খোঁজ নেই বিক্রমের, ইসরোর পরের লক্ষ্য ‘গগনযান’
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=133939 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৫ ১৪২৭,   ০১ সফর ১৪৪২

Beximco LPG Gas

খোঁজ নেই বিক্রমের, ইসরোর পরের লক্ষ্য ‘গগনযান’

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩২ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

১৪ দিনের সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে শনিবার। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আশাও প্রায় শেষ। আর তাই এখন ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) এর প্রধান লক্ষ্য গগনযান, এমনটাই জানালেন ইসরোর প্রধান কে শিবন।

শনিবার ইসরো প্রধান শিবন সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানান, চন্দ্রযান ২-এর অরবিটার ভালো কাজ করছে। অরবিটারে ৮টি যন্ত্র লাগানো আছে। প্রত্যেকটা যন্ত্রই ঠিকঠাক কাজ করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হইনি।

তিনি আরও জানান, আমাদের প্রথমে জানতে হবে, বিক্রমের সঙ্গে কী হয়েছে। এটাই আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে গগনযান।

এদিকে পৃথিবীর সময় আজ মাঝরাতের মধ্যে চন্দ্রযানের ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ সাড়া না দিলে, আর কোনোদিনই দেবে না। রাতের অন্ধকার নামছে চাঁদের দক্ষিণ পিঠে। বাড়ছে ঠান্ডা। যদিও ইসরো সম্প্রতি টুইট করে জানায়, হাল চাড়েনি অরবিটার। ন্যাশনাল কমিটি অব অ্যাকাডেমিক্সের বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের আশঙ্কা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রাত নেমে গেলে, বিক্রমকে আর জাগানো সম্ভব হবে না। হাড়হিম করা ঠাণ্ডায় ল্যান্ডার বিক্রমের ট্রান্সমিটার আর সাড়া নাও দিতে পারে।

শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে ২২ জুলাই উৎক্ষেপণের পরে ৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করার কথা ছিল চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রমের। ঠিকঠাক সফট ল্যান্ডিং হলে ওই দিনই ভোর রাতে বিক্রমের পেট থেকে বেরিয়ে আসত রোভার ‘প্রজ্ঞান’। 

টানা ১৪ দিন ধরে চাঁদের দক্ষিণ পিঠে ঘুরে ঘুরে নিজের কাজ করত সে। পৃথিবীর হিসেবে চাঁদের এক পক্ষকাল অর্থাৎ এই ১৪ দিনই চাঁদের দক্ষিণ পিঠে দিন। অর্থাৎ সূর্যের আলো সোজাসুজি পড়বে ওই পিঠে। এই হিসেবেই চন্দ্রযানের উৎক্ষেপণ এবং ল্যান্ডিং প্রোগ্রাম করেছিল ইসরো। 

প্রোগামে ছিলো সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করবে রোভারের সোলার প্যানেল। এই শক্তিতেই রোভারের নেভিগেশন ক্যামেরা কাজ করবে। ছবি ও ডেটা তুলে পাঠাবে পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে। অন্যদিকে সূর্যের আলোয় শক্তি পাবে বিক্রমের ট্রান্সমিটারও। তার অ্যান্টেনা সঙ্কেত পাঠাবে চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে থাকা চন্দ্রযানের অরবিটারকে।

এই সব হিসাবই গুলিয়ে যায় ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৩ মিনিটের পর থেকে। ইসরো সরাসরি না বললেও, অনেক বিজ্ঞানীরই দাবি ওই দিন অবতরণের সময় গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বিক্রম। ৩৫*১০১ কিলোমিটার কক্ষপথ ধরে সোজা চাঁদের মাটিতে নেমে আসার কথা ছিল ল্যান্ডার বিক্রমের। এই ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব পার করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামিং ল্যান্ডারের মধ্যে করে রেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। 

সোজা নামতে নামতে শেষ ৫ কিলোমিটারে মুখ ৯০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে উল্লম্বভাবে চাঁদের পিঠে নামার কথা ছিল বিক্রমের। এই পর্যায়ে গতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা যাতে উল্লম্বিকভাবে ঘুরে গিয়ে পালকের মতো চাঁদের মাটিতে নামতে পারে ল্যান্ডার। যাকে বলে সফট ল্যান্ডিং। এই ৯০ ডিগ্রি রোটেশন হয়নি। বরং ২.১ কিলোমিটার থেকে পুরোপুরি উল্টে গিয়ে সজোরে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পরে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। 

এই হার্ড ল্যান্ড বা ক্র্যাশ ল্যান্ডের কারণে বিক্রমের অ্যান্টেনা অকেজো হয়ে গেছে, যার কারণে রেডিও যোগাযোগের ক্ষমতা হারিয়েছে সে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস