Alexa খেলোয়াড়দের জন্য মনোবিদ আনছে বিসিবি

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

খেলোয়াড়দের জন্য মনোবিদ আনছে বিসিবি

 প্রকাশিত: ১১:০৮ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১১:০৮ ৩১ আগস্ট ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে সফলতার কারণে দ্রুতই জনপ্রিয়তা বাড়ছে ক্রিকেটারদের। হুট করে পাওয়া তারকা খ্যাতিই কি কাল হচ্ছে উঠতি খেলোয়াড়দের জন্য। প্রশ্নটা বড়সড় আকারে আসছে ব্যক্তিগত জীবনে তারকাদের নৈতিক বিপর্যয়ের জন্য। আর এ কারণে মনোবিদ নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গাইডলাইন তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সালের বিশ্বকাপের আগে রুবেল হোসেন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের আগে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত জীবনের নেতিবাচকভাবে শিরোনাম হয়েছে বেশ কিছু ক্রিকেটার। যার মধ্যে আছেন সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, শাহাদাত হোসেন রাজিব, আরাফাত সানি এবং মোহাম্মাদ শহিদের নাম। এর ফলে কলুষিত হয়েছে ক্রিকেট দলের সুনাম। এমতাবস্থায় ক্রিকেটারদের নৈতিকতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর কথা ভাবছে বিসিবি। এই পরিকল্পনার হিসেবে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন বা খেলার পাশাপাশি অন্যসব সামলানোর বিশেষ ট্রেনিং দেয়ার জন্য একজন মনোবিদ  নিয়োগের পরিকল্পনা আঁটছে বিসিবি।

বৃহস্পতিবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বুধবার সন্ধ্যায় পবিত্র হজব্রত পালন শেষে দেশে ফেরা পাপন বৃহস্পতিবার দুপুরেই হাজির হন হোম অব ক্রিকেটে। এসেই ঘোষণা করেন, আসন্ন এশিয়া কাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড। কথা বলেন ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক বিষয়াদি নিয়েও।

পাপন বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলার কিছু নেই। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে আমরা সর্বোচ্চ তাকে দল থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারি। এর বেশি কী করব বলেন? তবে তাদের এসব ব্যাপারে ট্রেনিং দেয়ার জন্য আমরা একজন সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ) নিয়ে আসার কথা ভাবছি। যে কিনা প্লেয়ার এসব ব্যাপারে ট্রেনিং দেবে। আমরা তো আমাদের ক্যাম্পে শুধু খেলায় জেতার ব্যাপারে ট্রেনিং করাই। এখন ওই নৈতিকতার বিষয়ে কিছু করা যায় কি না, সেটা নিয়েও কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট কমিটি এ ব্যাপারে যোগাযোগ শুরু করে দেবে।’

এ সময় বিসিবি সভাপতি জানিয়ে দেন শুধু বোর্ডের তরফ থেকে দৌড়ঝাঁপ করলেই হবে না, খেলোয়াড়দেরও নিজেদের অবস্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আর এটি শুধু মুখে মুখেই নয়, রীতিমতো নিয়ম করেই বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে বোর্ড। খেলা চলাকালীন, খেলা না থাকলে খেলোয়াড়দের জন্য গাইডলাইন তৈরি করতে যাচ্ছে বিসিবি।

বোর্ড সভাপতি বলেন, নৈতিকতার বিষয়ে খেলোয়াড়দের সাথেও বসতে হবে। তাদের জানানো হবে যে, তারা কি কি করতে পারবে, কোন বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। যেমন আজকেও একটা প্রস্তাব এল যে, যখন দল ট্যুরে থাকবে তখন খেলোয়াড়দের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে কথা হয়েছে কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা এ ব্যাপারে আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করছি। খেলোয়াড়রা কী কী করতে পারবে, কি কি করতে পারবে না- সে ব্যাপারে একটা তালিকা করে সবাইকে সই করাবো। সবকিছুর পরে ওদের নিজেদেরই ভালো হতে হবে আসলে। জোর করে তো কাউকে ভাল করানো যায় না। ওরা নিজেরা ভাল না হলে আমাদের কিছু করা নেই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।

নৈতিকতার বিষয় নিয়ে দলের পঞ্চপাণ্ডব বা পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা যায় না। কিন্তু উঠতি বয়সের তরুণ খেলোয়াড়রা সাফল্য পাওয়া মাত্রই প্রশ্ন উঠতে থাকে। এখন দেখার বিষয় মনোবিদ নিয়োগ দেয়ার পর খেলোয়াড়দের মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসে কি না ?

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ