Alexa খুলনার হত্যা মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

খুলনার হত্যা মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি

 প্রকাশিত: ১৭:২২ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:২২ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

খুলনার কয়রা উপজেলার জায়গীরমহল গ্রামের একটি মাছের খামারে পিকআপ চালক সেলিম শেখকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন সোহেল।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ আগষ্ট খুলনার নতুন বাজার থেকে কয়রা উপজেলার জায়গীরমহল গ্রামে একটি মাছের খামারে পিকআপে করে মাছের খাবার পৌছে দিতে যায় পিকআপ চালক সেলিম শেখ। ওই পিকআপের মালিক ইসমাইল হোসেন জালুর বড় ভাই আবুল কালাম শিকদার কালু পিকআপে ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল খামারে দ্রুত বস্তা নামিয়ে দিয়ে সাতক্ষিরা থেকে গরু নিয়ে ফিরবেন। এ অবস্থায় ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ওই খামারে পৌছালে শ্রমিক না থাকার অজুহাতে প্রায় চার ঘন্টা তাদের দাঁড় করিয়ে রাখেন ম্যানেজার দিপংকর ও শরাফত। পরে কিছু খাবার নামিয়ে আবারও বিরতি দেওয়া হয়। এ সময় চালক সেলিম শেখ বাকি বস্তাগুলো খামারের সামনে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে সাতক্ষিরার উদ্দেশ্যে রওনা হতে চাইলে ম্যানেজার দিপংকর ও শরাফতের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা সেলিম শেখকে পিকআপ থেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ওই মাছ খামারের মালিক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আমীর আলী গাইনের ছেলে হাবিবুল্লাহ বাহার ও ইউপি সদস্য বিশ্বজিতকে ডেকে আনা হয় এবং পিকআপে থাকা আবুল কালাম শিকদারকে আটকে রাখা হয়। এ অবস্থায় অসুস্থ সেলিম শেখ পিকআপ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে আসতে চাইলে একটি বাই সাইকেল দিয়ে তার গতি রোধ করা হয় এবং তাকে গাড়ী থেকে নামিয়ে আবারও মারপিট করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে সে নিহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধারসহ আটক কালাম শিকদারকে উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সেলিম শেখ নিহত হওয়ার পর একটি মোবাইল থেকে পিকআপের মালিক ইসমাইল হোসেনকে হুমকি দেয়া হয়। তাকে জানানো হয় পিকআপ চালক সেলিম উত্তেজিত হয়ে হার্ট স্ট্রোকে মারা গেছে। এটি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা হলে তার ভাই কালাম শিকদারকে মেরে ফেলা হবে বলে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সেলিম শেখের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়,এ ঘটনায় কয়রা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। ঘটনার এতদিন পার হলেও পুলিশ এখনও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে কয়রা থানার ওসি তারক বিশ্বাস বলেন, নিহত সেলিমের পরিবারের সদস্যদের আসার জন্য আমরা রূপসা থানাকে ম্যাসেজ দিয়েছি। বার বার ম্যাসেজ দেওয়া সত্ত্বেও বাদী থানায় আসছে না। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত মনিরুজ্জামান মনিকে আমরা গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর