Alexa ক্রিকেটাররা গরম আবহাওয়ায়ও কীভাবে রোদ মাথায় মাঠে খেলে?

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

ক্রিকেটাররা গরম আবহাওয়ায়ও কীভাবে রোদ মাথায় মাঠে খেলে?

সালমান আহসান   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৮ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে মানুষের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে সঙ্গে মৃত্যুও হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কিছু পরিবর্তন ও অভিযোজন দরকার হয় মানুষের। সেই সঙ্গে আচরণগত প্রতিক্রিয়াও প্রভাব ফেলে অনেকখানি। তাহলে দেখা যাক, প্রচণ্ড গরমে আমরা নিজেদের প্রথমে কীভাবে রক্ষা করি?

আর দশটা স্তন্যপায়ী প্রাণীর মত মানুষও শরীরের তাপমাত্রা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে বজায় রাখতে পারে (সাপ বা শীতল রক্তের প্রাণীদের এই ক্ষমতা নেই বলে তাপমাত্রা পাল্টালে তাদের হাইবারনেশনে যেতে হয়)। তাহলে এই কাজটা মানুষ করে কীভাবে? মূলত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কাজটা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অবস্থিত থার্মোস্ট্যাট, ত্বক ও পেশীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা থার্মোসেন্সর আর সংকেত বহনকারী অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম মিলেমিশে সম্পন্ন করে। 

পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেলে ত্বকের থার্মোসেন্সর সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর স্নায়ুরুজ্জু বেয়ে সেই খবর পৌঁছায় হাইপোথ্যালামাসে। ওখানকার থার্মোরেটরগুলো কোষে নির্দেশ পাঠায়, হৃদযন্ত্র তখন বেশি বেশি রক্ত পাঠাতে থাকে ত্বকের দিকে। একইসঙ্গে অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম উজ্জীবিত করে তোলে ঘর্মগ্রন্থিগুলোকে। প্রচুর ঘামের মাধ্যমে ত্বক বাড়তি তাপমাত্রা হারায়। ফলে শরীর ঠান্ডা হয়।

বাড়তি তাপমাত্রা ঘামের মাধ্যমে এভাবে বাষ্পীভূত করে বের করে দেয়ার পদ্ধতিকে বলে ইভাপোরেশন বা বাষ্পীভবন। এটা ছাড়া ত্বকের তাপ বের করে দেয়ার আরো পদ্ধতি আছে। যেমন-রেডিয়েশন(বিকিরণ), কন্ডাকশন(পরিবহন) আর কনভেকশন(পরিচলন)। তবে ইভাপোরেশনটাই আসল। এই ইভাপোরেশনের মাত্রা নির্ভর করে মস্তিষ্ক, ঘর্মগ্রন্থি, ত্বক ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতার ওপর, আর পরিবেশের আর্দ্রতার ওপরও। 

বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ইভাপোরেশন কমে যায়, ফলে গরম একেবারে অসহ্য হয়ে ওঠে। শরীরের তাপনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কিন্তু আরেকটি জিনিস দ্বারা প্রভাবিত হয়। তা হল এই আবহাওয়ায় মানুষের অভ্যস্ততা বা মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিষয়টাকে বলা হয় অ্যাক্লিমাটাইজেশন। গরম দেশের মানুষ যত সহজে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় মানিয়ে নিতে পারে, শীতল দেশের মানুষ ততটা পারে না। 

একইভাবে একজন ক্রিকেটার গরম আবহাওয়ায়ও সারাদিন রোদে মাঠে খেলে যেতে অভ্যস্ত, যা অন্য কারো পক্ষে প্রায় অসম্ভব। একজন অনভ্যস্ত ব্যক্তি ঘণ্টায় এক লিটার ঘামের মাধ্যমে মোটে ৫৮০ কিলোক্যালরি তাপ ছেড়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, অভ্যস্ত ব্যক্তি ঘণ্টায় দুই থেকে তিন লিটার ঘাম তৈরি করতে পারে আর তাপ ছাড়তে পারে প্রায় এক হাজার ৭৪০ কিলোক্যালরি। 

চরম উষ্ণ আবহাওয়ায় মোটামুটি ৭ থেকে ১০ দিন ক্রমাগত থাকলে মানুষের এই অভ্যস্ততা তৈরি হতে থাকে বা মানুষটি অ্যাক্লিমাটাইজড হতে থাকে। এক মাসের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে অ্যাক্লিমাটাইজড হওয়া সম্ভব। এখন দেখা যাক চরম তাপমাত্রায় আমাদের শরীরে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে। গরম কড়াইয়ে একটি ডিম ছেড়ে দিলে কী হবে? 

এর সাদা অংশ অর্থাৎ প্রোটিন জমে যাবে বা এর গঠনগত পরিবর্তন হবে। খুব গরমে আমাদের দেহের প্রোটিনগুলো, বিশেষ করে কোষের দেয়ালে থাকা প্রোটিনগুলোতেও এ ধরনের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ফলে তৈরি হতে শুরু করে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক-ইন্টারলিউকিন, সাইটোকাইন, হিটশক প্রোটিন। শেষ অবধি সেগুলো কোষ ধ্বংসের খেলায় মেতে ওঠে। 

এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে, রক্তেও শুরু হয়ে যায় প্রদাহ, যেমনটা খারাপ সংক্রমণ হলে দেখা যায়। একে বলে সিস্টেমিক ইনফ্লামেটরি রেসপন্স সিনড্রোম। এর যথাযথ চিকিৎসা না হলে পরিণাম হলো মাল্টি অর্গান ফেইলিওর ও মৃত্যু। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী সম্পূর্ণ সিস্টেমের কোনোখানে গলদ থাকলেই ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। 

অনেক বেশি বা অনেক কম বয়স, অত্যধিক ওজন, স্নায়ু, ত্বক, রক্তনালী বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা, কিছু ওষুধ যা শরীরকে পানিশূন্য করে এবং পরিবেশে মাত্রাতিরিক্ত আর্দ্রতা এ ধরনের বিপদে ঠেলে দিতে পারে কাউকে। বিপদের প্রথম দিকে যা হয় তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলে হিট এক্সোশন, তারপর হিটস্ট্রোক। হিটস্ট্রোক হলে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি।

ত্বক লালচে, গরম, শুষ্ক মনে হয়, আক্রান্ত ব্যক্তি ভুল বকতে শুরু করে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে, হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে পড়ে, এমনকি হতে পারে খিঁচুনি। ভয়ানক গরম আবহাওয়ায় বাইরে রোদে বাইরে কাউকে এমন অবস্থায় দেখলে আসলে আমাদের কী করা উচিত?

 তাকে দ্রুত তুলনামূলক ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে। জামা কাপড় খুলে বা ঢিলে করে দিতে হবে। তাকে ঠান্ডা করার জন্য পানি স্প্রে, ভেজা কাপড় বা তোয়ালে, ফ্যানের বাতাস ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। ভেজা তোয়ালে দিয়ে বারবার মাথা, ঘাড়, বগল মুছে দিতে হবে। আর এরই ফাঁকে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।   

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস