খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত নড়াইলের গাছিরা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত নড়াইলের গাছিরা

 প্রকাশিত: ১৪:১৩ ১০ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৪:১৩ ১০ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নড়াইলে শীতের আগমনী বার্তা পৌঁছে গেছে  কয়েক সপ্তাহ আগেই। এরইমধ্যে খেঁজুরগাছ থেকে মধুরস সংগ্রহ শুরু হয়েছে গ্রামে গ্রামে। শীতে ঐহিত্যের প্রতীক হিসেবে খেঁজুর রস ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রসের পাশাপাশি নড়াইলের হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে খেঁজুর গুড়ের পাটালি। গুড়ের গন্ধে ভরপুর হাটবাজারগুলো। এ রস ও গুড় দিয়ে পাড়া-মহল্লায় তৈরি হচ্ছে নানা প্রকার পিঠাপায়েস।

লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামের গাছি জামাল শেখ জানান, এ বছর ৮০টি খেজুর গাছ তুলেছেন (রস উপযোগী)। কোনো গাছে রস আসতে শুরু করেছে, আবার কোনো গাছে বুথি (গাছ তোলার দ্বিতীয় পর্ব) টেনে নলি দেয়ার অপেক্ষায় আছেন।

তিনি আরো জানান, খেজুর গাছ থেকে সপ্তাহে সাধারণত একবার রস বের করা হয়। গাছের অবস্থা বুঝে (গাছ শক্ত হলে) সপ্তাহে পরপর দু’দিনও রস বের করেন গাছিরা। আর নভেম্বরে মাঝামাঝি থেকে ৪ মাস পর্যন্ত  খেজুর রস সংগ্রহ করা যায়।

সদর উপজেলার চারিখাদা গ্রামের হালিম মোল্যা বলেন, কোনো প্রকার ভেজাল ছাড়াই আমরা বাড়িতে গুড় তৈরি করি। প্রতিকেজি পাটালি গুড়ের মূল্য রাখা হয় ১৫০-২০০ টাকা। আর এক ঠিলা (ভাড়) রস বিক্রি করি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে।

উড়ানী গ্রামের রাজ্জাক মোল্যা জানান, খেজুর রস ও শুকনো নারকেল (ঝুনা) একসঙ্গে জ্বালিয়ে ‘নারকেল পাটালি’ তৈরি করা হয়। এই নারকেল পাটালি স্বাদে অতুলনীয়। প্রতিকেজির দাম ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।

ছিয়ারন বেগম বলেন, রস দিয়ে পাটালি, নারকেলপাটালি, জমাটবাধা গুড় ও পাতলা গুড় তৈরি করি। এসব গুড় বাড়ি থেকেই কিনে নেন ক্রেতারা। অনেক সময় বাজারেও বিক্রি করা হয়। প্রায় দুই ভাড় রস দিয়ে এক কেজি গুড় তৈরি করা যায়।

কালিয়ার রগুনাথপুর গ্রামের গাছি শওকত শেখ ও বাসার বিশ্বাস জানান, জ্বালানির অভাব এবং কাঁচা রসের চাহিদা থাকায় গুড়ের চেয়ে রস বিক্রি করা লাভ বেশি। তাই রস বিক্রি করেন তারা।

লোহাগড়ার ঈশানগাতী গ্রামের আবেদা সুলতানা ও নড়াইল পৌর এলাকার মহিষখোলা এলাকার রুমা খাতুন জানান, খেজুর রস ও গুড় দিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে রসচিতই, পুলি, ভাপা, হাতসেমাই পিঠা এবং পায়েস তৈরি হচ্ছে। দুধভাতের সঙ্গেও অনেকে গুড় খেয়ে থাকেন। রসের বেশি প্রয়োজন হয় রসচিতই ও পায়েস তৈরিতে। এছাড়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ শীতের সকালে খেজুর রসের স্বাদ নিচ্ছেন।

তবে অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসের আশংকায় কাচা রস পানের ক্ষেত্রে সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, ‘এ জেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে। রস ও গুড় গাছিদের জন্য লাভজনক। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সড়কসহ জমিতে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/

Best Electronics