.ঢাকা, বুধবার   ২০ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৫ ১৪২৫,   ১৩ রজব ১৪৪০

খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটার উপকারিতা

ফাতিমাতুজ্জোহরা

 প্রকাশিত: ২০:১৮ ১ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:১৮ ১ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজকাল খালি পায়ে ঘাসের ওপর বা শিশিরের ওপর দিয়ে হাটা সম্ভব হয়ে উঠে না। কর্মব্যস্ত জীবনে কেউই ঘাসের ওপর শখ করে হাঁটে না। 

কিন্তু খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে হাটার অনেক উপকারিতা রয়েছে। সে সম্পর্কে জেনে নিন-

খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটার উপকারিতা: 

শরীরে যদি প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যায় তবে কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সঙ্গে আমাদের ক্যান্সারে আক্রন্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকি হৃদ রোগের ঝুঁকি থাকে। আপনি যদি খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে হাটেন তবে মাটি থেকে ইলেকট্রন নামে একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করবে। যা শরীরের প্রদাহের মাত্রা বেশি বাড়তে দিবে না। তাই এ ধরণের ঝুঁকির হাত থেকে অনায়েসেই মুক্ত থাকবেন। এ কারণে খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে হাটা খুবই প্রয়োজন। 

আপনি যদি খালি ঘাসের ওপর দিয়ে হাটেন তবে পায়ের স্নায়ুগুলো সক্রিয় হতে শুরু করে। ফলে রক্তচাপ কমে যায়। পায়ের নিচের স্নায়ুগুলোর সক্রিয়তার জন্য প্রতিদিনই কিছু সময় ঘাসের ওপর হাটা উচিত। আপনার যদি হাঁটতে অসুবিধে হয়, তবে ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও এ উপকার পাবেন। 

পায়ের নিচের প্রচুর নার্ভ থাকে। আপনি যখন হাঁটতে শুরু করেন তখন এ নার্ভগুলো সক্রিয় হয়ে উঠবে। যা শরীরে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বিভিন্ন রকম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরে অনায়েসেই বেড়ে যায়। এ কারণে নানান ধরণের রোগ থেকে খুব সহজে মুক্তি পেতে পারেন। 
হাঁটলে পায়ের নিচের সেলগুলো অনেক সক্রিয় হয়ে যায়। ফলে রক্ত ঘন হওয়া বা জমাট বাঁধার কোনো আসঙ্কা থাকে না। তাই হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়। হার্ট ভালো রাখতে হাঁটা খুবই জরুরী।

আপনি যদি নিয়মিত খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে পারেন তবে আপনার শরীর থেকে নেতিবাচক শক্তি বেরিয়ে যাবে। এতে আপনার মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে মস্তিষ্কে এক ধরণের হরমোন ক্ষরণ বেড়ে যায়। যার জন্য রাতে ঘুম ভালো হবে। তাই ভালো ঘুমের জন্য অন্তত কিছু সময় খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে সকালে হাটা খুবই জরুরি।

আমাদের পায়ের নিচে অনেক প্রেশার পয়েন্ট থাকে। যদি আপনি প্রতিদিন খালি পায়ে হাটতে পারেন। তবে প্রেশার পয়েন্টগুলো অনেকটা সক্রিয় হয়ে যাবে। এতে মস্তিষ্কও অনেক বেশি সক্রিয় হবে।  এবং খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটলে মানবিক অনুভুতির শক্তিও অনেক বেড়ে যাবে।

খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলো অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। ফলে বুদ্ধি বা স্মৃতিশক্তিও অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই খালি পায়ে মাটির ওপর বা ঘাসের ওপর দিয়ে হাটা জরুরী। আগেকার দিনের মানুষের খুব কম স্মৃতিভ্রম হত। এখন অল্প বয়সেই স্মৃতিভ্রম হয়ে থাকে। কারণ আমরা মাটির স্পর্স পাই না। তাই সময় পেলেই ঘাসে ওপর দিয়ে একটু হাঁটতে হবে।

খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের নিচের প্রেশার পয়েন্টগুলোতে চাপ পড়ে। আর এ প্রেশার পয়েন্টের সঙ্গে চোখের সংযোগ রয়েছে। তাই প্রেশার পয়েন্টে চাপ যত বেশি পড়বে ততই চোখ ভালো থাকবে। চোখ ভালো রাখার জন্য সকাল বেলা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটা খুবই জরুরি।

আপনি হাঁটাতে না চাইলে বা কোনো কারণ হাঁটতে না পারলে সকাল বেলা ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন। তবেও অনেক উপকার পাবেন। আর সম্ভব হলে রোজ সকালে খালি পায়ে মাটিতে বা ঘাসের ওপর দিয়ে হাটতে হবে। তবে সুস্থ, স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারবেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে