Alexa খাওয়ার জন্য নাকি বাঁচার জন্য খাদ্য?

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

খাওয়ার জন্য নাকি বাঁচার জন্য খাদ্য?

জুনায়েদ হোসেন

 প্রকাশিত: ১২:৫৫ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৫৫ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যদি জিজ্ঞেস করা হয় খাওয়ার জন্য বাঁচি নাকি বাঁচার জন্য খাই? তাহলে আপনি স্বাভাবিকভাবেই জবাব দিবেন বাঁচার জন্য! কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা খাওয়ার জন্যই বাঁচে।তাদের অবশ্যই জেনে নেয়া উচিত আমরা কী খাচ্ছি ? আর যা খাওয়া হচ্ছে তা শরীরের জন্য কতটুকু উপকারী বা ক্ষতিকর।পুষ্টিবিদদের মতে, “বর্তমানে খাদ্যের স্বাদ ও বিশুদ্ধতা অনেকটা হারিয়েই গিয়েছে।তার ওপরে রয়েছে নানা রকম প্রক্রিয়াজাত, ভেজাল মিশ্রিত ও রাসায়নিক উপায়ে সংরক্ষিত খাদ্য যা কোনোভাবেই খাঁটি ও বিশুদ্ধ খাবারের সমকক্ষ হতে পারে না। দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা খাদ্যও যে ক্ষতিকর তাও হয়ত আমরা অনেকে জানি না।অথচ সুস্থ জীবকোষের জন্য বিশুদ্ধ রক্ত দরকার যা হতে হবে সম্পূর্ণ নির্ভেজাল।খাদ্যের অপর একটি গুণগত উপাদান হচ্ছে আঁশ  যা অন্ত্র পরিস্কার রাখে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।আপনি হয়তো জানলে অবাক হবেন, ময়দা একটি প্রক্রিয়াজাত মৃত খাদ্য যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও ক্যান্সারের সহায়ক। এ রকম আরেকটি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য হচ্ছে চিনি, যা অনেক মারাত্মক রোগের কারণ।একইসঙ্গে এটি রক্তের ঘনত্ব বাড়ায় এবং হাড় ক্ষয় করে। সুতরাং ময়দা ও চিনির তৈরি খাদ্য পুরোপুরি বর্জন করাই শ্রেয়।কিন্তু ভোজন রসিক বাঙালীদের মিষ্টি জাতীয় খাবার অত্যন্ত প্রিয় এবং ডায়েটিং মানে হলো আটার রুটি খাওয়া।আসুন জেনে নেই কীভাবে রুটিন মাফিক খাদ্য গ্রহণ করা উচিত-

প্রতিদিনের খাদ্যের শতকরা ৪০ ভাগ শ্বেতসার, ১৫ ভাগ আমিষ এবং ৪৫ ভাগ শাক-সবজি ও ফল দিয়ে দেহের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হবে। মনে রাখবেন, শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য যথা ভাত, রুটি, আলু ইত্যাদির খাওয়ার পর পরই ফল জাতীয় খাবার খাবেন না। অন্তত আধা ঘন্টা পার্থক্য রেখে খাবেন। শ্বেতসারের সঙ্গে আমিষ জাতীয় খাদ্য যথা মাছ, মাংস, ডিম খাওয়াও ভাল নয়। সবজি হচ্ছে একমাত্র খাদ্য যা আমিষ কিংবা শ্বেতসার উভয়ের সঙ্গেই খাওয়া যায়। এসব শুনে আপনি অবাক হলেও আপনার শরীরের জন্য সর্ব উত্তম পন্থা এটি। দিনে কমপক্ষে ২৫০ গ্রাম সবজি খান। সকাল শুরু করতে হবে বেশ খানিকটা কাঁচা পেঁপে ও ফল খেয়ে।এতে যকৃৎ ভাল থাকবে।সঙ্গে গম, ছোলা, মুগ, শিম বীচি প্রভৃতি এবং আটা ও যবের তৈরি খাদ্য নাস্তা হিসেবে ভাল। শাক, শিম ও কপি রাতের বেলায় পেটে বায়ু তৈরি করে বলে এগুলো দিনে খাওয়া উচিৎ।সেই সঙ্গে তেল, লবণ ও মশলা নামমাত্র পরিমাণে ব্যবহার করবেন।

রোগ নিরাময়ে খাদ্য এর পুষ্টি

আমিষের উৎস হিসেবে ডাল চমৎকার। বিশেষ করে মুগ, মসুর ও মাসকলাই। তাছাড়া ছোলার ডাল ও অঙ্কুরিত ছোলা সব বয়সের মানবদেহে আমিষের ঘাটতি পূরণ করে এবং বহুমূত্ৰের জন্য খুবই উপকারি।প্রাণীজ আমিষের জন্য মাছ, মুরগীর মাংস ও ডিমের শ্বেতাংশ ভাল। লাল মাংস অর্থাৎ গরু-খাসির মাংস উপাদেয় হলেও ক্ষতিকর চর্বি থাকায় তা অনেক ভয়াবহ রোগের উৎস হতে পারে।তাই নিয়ম মাফিক পরিমিত পরিমাণে মাংস খাওয়া উচিত।সকালে মুখ ধোয়ার আগে কমপক্ষে ৬০০ গ্রাম পানি পান করুন।তার ৪৫ মিনিট পর সকালের নাস্তা করুন।দিনে ৫ থেকে ৬ লিটার পানি পান করুন যা আপানার দেহের যেকোনো অঙ্গের জন্য উপকারি। স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে দুধ চিনি ছাড়া হালকা চা ভাল।ডাবের পানিও অত্যন্ত উপকারি। তবে দিনে সকাল বিকাল দু’টির বেশি নয়।গ্রীষ্মকালে লেবুর জলে মধু বা অল্প গুঁড় মিশিয়ে পান করুন এবং বাজারে পাওয়া যায় এবং যেকোনো প্রকার কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকুন।

খাওয়ার পরিমাণ এবং সময় গুরুত্বপূর্ণ কখনো পেট পুরে খাবেন না। প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া উচিত অর্থাৎ রুটিনমাফিক সকাল, দুপুর এবং রাত্র একই সময় খাওয়া উচিত। বিকেল থেকে হজম শক্তি কমতে থাকে রোগ প্রতিরোধক।দৈনিক কিছু পরিমাণ টক দই এবং সকালে পানি মিশিয়ে তৈর করে ছেঁকে নেয়া এক গ্লাস আখের রস পান করুন এতে শরীর সতেজ থাকে। একইভাবে পান করা ভাল কাঁচা পেপে, গাজর ও লাউয়ের মতো সবজির রস। বেল কেটে প্রথমে রোদে শুকিয়ে তারপর ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে পানিসহ নিয়মিত খেলে পেটের অনেক পুরোনো অসুখ, যেমন অজীর্ণ ও আমাশয় সেরে যায়।কলমি শাক ত্বক ভাল রাখে ও ঘা সারায়।কচু শাক রক্ত তৈরি ও পরিষ্কার করে।থানকুনি পাতা পেট, চোখ ও চুল ভাল রাখে। পুদিনা পাতা ফুসফুস, হদপিণ্ড ও পেট ভাল রাখে। আদা বাত ও মাথাব্যথা কমায় এবং হজম শক্তি বাড়ায়। কালজিরাকে প্রাচীন কাল থেকেই বলা হয় হাজার রোগের ওষুধ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস