্যা নয়টি। এরমধ্যে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ, একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি প্রধান শিক্ষকের ঘর, একটি সহকারী শিক্ষকদের ঘর, একটি রুমের আংশিক কমন রুম এবং আংশিক লাইব্রেরি। ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় চারজন ও এসএসসি পরীক্ষায় দুইজন এবং ২০১৭ সালে জেএসসিতে দুইজন ‘এ’ প্লাস পেয়েছে। ২০১৮ সালে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ পাশ। 

কিন্তু বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষকদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। শীত মৌসুমে আবহাওয়া ভাল থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের।

কিন্তু গ্রীষ্মকালীন প্রচণ্ড রোদের তাপে গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টি এলে বাহিরে আর ক্লাস করা সম্ভব হয় না। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ এবং ইসলাম শিক্ষা ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বিষয়গুলো যখন আলাদা ভাবে পাঠদান করানোর দরকার হয় তখন আর শ্রেণিকক্ষে করানো সম্ভব হয়না। ফলে বেশির ভাগ সময় খোলা আকাশের নিচে ফাঁকা মাঠে শিক্ষকদের পাঠদান করাতে হয়। 

আবার কখনো প্রধান শিক্ষকের অফিসে ও কমনরুমেও পাঠদান করতে হয়। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০জনের বেশি হওয়ায় একই বেঞ্চে ৬-৭ জন করে করে বসতে হয়। এতে করে শিক্ষার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ছে তারা।

বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন ইংরেজি শিক্ষক এসএম আতিকুজ্জামান রাজু। তিনি বলেন, এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় এটি। এখন শীতের দিনে বাহিরে ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু গ্রীষ্মের সময় প্রচন্ড গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টি এলে বাহিরে পাঠদান করানো সম্ভব হয়না। 

দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন, জাকিয়া সুলতানা ও শ্রাবন কুমারসহ কয়েকজন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে মাঠে ক্লাস করতে হয়। শীতের সময় মাঠে ক্লাশ করা সম্ভব হলেও গরমের সময় রোদের তাপে সম্ভব হয় না। অনেক সময় বৃষ্টি আসলে আর ক্লাস করা হয় না। 

এছাড়া বিদ্যালয়টি রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় ট্রাক ও বাসের হর্ণের শব্দে ক্লাসে মনোযোগ আসে না। কিছুদিন পর আমরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাব কিন্তু পরবর্তীতে যারা আসবে তাদের যেন আর মাঠে ক্লাস করতে না হয়। এজন্য সমস্যাটি নিরসনে দ্রুত নতুন ভবনের দাবি জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে আমার অফিসেও পাঠদান করতে হয়। একদিকে যেমন পাঠদানে বিঘ্ন হচ্ছে, অপরদিকে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে। এ বিষয়গুলো স্থানীয় সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদারকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আলোর মুখ আমরা দেখতে পাইনি। 

বদলগাছীর ইউএনও মাসুম আলী বেগ বলেন, এ ব্যাপারে এমপি'র সুপারিশ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একটা দরখাস্ত দিতে জন্য বলা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস