.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ১শ’ দিন, দমন-নিপীড়ন চলছেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১২:৪৪ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫৪ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক ও মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের একশ’ দিন পার হল। কিন্তু সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটিতে এখনো ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর দমন-নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও দেশটির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রেখে চলেছেন সৌদ আল-কাহতানি।

সৌদ আল-কাহতানি হলেন ক্রাউন প্রিন্সের জ্যেষ্ঠ সহকারী ও মিডিয়া উপদেষ্টা। খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ‘সিআইএ’ এর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কাহতানি খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সব আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
 
খাশোগি হত্যকাণ্ডের পর সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের স্বভাব ও আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার আচার-আচরণ থেকে এটা মোটেও পরিলক্ষিত হয় না যে, তিনি এ ঘটনা থেকে কোনো ইতিবাচক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

এদিকে, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জোরালো প্রতিক্রিয়া আশা করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। তারা খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বলছেন, এক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের লোকেরা কোনো কাজ না করলে কংগ্রেস ভূমিকা নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল কমপ্লেক্সের একটি অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের এক ডজনের বেশি আইনপ্রণেতা গত বছর বিশ্বজুড়ে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক নিহত এবং মুক্ত সাংবাদিকতা নিয়ে কথা বলেন তারা।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন থেকে কোনো জোরালো প্রতিক্রিয়া না আসায় নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

তারা বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বাক-স্বাধীনতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর স্থান দেয়া উচিত নয়।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, আমরা যে বিবৃতি দেব ও ব্যবস্থা নেব, তাতে যদি বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিই, তবে আমাদের বুঝতে হবে আমরা নৈতিক কর্তৃত্ব হারিয়েছি।

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে মার্কিন সহায়তা বন্ধে সিনেটের প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে অগ্রাহ্য করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সায় দিয়েছিলেন রিপাবলিকানরাও। এতে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানকেও দায়ী করা হয়।

গেল বছরের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তানবুলে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে বিয়ের কাগজপত্র আনতে গিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। প্রথমে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তা স্বীকারে বাধ্য হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/এসআইএস