Alexa খুলে দেয়া হলো দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১২ ১৪২৬,   ০১ রজব ১৪৪১

Akash

খুলে দেয়া হলো দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু

 প্রকাশিত: ১৭:৫৫ ২৭ এপ্রিল ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই খুলে দেয়া হয়েছে কাকিনা-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। লালমনিরহাট জেলার চারটি উপজেলাসহ বৃহত্তর রংপুরের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এ সেতু।

জানা গেছে, দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর কাজ শেষ হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।  শেষ হয়েছে সংযোগ সড়কের কাজও। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির উদ্বোধন করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুইটি মাস।

গেল বন্যায় সাময়িক সময়ের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে নৌকায় করে নদী পারাপার করছিলেন এ পথের যাত্রীরা। পরে আর সেতু দিয়ে চলাচল উন্মুক্ত করা হয়নি।  

লালমনিরহাট এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য। ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থ্য। ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল একনেকে তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতুর নির্মাণে ১২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেতুটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় লালমনিরহাট এলজিইডি। নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন। প্রথমে সেতুটির নির্মাণ সময় ছিল দুই বছর চার মাস। কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে এ বছরের জানুয়ারি শেষ হয় নির্মাণ কাজ। সেতুটি লালমনিরহাট এলজিইডিকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে সেতু চালু হওয়ায় লালমনিরহাট জেলার এলজিইডি থেকে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারকে সেতুর গেইট খুলে দেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলতি মাসের ১৬ এপ্রিল চিঠি দেয়া হয়। চিঠি দেয়ার পরও সেতু দিয়ে চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন ও মানুষ অবাধে চলাচল করছে। এ সুযোগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা।  যাতায়াতে বাড়তি টাকা নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তরবাংলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এএসএম মনাওয়ারুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকাসহ রংপুরে যাতায়াতের জন্য এ সেতুটি স্থানীয় জনগণের একদিকে যেমন সময় বাঁচাবে, তেমনি হবে অর্থ সাশ্রয়।  বর্তমানে এ সেতু দিয়ে চলাচলে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে সেতুটি দ্রুত খুলে দেয়ার আহ্বান জানান।

স্থানীয় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী ডেইলি বাংলাদেশকে জানান প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা সেতুটি উদ্বোধনের আগেই এটি খুলে দেয়া ঠিক হয়নি।

লালমনিরহাট-২ আসনের সাংসদ নুরুজ্জামান আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে আসলে জানা যাবে। কবে নাগাদ সেতুটি চালু হবে। তবে যারা সেতুর গেট খুলে দিয়েছে তাদের বিরোধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম