খুন্তির বদলে তার হাতে আজ স্টিয়ারিং

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৬ ১৪২৬,   ০৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

খুন্তির বদলে তার হাতে আজ স্টিয়ারিং

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৮ ৮ মার্চ ২০২০  

ছবি: প্রতিমা ও তার স্বামী শিবেশ্বর পোদ্দার

ছবি: প্রতিমা ও তার স্বামী শিবেশ্বর পোদ্দার

নারীর হাতে কি সবসময় খুন্তিই থাকে! মোটেও না, নারী এখন নিজ হাতে স্টিয়ারিংও ধরতে পারে! ঘরে বাইরে সমান পারদর্শী আজকের নারীরা। তারা অনন্যা। তারই এক সফল উদাহরণ হলেন প্রতিমা পোদ্দার।

পিচঢালা রাজপথে নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং চেপে চালকে আসনে বসে আছেন প্রতীমা। যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেয়াই এখন প্রতিমার রোজকার গুরুদায়িত্ব। বাড়ির বাকিরা যখন রাঁধেন-বাড়েন, প্রতিমা তখন বাস চালান। কলকাতা মহানগরীর একমাত্র নারী বাসচালক। অসুস্থ স্বামীর দায়িত্ব এভাবেই নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন এই সাহসী নারী। 

প্রতিমার স্বামী শিবেশ্বর পোদ্দার নিজেও ছিলেন বাসচালক। এক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাস চালানোর কাজে ইতি টানতে হয়। এদিকে যৌথ পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেয়াটাই কষ্টকর হয়ে ওঠে প্রতিমা ও তার স্বামীর পক্ষে। ঘরে দুটি ছোট কন্যা সন্তান রয়েছে তাদের। তাদের পড়াশোনার পথও তো বন্ধ হয়ে যাবে। তখন প্রতিমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো উপক্রম হলো।

প্রতিমা পোদ্দারবাধ্য হয়ে নিজেই নেমে পড়লেন রাস্তায়। তবে কীভাবে রোজগার করবেন? এরপর স্বামীর অনুমতি ও উৎসাহের কারণেই গাড়ি চালানো শিখলেন। প্রথম দিকে তিনি সল্টলেকে অ্যাম্বুল্যান্স চালাতেন। অতঃপর তার আগ্রহ জাগে বাসক চালক হওয়ার। তার মতে বাস চালানোই বেশি সহজ। 

এছাড়াও বাড়ির কাছাকাছি বাস স্ট্যান্ড হওয়ায় তার বেশ সুবিধা হলো। এছাড়াও তার স্বামীর পরামর্শে সে বাস চালক হিসেবেই নিজ পেশাটি বেছে নিলেন। বর্তমানে তার বয়স ৩০ এর কোঠায়। নিমতা-হাওড়ার মিনিবাসে চালকের আসনে উঠে বসেছেন সোজা। মহানগরীর ড্রাইভার দিদি নামেই পরিচিত প্রতিমা। 

খেুব ভোরে বাসে উঠে বসেন তিনি।  অন্তত পাঁচ ঘণ্টা বাস চালিয়ে এরপর ঘরে এসে আবার ঘরকন্নার কাজ শেষ করতে হয় তাকে। মেয়েদের যাবতীয় দায়িত্বও এক হাতে সামলান প্রতিমা। এরপর আবার বাসে ফেরা। অতঃপর রাত পর্যন্ত বাসের স্টিয়ারিংয়ে হাত দিয়েই সময় চলে যায় তার। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, দুর্ঘটনার পর সুস্থ হয়ে এখন প্রতিমার স্বামী তার বাসেরই কন্ডাক্টর।

মহানগরীর ড্রাইভার দিদিমাঝে মাঝে স্ত্রীর কষ্ট লাঘব করতে নিজেও একটু বাস চালিয়ে নেন। আর স্বামীকে পাশে পেয়ে প্রতিমারও ভরসা বাড়ে। তবে ১৪ বছরের বাস-সফরের দিনগুলোর সবটুকুই এমন সরলরেখায় চলেনি। যৌথ পরিবারের সদস্য একেকজনের ভিন্ন মন্তব্য ছিল। যদিও সেসব নানা ধরনের কটূক্তি। প্রতিবেশীরাও নানা মন্তব্য ছুড়েছে নির্দ্বিধায়। বহু যাত্রীও চালকের আসনে তাকে দেখে বাসে উঠতে চাননি। এসব বিষয়গুলো মাথায় নিলে অবশ্য প্রতিমা আজ সফল এক নারী হতে পারতেন না। 

তার উপার্জনেই আজ প্রতিমা স্বামী ও দুই কন্যাকে নিয়ে সুখে জীবন কাটাচ্ছে। তার কন্যারাও বড় হয়েছে। একজন দশম শ্রেণির ছাত্রী অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। প্রতিমা এখন অন্যের কাছে অনুকরণীয়। একজন গৃহিণী থেকে বাস চালক হয়ে দৃষ্টান্ত গড়েছেন এই ড্রাইভার দিদি। তার ঝুলি ভর্তি এখন নানা স্বীকৃতি ও সম্মাননা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস