ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

খালেদার মামলার রায়, কী হবে রাজনীতিতে?

যাহিন ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১৪:২৩ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ০২:৫৬ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া

রাজনীতির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবারই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে আজকের পটভূমিতে অতীতে কখনোই এমন হয়নি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

বিএনপির দাবি, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, মামলায় তাদের কোনো হাত নেই। আইনের স্বাভাবিক নিয়মেই মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে তাদের কোনো দায়ও নেই।

মামলার রায়কে ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এসেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে। যদি মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হয়, তাহলে ব্যাপক আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন বিএনপি। দলের কোনো কোনো নেতার মতে, বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলায় ‘নেতিবাচক’ কোনো রায় হলে তার পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ’।

কি হবে সে রায়? মূলত এ প্রশ্নের ওপরই নির্ভর করছে সব কিছু। এরইমধ্যে ঢাকার পুরানো কারাগারে নারী ও শিশুসেল ধোঁয়ামোছার খবর বেরিয়েছে গণমাধ্যমে।

গত কয়েকদিনে দলীয় নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। মতামত নিয়েছেন তৃণমূল নেতাদেরও। সাফ বার্তা পাঠিয়েছেন তাদের।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলীয় নেতাদের কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দলীয় প্রধানের সাজা হলেও এখনই যে বিএনপি হার্ডলাইনে যাচ্ছে না সে বার্তাও মোটামুটি স্পষ্ট। যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রেখে দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে চান খালেদা জিয়া। আর সে পর্যন্ত দলের শক্তি ধরে রাখতে চান বিএনপি প্রধান।

বৃহস্পতিবার বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি কী হবে তা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। অন্যদিকে রাজপথ দখলে রাখতে সব রকমের প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে ক্ষমতাসীন দল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। ঢাকায় কোথাও বিএনপিকে কোন ধরণের সহিংস কোন কিছু করবার সুযোগ দেয়া হবেনা।  ঢাকার বাইরের চিত্র অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কাল মাঠের চিত্র যাই হোক, রাজনীতি যে ফের এক অনিশ্চিত পথে যাত্রা করছে তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত।

রায় যদি বিরুদ্ধে যায় তবে খালেদা জিয়া কি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন? নানান জনের নানান মত। আইনবিদদের অনেকেই মনে করছেন, আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। কারো কারো মতে, নিম্ন আদালতে সাজা হলেই নির্বাচনে অযোগ্য হবেন খালেদা। আবার কারো মতে নিম্ন আদালতের সাজার রায় হাইকোর্টে স্থগিত হলেই কেবল তিনি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।

সে যাই হোক, ২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর। আগামী দিনে নানা নাটকীয়তা যে অপেক্ষা করছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যদিও নিরুত্তাপ রাজনীতিতে উত্তেজনা একটু তাড়াতাড়িই তৈরি হয়েছে।

আগেভাগেই হয়তো বিএনপির শক্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। শক্তি পরীক্ষা আর শক্তি সঞ্চয়ের তত্ত্ব রাজনীতিতে আলোচিত হচ্ছে। যদিও সঞ্চিত শক্তি শেষ পর্যন্ত অনেক সময় কাজে লাগে না। আগামী নির্বাচনের চালচিত্র কেমন হবে?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদা ইতোমধ্যে বলেছেন, বিএনপি ছাড়া নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বলা যাবে না। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কয়দিন আগে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যেতে চেষ্টা করছে। আর রিজভীর কথা হচ্ছে, সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। কার কথা সত্য কে জানে।

জনগণের এসব দৃশ্য দেখা ছাড়া হয়তো আর কিছুই করার নেই। একসময়ে একদিনের বাদশাহ, এখন তাও নেই। বাড়তি সাবধানতা, সিটবেল্ট বেঁধে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিইবা করার আছে জনগণের।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআই/টিআরএইচ