Alexa কয়লা উধাওয়ে কর্মকর্তাদের অবহেলা প্রমাণিত: সংসদীয় কমিটি

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

কয়লা উধাওয়ে কর্মকর্তাদের অবহেলা প্রমাণিত: সংসদীয় কমিটি

 প্রকাশিত: ২৩:২৩ ৩০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২৩:২৮ ৩০ আগস্ট ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় চুরির বিষয়টি প্রমাণ না হলেও কর্মকর্তাদের অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে মনে করছে সংসদীয় কমিটি।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ আতিউর রহমান আতিক, শিবলী সাদিক এবং নাসিমা ফেরদৌসী অংশ নেন।

কমিটির মতে, কয়লা চুরির বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ হলেও কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। তাদের অবহেলার কারণে কয়লা মজুতের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য এসেছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছে কমিটি।

কয়লা মজুতে ‘সিস্টেম লস’হয়ে থাকলে সেটা আগে থেকে উল্লেখ করা হয়নি কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি। কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় চলমান তদন্তের প্রতিবেদন আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিতে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

কয়লা না পাওয়ায় গত জুলাই মাসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়লা উধাও হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা দিয়েই পাশের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলত।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ইতোমধ্যে বলেছেন, অনেক দিন ধরেই কয়লা নিয়ে দুর্নীতি চলছিল।

কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই খনির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।

প্রাথমিক তদন্তে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে মামলার ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বুধবার দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের পর কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহম্মদ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, কয়লা গায়েব হয়নি; যেটা পাওয়া যাচ্ছে না সেটা সিস্টেম লস।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে বিষয়টি, সেটা যদি ধরেও নিই, তারপরেও হিসেবে সেটা লেখা হয়নি কেন? সাবেক এমডি হিসেবে এর দায় তাকে (হাবিব উদ্দিন) নিতে হবে।

তিনি বলেন, সিস্টেম লসের বিষয়টি যদি মজুদের হিসাবে লেখা থাকত, তাহলে বিভ্রান্তির সুযোগ থাকত না। আর তদন্তে তসরুফ প্রমাণ হলে আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তাজুল। 

কোল মাইনিং কোম্পানির করা মামলার অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

তৎকালীন এমডি হাবিব, কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) এ কে এম খালেদুল ইসলামসহ খনির ব্যবস্থাপনায় জড়িত অন্যরা কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িত বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নূর-উজ-জামান ও খালেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পেট্রোবাংলা। হাবিবকে ঢাকায় সরিয়ে আনার পাশাপাশি কাশেম প্রধানিয়াকে সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খনিতে কয়লা উৎপাদনের পর উন্মুক্ত স্থানে মজুদ রাখায় গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে কয়লায় আগুন ধরে যাওয়া, আগুন পানিতে নিভানো, ঝড়ো হাওয়ায় কয়লা উড়ে যাওয়া- ইত্যাদি কারণে প্রতি বছর কিছু ক্ষতি হয়। কিন্তু ওই হিসাব বছরভিত্তিক কয়লার মোট হিসাবের সময় সমন্বয় করা হয়নি।

২০০৫ সাল থেকে ওইসব কারণে কয়লার কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা, হলে তার পরিমাণ কত- এসব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পেট্রোবাংলার কারিগরি কমিটি করার কথাও জানানো হয় বৈঠকে।

বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়, কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কয়লা মজুদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার জন্য কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

কয়লা হরিলুটে আরো ৯ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ