খুলনায় ৮ হেভিওয়েট প্রার্থীর কার সম্পদ কত?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২১ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৫ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

খুলনায় ৮ হেভিওয়েট প্রার্থীর কার সম্পদ কত?

খুলনা প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:০৭ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৪৯ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘটিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ততই বাড়ছে। এতে পিছিয়ে নেই খুলনার ভোটাররা।

খুলনায় অর্ধ শতাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে আটজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। যাদেরকে নিয়ে আগ্রহ বেশি ভোটারদের। রোববার হলফনামা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক ফুটবলার এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদীর হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক, পেশা গার্মেন্ট। ব্যাংক ও হাসপাতালের পরিচালক। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বার্ষিক আয় ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ১৬ লাখ টাকা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বেতন-ভাতা দুই কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং শেয়ার থেকে আয় তিন কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ব্যাংক ঋণ ৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

খুলনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলের হলফনামায় তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ৪০৫ টাকা। তার ঋণের পরিমাণ ২৯ কোটি টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি, পেশা ব্যবসা, তার বিরোদ্ধে কোনো মামলা নেই।

খুলনা-৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বাংলায় বিএ সম্মান উত্তীর্ণ। হলফনামায় গৃহ সম্পত্তি, মৎস্য চাষ ও পারিতোষিক ভাতাকে আয় হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। এসব খাত থেকে বছরে আয় ১৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ নগদ ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৯ টাকা, ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি, ৪০ তোলা স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদ পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দশমিক ৪৯ একর কৃষি জমি, ১৩ একর অকৃষি জমি ও তিনতলা একটি ভবন রয়েছে।

খুলনা-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের হলফনামায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ পাস। কৃষি, ইটভাটার ব্যবসা, এমপি ও মন্ত্রিত্বকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কৃষি খাত থেকে ৮০ হাজার ৫০০ টাকা, ইটভাটা থেকে আট লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও মন্ত্রী হিসেবে পারিতোষিক ভাতা ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা পান। তার ব্যাংক ঋণ রয়েছে এক কোটি ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, আইনে স্নাতক পাস। তার বিরুদ্ধে নাশকতার চারটি মামলা বিচারাধীন। তিনটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। পেশা ব্যবসা। বর্তমানে ব্যবসা বন্ধ থাকায় বাড়ি ভাড়াই একমাত্র আয়ের উৎস। বাড়ি ভাড়া থেকে দুই লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে এক লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন তিনি। এ ছাড়া আইন পেশা থেকে তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৬০ টাকা।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ রকিবুল ইসলাম বকুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ। আমদানি, রফতানি ও সরবরাহকারী পেশায় যুক্ত তিনি। এ থেকে বছরে আয় চার লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক আমানত থেকে ১২ হাজার ২৯৪ টাকা পান তিনি। তার নগদ ১২ লাখ ৮২ হাজার টাকা, ব্যাংকে তিন লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের বিপরীতে মার্জিন ঋণ রয়েছে ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকার।

খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামালের হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমকম পাস। মার্কেট অ্যাকসেস প্রোভাইডার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া আরও দুটি কোম্পানির পরিচালক তিনি।

হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, তিনিই বিএনপির একমাত্র নেতা যিনি গত ১০ বছরে কোনো মামলার আসামি হননি। কোম্পানির পরিচালক হিসেবে মাসিক ভাতা ও শেয়ার মিলিয়ে বছরে তার আয় ১৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রতি মাসে আয় ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। আয় ও সম্পদের দিক থেকে শাহ কামাল তাজই বিএনপির সবচেয়ে ধনী প্রার্থী। তার ব্যাংক ঋণ ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৪৮ টাকা।

খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুল বারী হেলালের হলফনামায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতক উত্তীর্ণ। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১০১টি মামলা রয়েছে। তিনটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা, ঠিকাদারি, সরবরাহকারী উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাত থেকে বছরে আয় ১২ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

Best Electronics