ক্ষুদে শিক্ষার্থী দিয়েই চলছে বিদ্যালয়

ঢাকা, রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২২ ১৪২৭,   ২২ রজব ১৪৪২

ক্ষুদে শিক্ষার্থী দিয়েই চলছে বিদ্যালয়

ফসল পাটোয়ারী, বরগুনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩০ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বরগুনার তালতলী উপজেলার কাজিরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক দিয়েই চলে সব শ্রেণির শিক্ষাকার্যক্রম। তাই দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস নিচ্ছে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিদ্যালয়। ২০১৫ সালে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এখানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৪৯ জন। সব কিছু থাকলেও পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন মাত্র একজন। তার নাম ইদ্রিসুর রহমান ইদ্রিস। তবে তিনিও নিয়মিত আসেন না।

বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুল দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছে। এরপর তাকে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস নিতে হবে। এদিকে এ প্রতিবেদকের উপস্থিতি জানতে পেরে ঘুম থেকে ওঠে বিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষক ইদ্রিস।

শিক্ষক সংকট এ বিদ্যালয়ের একটি মারাত্মক সমস্যা। উপজেলা সদর থেকে তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় হওয়ায় কোনো শিক্ষকই বেশি দিন থাকেন না। এ কারণে শিশুদের পড়াশোনা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় অভিভাবকদের।

পঞ্চম শ্রেণির রুবেল, সাথী, স্বপ্না, মুক্তা, বেল্ললসহ শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক ইদ্রিস যখন এক ক্লাসে পড়ান তখন অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরা বসে থাকতে হয়। তিনি প্রতিদিন সব বই পড়াতে পারেন না।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিনের মা পারুল বেগম বলেন, স্কুলে শিক্ষক নেই। তাই মেয়ের পড়াশোনাও তেমন হচ্ছে না। অন্য স্কুল দূরে হওয়ায় সেখানে দেয়া সম্ভব না। দেড় বছর ধরে শুনছি নতুন শিক্ষক আসবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক আসেনি।

এফএম কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক আব্দুল আলিম হিমু বলেন, শিক্ষার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক। এ সময় ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে না পারলে মাধ্যমিকে এর প্রভাব পড়ে। তাই অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যায়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ানো ছাড়াও সব ধরনের দাফতরিক কাজ করতে হয়। একার পক্ষে মানসম্মত শিক্ষ দেয়া সম্ভব না। অনেক সময় অসুস্থতা নিয়েও আসতে হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমএম মিজানুর বলেন, প্রাথমিক সহকারী নতুন শিক্ষক নিয়োগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে বিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর