ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১১ ১৪২৭,   ০৮ সফর ১৪৪২

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৮ ১২ আগস্ট ২০২০  

আখাউড়া থানা ভবন

আখাউড়া থানা ভবন

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আখাউড়া) আদালতে মামলাটি করেন আখাউড়া পৌর শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুন মিয়া। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি কার্যালয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদনটি দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত।

অভিযুক্তরা হলেন- আখাউড়া থানার এসআই মতিউর রহমান, এসআই হুমায়ুন, এএসআই খোরশেদ ও কনস্টেবল প্রশান্ত এবং সৈকত।

জানা গেছে, মসজিদপাড়ার বাসিন্দা হারুনের প্রতিবেশী হাসিনা বেগম (চিকুনী বেগম) ও তার মেয়ে তানিয়া এবং তানজিনার সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা মিলিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছিলেন। চিকুনীর মাদক ব্যবসায় বাধা দেন হারুন। এতে চিকুনী ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের হারুনের পেছনে লাগিয়ে দেন।

এর ধারাবাহিকতায় ২৬ মে রাতে ওই পাঁচ পুলিশ সদস্য নাটকীয়ভাবে চিকুনী বেগমকে গ্রেফতার দেখান। এছাড়া তার প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে তল্লাশির নামে হারুনের বাড়িতে ঢুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ক্রসফায়ার ও হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। পাশাপাশি তারা হারুনের ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

পরবর্তীতে ২৭ মে ভোরে ফের হারুনের বাড়িতে আসেন ওই পাঁচ পুলিশ সদস্য। এ সময় তারা হারুন ও তার স্ত্রীকে মিথ্যা মাদক মামলা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তা না হলে তাদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে চালান দেবেন বলে হুমকি দেয়া হয়।

ওই সময় তারা প্রাণ রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রফা-দফা করেন। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি উপরের অফিসারদের জানালে হারুনকে ক্রসফায়ার দেয়া হবে বলে হুমকি দেন তারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হারুন মিয়া বলেন, আমাকে বিভিন্ন সময় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নিয়েছেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। তাদের কারণে আমি বাড়ি ছাড়া। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে অভিযোগ দিয়েছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর