খেয়ে না খেয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

খেয়ে না খেয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৭ ২০ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদে ৭ মে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ আংগুর মিয়া ও স্কুলছাত্রী মেরেনা খাতুনের সন্ধান এখনো মেলেনি। এতে অনাহারে-অর্ধাহারে বাবার জন্য অপেক্ষা করছে তিন ছেলে। পাশাপাশি ভাগনির জন্য পথ চেয়ে আছেন মামা।  

আংগুর মিয়ার স্ত্রী সামিনা বেগম বলেন, নিখোঁজের ১৩ দিন পর স্বামীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিন ছেলে খেয়ে না খেয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা করছে। এরই মধ্যে দোকানে ছয় হাজার টাকা পণ্য কিনেছি। তাই দোকানে যেতে পারি না।  ইউপি চেয়ারম্যান কিছু খাদ্য সামগ্রী দিয়েছিলেন। সেগুলো শেষ হয়েছে। রোববার এক নারী এক কেজি চাল দিয়েছেন। কিন্তু সোমবার কিভাবে চলবে আমাদের?

নিখোঁজ মেরেনার মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রতিবেশী আংগুর মিয়া ও ভাগনি নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়ার পর নদীর পাড়ে প্রতিদিন তাদের অপেক্ষা করি। ভাটি অঞ্চলের পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেই। তবে কারো সন্ধান এখনো পাইনি।

গিদারী ইপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ইদু বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় আংগুর মিয়া ও মেরেনা নিখোঁজ রয়েছেন। আংগুর মিয়ার পরিবার কষ্টে জীবনযাপন করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। বিষয়টি জেলা প্রশাসকে জানিয়েছি।

গাইবান্ধার ডিসি মো. আব্দুল মতিন বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের স্বজনদের ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজ দুই জনের খবর জানিনা। তাদের মরদেহও পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ একটি পরিবারের আর্থিক কষ্টের কথা জানালে ডিসি বলেন, দেখি চিন্তা করি, দেয়া যায় কিনা।

১৩ আগে জেলা সদরের ধুতিচোরা গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজন নিখোঁজ হন। এর মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আংগুর মিয়া পেশায় মাছ বিক্রেতা ও মেরেনা পূর্ব ধুতিচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ