ক্রোনস ডিজিজ: যে রোগের কোনো নিরাময় নেই! জানুন এর লক্ষণগুলো 

ঢাকা, সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ক্রোনস ডিজিজ: যে রোগের কোনো নিরাময় নেই! জানুন এর লক্ষণগুলো 

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১০ ১৩ মে ২০২০  

ক্রোনস ডিজিজ

ক্রোনস ডিজিজ

মানবদেহ নানান রোগের বাসা। প্রতিনিয়ত আমাদের দেহে এমনসব রোগ এসে বাসা বাঁধে যার প্রতিকার করা মাঝেমধ্যে কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেকেই আবার কঠিন রোগে ভুগে মারাও যায়। তবে সব অসুখের নিরাময় হলেও কিছু কিছু রোগ আছে যেগুলোর কোনো নিরাময় নেই! এর মধ্যে ক্রোনস ডিজিজ একটি।

আমাদের অন্ত্রের একরকম সমস্যাকে ক্রোনস ডিজিজ বলে। এটি মূলত ইনফ্ল্যামেটরি বাউল ডিজিজ নামেই বেশি পরিচিত। এক্ষেত্রে হজম করার পথে প্রদাহ তৈরি হয় এবং সেটা পেটব্যথা, ডায়রিয়া, অবসাদ এবং ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই প্রদাহ হজমপ্রক্রিয়ার যে কোনো অংশেই দেখা দিতে পারে। অনেকসময় পেটের টিস্যুতেও এটি বড় রকমের নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে। সামান্য পেটব্যথা থেকে জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে এই সমস্যাটির কারণে। 

ক্রোনস ডিজিজের কোনো নিরাময় নেই। তবে থেরাপি নেয়ার মাধ্যমে কিছুটা হলেও সামলে রাখা যায় এটি। এক্ষেত্রে সবচাইতে ভালো উপায় হচ্ছে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা। পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিলে সমস্যাটি কমিয়ে ফেলা সম্ভব। 

এখন পর্যন্ত চিকিৎসকেরা যে শুধু এই রোগের কোনো সমাধান বের করতে পারেননি তা নয়। তারা এই রোগের মূল কারণ কী, কেন এটি হয় তা নিয়েও পুরোটা নিশ্চিত নন। চিকিৎসকেরদের মতানুসারে যে সম্ভাব্য কারণে বা কারণের মিশ্রণে ক্রোনস ডিজিজ হয়ে থাকে সেগুলো হলো-

> শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কম থাকা

> পরিবেশগত সমস্যা 

> জীনগত সমস্যা

অনেকসময় এই ব্যাপারগুলোর মিশ্রণেও এই রোগ দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ 

ক্রোনস ডিজিজের ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো সাধারণত দেখা দেয় সেগুলো হলো-

> ডায়রিয়া

> মলে রক্ত যাওয়া

> জ্বর

> অবসাদ

> পেটব্যথা

> ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং ওজন কমে যাওয়া

> চোখ, ত্বক ও হাড়ের সংযোগস্থলে প্রদাহ তৈরি হওয়া

> যকৃততে সংক্রমণ তৈরি হওয়া ইত্যাদি

ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

ক্রোনস ডিজিনের ঝুঁকি কমানোর জন্য যে কাজগুলো করতে পারেন সেগুলো হলো-

শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলুন

আমাদের শরীরে বাইরে থেকে প্রবেশ করা নানারকম জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে। বাইরে থেকে কোনো জীবাণু অনুপ্রবেশ করলে সেক্ষেত্রে আমাদের শরীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ক্রোনস ডিজিজ প্রদাহের কারণে হয় বিধায় এক্ষেত্রেও এই রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতার ঘাটতির প্রভাব দেখা যায়। চেষ্টা করুন শরীরের এই রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলার। 

নির্দিষ্ট বয়সে পরীক্ষা করা

সাধারণত, এই সমস্যা যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে কম বয়সে ক্রোনস ডিজিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকায় আপনার বয়স ৩০ হওয়ার আগেই নিয়মিত পরীক্ষা করুন। এতে করে খুব সহজেই প্রাথমিক অবস্থাতে ক্রোনস ডিজিন চিহ্নিত করে সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। 

ফ্যামিলি হিস্ট্রিকে গুরুত্ব দিন

আপনার পরিবারে যদি এর আগে কারো ক্রোনস ডিজিজ থেকে থাকে তাহলে আপনি কোনো ঝুঁকি না রেখেই নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করুন। কারণ, অন্য যে কারো চাইতে আপনার এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া আপনি যদি ইউরোপিয়ান এবং সাদা চামড়ার মানুষ হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রেও এ ব্যাপারে অন্যদের চাইতে একটু বেশি সতর্ক থাকুন।

ধূমপান থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান থেকে দূরে থেকে আপনি ক্রোনস ডিজিজ থেকে খুব সহজেই দূরে থাকতে পারবেন। তাই চেষ্টা করুন এই অভ্যাস পরিত্যাগ করার এবং সুস্থ থাকার।

চারপাশের পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখুন

গবেষণায় দেখা যায় যে, শিল্পকারখানা আছে এমন পরিবেশে বাস করলে ক্রোনস ডিজিজের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চেষ্টা করুন স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার। আর যদি কারখানাযুক্ত স্থানেও বাস করেন, সেক্ষেত্রে একটু বেশি সচেতন থাকুন এই ব্যাপারে। 

ক্রোনস ডিজিজ যেমন প্রাথমিক অবস্থায় খুব একটা ভয়াবহ কোনো ব্যাপার নয়, তেমনি এটি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে মৃত্যুর কারণও হয়ে পরতে পারে। তাই চেষ্টা করুন আগে থেকেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই সুস্থতা নিশ্চিত করার। 

সূত্র: ওয়েবএমডি, মায়োক্লিনিক

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ