খাজনা আদায়ের নামে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কৃষকদের ফেলা হয় গঙ্গায়!

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

খাজনা আদায়ের নামে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কৃষকদের ফেলা হয় গঙ্গায়!

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৭ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলার ইতিহাসে তিনি এক অত্যাচারী রাজা। রাজস্ব আদায়ে তার ছিল সুনিপুণ দক্ষতা। প্রজার প্রাণ নিয়ে হলেও খাজনা তিনি আদায় করেই ছাড়তেন।  

তার অত্যাচারে প্রাণ গিয়েছে শত শত প্রজার। খাজনা আদায়ের নামে তিনি প্রজাদের হাত পা বেঁধে বেধরক পিটিয়েও ক্ষান্ত হননি। ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করে লাশগুলো ফেলেছেন গঙ্গায়। তার কারণে গরিব কৃষকরা হারিয়েছে মা-বোনকে, স্বামী তার স্ত্রীকে, সন্তান তার বাবাকে, মা তার সন্তানকে।  

অত্যাচারী রাজার পরিচয়

কুখ্যাত এই রাজার নাম দেবী সিংহ রায় বাহাদুর। সুঠাম দেহের অধিকারী কৃষ্ঞকায় এই রাজাকে প্রজারা মহিষাশুর বলেই জানত। যার প্রাণে ছিল না দয়া মায়া। সুদূর পানিপথ থেকে মুর্শিদাবাদে এসেছিলেন দেবী সিংহ। মুর্শিদাবাদ তখন ব্যবসার জন্য মোক্ষম জায়গা। দেবী সিংহ ছিলেন ব্যবসায়ী। ব্যবসার জন্যই তিনি মুর্শিদাবাদে এসেছিলেন। তবে চাইলেই তো আর ব্যবসা জমে না। সেজন্য চাই তদবীর! দেবী সিংহ তাই তদবীরের পথ ধরলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খাঁর রাজস্ব-দফতরের এক প্রাক্তন কর্মচারী রেজা খাঁর হাতে পায়ে ধরলেন। মোটা টাকা ঘুষ খেয়ে পূর্ণিয়ার জেলার রাজস্ব আদায় এবং শাসনভারের দায়িত্ব রেজা খাঁ অর্পণ করেন দেবী সিংহের উপরে। 

এভাবেই দিন কাটছিল তার। এই কয়েক মাসের মধ্যেই ইংরেজ চরিত্র সম্বন্ধে দেবীর বেশ ভালো একটা ধারণা গড়ে উঠেছে। তিনি নর্থ ক্লাইভের সুনজরে পড়েছিলেন। কারণ তিনি রাজস্ব বিভাগের কাজ বেশ ভালোই জানতেন। দেবী সিংহ ইংরেজ কোম্পানির রাজস্ব বিভাগের একজন প্রধান বনে যান। ওয়ারেন হেস্টিংসের সময়ই তার ভাগ্য খুলে যায়। তিনি ও তার ভাই বাহাদুর সিংহ সুবাহ বাংলা ও বিহারের কয়েকটি পরগনার জমিদারি লাভ করেন। 

রাজা দেবী সিংহ১৭৭৩ সালে প্রাদেশিক কাউন্সিল গঠিত হলে কাউন্সিল সেক্রেটারি হিসেবে নিযুক্ত হন দেবী সিংহ রায় বাহাদুর। পরে তাকে বাংলার রাজস্ব বিভাগের দেওয়ান হিসেবে মনোনীত করা হয়। দেবী সিংহের উৎপীড়নে রাজস্ব আদায় বেড়ে যায়। এদিকে ইংরেজ কোম্পানিও খুশি। তাইতো আরো কয়েকটি পরগনার ভার ন্যস্ত করা হয় দেবী সিংহের উপর। শুধু প্রজাদের উপরই নয় রংপুর থেকে রাজস্ব আদায়কালে সেখানকার ছোট রাজাদের উপরও অমানবিক অত্যাচার করে দেবী সিংহের বাহিনী।

এ দেশে বাস করলেও এদেশের মানুষকে কখনো সুনজরে দেখেনি ইংরেজরা। নিজ স্বার্থ ও কোম্পানির অর্থ উপার্জন নিয়ে সেসময় ব্যস্ত ছিলেন ইংরেজ কর্তারা। হেস্টিংসের সময়ই পাঁচ বছরের ইজারা আইনের বাস্তবায়ন ঘটে। পুরনো জমিদারদের স্থানে আসে নতুন সব ইজারাদার। ইংরেজরা যেমন শুধু তাদের টাকার কথা ভাবত ঠিক তেমনি ইজারাদারাও পাঁচ বছরের সময়কাল গণণায় ব্যস্ত ছিল। এই সময়কালের মধ্যেই যে রাজস্ব আদায় করতে হবে প্রজাদের কাছে! আর এসময় থেকেই শুরু হয় প্রজাদের উপর পাশবিক অত্যাচার। দেবী সিংহ তার বাড়িতে বহু সুন্দরী নারীকে রাখতেন। অল্প বয়সী যেসব ইংরেজ কর্মচারীদের মনোরঞ্জনের জন্য তাদেরকে ব্যবহার করা হত।

দেবী সিংহের অত্যাচারের নমুনা

খাজনা আদায়ের নামে নিরীহ প্রজাদের উপর করা হত নির্যাতন। তাদের হাত পা বেধে শুন্যে ঝুলিয়ে বেলের ডাল দিয়ে বেধরক পিটিয়ে বেহুঁশ করা হতো। তারপরও খাজনা আদায় করতে পারলে অত্যাচারী রাজা দেবী সিংহের হুকুমে তার লোকেরা প্রজাদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করতেন। যার সাক্ষ্য আজো বয়ে বেড়াচ্ছে নসীপুর রাজবাড়ি। সেখানকার একটি ঘরেই প্রজাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হত। এখনো সেখানকার মেঝে যেন সে গল্পই বলে দেয়। সেখানকার গাইডের দেয়া তথ্যানুসারে, যে ঘরে প্রজাদের উপর অত্যাচার করা হত সেখানেই ছিলো একটি কুয়া। ফাঁসি দেয়ার পর সেই কুয়াতেই ফেলে দেয়া হতো লাশগুলো। কুয়ার অপর প্রান্ত ছিল গঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত। তাই লাশগুলো কুয়ায় ফেললে চলে যেত গঙ্গায়।

ইজারা গ্রহণ করার পরে শুধুমাত্র প্রজাদের উপরই অত্যাচার শুরু করলেন না দেবী সিংহ। অন্যান্য জমিদার এবং ভূস্বামীদের উপরেও অবিশ্বাস্য রকমের কর বসালেন তিনি। এই কর এমনই অবিশ্বাস্য যে, কারো পক্ষে তা দেয়া সম্ভব নয়। ফসল বিক্রি করে তো দূরের কথা, ঘর-বাড়ি বিক্রি করেও করের টাকা যোগানো সম্ভব ছিল না। কর আসছিল না বলে শুরু হয় জমিদারদের উপরও অত্যাচার। জমিদাররা জমি হারালো। আর সেই জমি  নামমাত্র মূল্যে কিনে রাখতে লাগলেন দেবী সিংহ। এমনকি ‘লাখেরাজ’ (করবিহীন জমি এগুলো) জমিও বাজেয়াপ্ত করা হলো। কর আদায়ের জন্য জমিদারদের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য করা হলো। সেই সময় রংপুর ও দিনাজপুরে অনেক নারী জমিদার ছিলেন। তাদের জমিদারি তো বিক্রি হলোই, সঙ্গে তাদের গহনাপত্রও বাদ গেলো না।

নসীপুর প্রাসাদেই চলেছে কৃষকদের উপর নির্যাতননিরীহ চাষীদের উপর দেবী সিংহের অত্যাচার ভয়াবহ আকারে পৌঁছালো। দেবী সিংহ এবং তাদের লোকেরা চাষীদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তাদের পথের ভিখারিতে পরিণত করলো। চাষীরা প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম থেকে পালিয়ে গিয়ে বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নিতে থাকলো। তাদের না পেয়ে তাদের ঘরবাড়ি সব তছনছ করা হলো, জ্বালিয়ে দেয়া হলো।  শত কষ্ট স্বীকার করেও যারা এতো দিন আশ্রয় ত্যাগ করে নি।  তারাও এখন বাধ্য হয়ে বন্য পশুর মত বনে জঙ্গলে বসবাস করতে লাগলো। পিতা বিক্রি করলো পুত্রকে, স্বামী বিসর্জন দিলো স্ত্রীকে, ভাই হারালো ভাইকে। দেবী সিংহের নৃশংস অত্যাচারে সমগ্র উত্তরবঙ্গ হাহাকারময় এক জনপদে পরিণত হয়। এ যেন এক মহাশ্মশান। চারিদিকে শুধু মৃত্যুর গন্ধ, চারিপাশে  শুধু ধ্বংসস্তুপ, আর অরাজকতায় ছাওয়া অন্ধকার। 
 
নিখিলনাথ রায় ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনি’-তে দেবী সিংহের অত্যাচারের ফলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তার করুণ বিবরণ লিখেছেন এভাবে- ‘যদি কেহ অত্যাচারের বিভীষিকাময়ী মূর্ত্তি দেখিতে ইচ্ছা করেন, যদি কেহ মানবপ্রকৃতির মধ্যে শয়তানবৃত্তির পাপ অভিনয় দেখিতে চাহেন, তাহা হইলে একবার দেবীসিংহের বিবরণ অনুশীলন করিবেন। দেখিবেন, সেই ভীষণ অত্যাচারে কত কত জনপদ অরণ্যে পরিণত হইয়াছে। কত কত দরিদ্র প্রজা অন্নাভাবে জীবন বিসর্জ্জন  দিয়াছে। কত কত জমীদার ভিখারীরও অধম হইয়া দিন কাটাইয়াছে। কুলললনার পবিত্রতাহরণ, ব্রাহ্মণের জাতিনাশ, মানীর অপমান, এই সকল পৈশাচিক কাণ্ডের শত শত দৃষ্টান্ত ছত্রে ছত্রে দেখিতে পাইবেন। দেবী সিংহের নাম শুনিলে, আজিও উত্তরবঙ্গ প্রদেশের অধিবাসিগণ শিহরিয়া উঠে!’

দেবী সিংহের নসীপুর রাজবাড়ি

লালবাগ এলাকার কাঠগোলা প্রাসাদের কাছেই রয়েছে দেবী সিংহের প্রাসাদ। এই এলাকার নাম নসীপুর। তাই এই প্রাসাদের নামও নসীপুর প্রাসাদ। দেবী সিংহ এ প্রাসাদ নির্মাণ করেন ১৭৭৬ সালে। এরপর রাজা কীর্তি চন্দ্র সিংহ বর্তমান এই রাজবাড়ি পুনঃনির্মাণ করেন ১৮৩৬ সালে। তিনি দেবী সিংহেরই উত্তর পুরুষ। এ প্রাসাদে রয়েছে প্রাচীন গ্রন্থাগার, আর্ট গ্যালারি, মোগল যুগের ভাস্কর্য, মার্বেলের জাফরি বা জাল, অষ্টধাতু, কষ্টিপাথর ও শ্বেতপাথরের মূর্তি, টেস্টিং জার ও রাজপ্রাসাদের বিভিন্ন ব্যবহার্য দ্রব্য। 

এছাড়াও এই প্রাসাদে হিন্দুদের অনেক দেব-দেবীর প্রতিমা স্থাপন করা হয়। রয়েছে ঠাকুরবাড়ি। এই ঠাকুরবাড়িতে পারিবারিক দেবতা রামচন্দ্র দেব ঠাকুর অবস্থান করেন। এর অন্যতম আকর্ষণ হলো বিশালাকার চওড়া সিঁড়ি। প্রতিবছর এখানে ঝুলন উৎসব হয়। মূল সড়কের পাশেই প্রাসাদটি অবস্থিত। প্রাসাদে ওঠার সিঁড়ির দুই পাশে দুই সিংহ-মূর্তি। সিড়ির সামনেই রয়েছে চার স্তর বিশিষ্ট একটি পানির ফোয়ারা। দুইতলা বিশিষ্ট এ প্রাসাদের মাঝখানে রয়েছে প্রশস্ত খালি জায়গা ও চারপাশে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি। এখানে দেবী সিংহের উত্তরপুরুষদের পেইন্টিং রয়েছে। 

রাজবাড়ির ভেতরের অংশপ্রজা বিদ্রোহ

রংপুর ও দিনাজপুরের মানুষও দেবী সিংহের নির্মম অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করলো না। এমনিতেই তারা পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল বনে-জঙ্গলে। এবার সংগঠিত হলো তারা। আর মার খাওয়া নয়, বিনা প্রতিবাদে মরে যাওয়া নয়, এবার রুখে দাঁড়াতে হবে। এই দৃপ্ত চেতনা নিয়ে দলবদ্ধ হলো তারা। কৃষকদের মধ্যে যে ক্রোধ দিন দিন ধরে জমা হচ্ছিল তা ১৭৮২ সালের শেষ দিকে তা পুঞ্জীভূত আকার ধারণ করলো। উত্তর বঙ্গের কৃষককূল নিজেদের অনিবার্য ধ্বংস থেকে আত্মরক্ষার শেষ উপায় হিসাবে ইংরেজ বণিকরাজের শাসন ও নিষ্ঠুর শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা উড়ালো। 

কৃষকরা সবাই নুরুলউদ্দিন (নূরলদীন) নামে এক ব্যক্তিকে তাদের পরিচালক নির্বাচিত করে তাকে নবাব বলে ঘোষণা করলো। নুরুলউদ্দিন বাংলার এ কৃষকদের বিদ্রোহ পরিচালনার ভার নিয়ে এক প্রবীণ কৃষককে তার দেওয়ান নিযুক্ত করলেন। এরপরই পরগনায় পরগনায় শুরু হয় বিদ্রোহীদের অভিযান। ১৭৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে সমগ্র রংপুর পরগনায় বিদ্রোহ আরম্ভ হয়। বিদ্রোহী কৃষকরা রংপুরের সমস্ত এলাকা থেকে দেবী সিংহের কর সংগ্রহকারী কর্মচারীদের বিতাড়িত করে। শুধু বিতাড়িতই নয়, বহু কর্মচারী এদের হাতে মারাও যায়।

প্রজা বিদ্রোহ দেখে টনক নড়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তাদের। দেবী সিংহের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করা শুরু করল ইংরেজরা। এমনকি নসীপুর রাজবাড়িও তদন্ত করা হলো। তবে অতি চালাক দেবী সিংহের বিরুদ্ধে তদন্ত করেও কোনো প্রমাণই মিললো না। ইংরেজরা তাকে খালাস দিয়ে মহারাজা খেতাবে ভূষিত করলেন। প্রহসনের রায়ে দেবী সিংহ নির্দোষ প্রমাণিত হলেন ঠিকই, তবে প্রজা বিক্ষোভ এবং অসন্তোষের কারণে তার পক্ষে আর ফিরে আসা সম্ভবপর হলো না।  

প্রথমত, তার আশ্রয়দাতা হেস্টিংস সাহেব দেশে ফিরে গেলেন। গভর্নর জেনারেল হয়ে এলেন লর্ড কর্নওয়ালিশ। সুতরাং হেস্টিংসের পক্ষে দেবী সিংহকে আর কোনো সরকারী কার্যে নিযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ত, টাকা খেয়ে বিচারকমণ্ডলী দেবী সিংহকে নির্দোষ প্রমাণ করলেও তার প্রতি কর্তৃপক্ষের আস্থা আদৌ ছিল না। তবুও দেবী সিংহ চেষ্টা করেছিলেন লর্ড কর্নওয়ালিশকে ভজনা করতে। সুবিধা না হওয়ায় মুর্শিদাবাদে তার বিরাট জমিদারীতে ফেরত গেলেন। এতকাল ধরে লুণ্ঠনের মাধ্যমে যে টাকা পয়সা রোজগার করেছিলেন। সেগুলো দিয়ে বিপুল পরিমাণে ভূসম্পত্তি কিনে মুর্শদাবাদের নসীপুর রাজ-পরিবার প্রতিষ্ঠা করেন।

নুরুলউদ্দিন ও প্রজা বিদ্রোহরংপুর বিদ্রোহের অবসান ঘটলো এখানেই। বিদ্রোহের অবসান হলেও শোষণমুক্ত তারা হতে পারেনি। দেবী সিংহের অপসারণের পর লর্ড কর্নওয়ালিশ রাজস্ব আদায়ের  জন্য ইজারা প্রথা বন্ধ করেন এবং ১৭৯০ সালে উত্তর বঙ্গ ও বিহারের  জমিদারগোষ্ঠীর  সঙ্গে দশশালা বন্দোবস্ত করেন। এই দশশালা বন্দোবস্ত অবাধ শোষণ-উৎপীড়নের আর একটা নতুন দরজা খুলে দিলো। 

নসীপুর রাজবাড়ির বর্তমান অবস্থা 

সংস্কারের অভাবে ২৫০ বছরের নসীপুর রাজবাড়ির প্রায় জরাজীর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অতঃপর লালবাগ এলাকার কয়েকজন মিলে এর সংস্কার করে প্রাসাদের ভোর পাল্টে ফেলেছে। রাজা দেবী সিংহের বংশের বর্তমান প্রজন্মের প্রৌঢ় সদস্য সৌরেন্দ্রমোহন সিংহ বলেন, মন্দির, নাটমন্দির, রাজবাড়ি মিলে মোট আয়তন প্রায় ২০ বিঘা। সেখানে ৭০টি ঘর সম্বলিত অন্দরমহল ছিল। তবে জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক অনটনে সংস্কার করা যায়নি। তার ফলে ওই বিশাল অন্দরমহল আজ অবলুপ্ত। তিনি বলেন, ওই পরিণতি থেকে অবশিষ্ট রাজপ্রসাদ ও মন্দির বাঁচাতে নসীপুরের কিছু ব্যক্তি সম্পত্তির শতকরা ৮০ ভাগ ৬০ বছর লিজে দিয়েছেন। 

বাকি ২০ ভাগ রাজবাড়ি সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণ করার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। সেই সঙ্গে পর্যটকদের উদ্দেশ্যে রাজবাড়ি ও মন্দির খুলে দেয়া হয়। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে স্থায়ী আর্ট গ্যালারি করার জন্য বিনাভাড়ায় পঞ্চাননবাবুকে দু’টি ঘর দেয়া হয়েছে। সরকারি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ‘নবাব বাহাদুর ইন্সটিটিউশনে’র অবসরপ্রাপ্ত ‘ড্রইং’ শিক্ষক পঞ্চাননবাবু বলেন, চক, মাটি, অ্যলুমিনিয়ামে তার ও টুকরো, কাগজের মণ্ডের তৈরি বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী ছাড়া গ্যালিরিতে রয়েছে প্যাস্টেল, অয়েল পেন্টিং ও স্কেচের প্রায় ৫০টি চিত্রকর্ম। আর্ট গ্যালারি করায় প্রচুর দর্শক সেগুলো দেখছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস