.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

নড়াইলের দা-ছুরি সারাদেশে

 প্রকাশিত: ১৭:২৭ ৮ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:০৫ ৮ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নড়াইলের কামারদের তৈরি দা-ছুরির সুনাম রয়েছে সারাদেশে। সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে এ জেলার কামারদের সংখ্যা কমে গেলেও বাব দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছে কয়েকটি এলাকার কামারশালার কারিগররা। বর্তমানে তাদের তৈরি জিনিসপত্র নড়াইলের স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন জেলার চাহিদাও পূরণ করছে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন কামারদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে এবং বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিকায়ন করে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নড়াইল সদরের কমলাপুর, শিংঙ্গাশোলপুর, তুলারামপুর, গোবরা, লোহাগড়া উপজেলার শিয়েরবর, রায় গ্রাম, লাহুড়িয়া কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া, নড়াগাতিসহ বিভিন্ন এলাকার কামারদের তৈরি জিনিসপত্র বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ হচ্ছে মাগুরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, নড়াইলের কামারদের তৈরি জিনিস পত্রের মান খুব ভালো, অনেক দিন ব্যবহার করা যায়। সারা বছর নড়াইল থেকে এসব লোহার তৈরি জিনিসপত্র ক্রয় করে বিভিন্ন জেলাতে বিক্রয় করে তাদের ভালো লাভ হয়। 

কামারেরা বলেন, খদ্দেরের পছন্দমতো তৈরি করেন বিভিন্ন সাইজের চাপাতি, গরু জবাই করা বড় ছুরি , চামড়া ছোলার ছোট ছুরি, দা, বটি, কুড়াল, কাস্তে, আর ছোট চাকুর মতো লোহার সব অস্ত্র। 

বিভিন্ন সুত্রে  জানা গেছে, জেলায় বিভিন্ন হাট, বাজার ও বিভিন্ন গ্রামে  শতাধিক কামারশালা রয়েছে, আর এ পেশার  সঙ্গে জড়িত আছে ৫শতাধিক লোক। বিভিন্ন এলাকাতে কামারদের তৈরি জিনিস নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলার ছোট-বড় অন্তত ১৫টি হাটে বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় হয়। আকার ভেদে একেকটি চাপাতির প্রতি কেজি দাম ৪শ থেকে ৫শ টাকা,একটি জবাইয়ের ছুরির দাম ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা, ছোট ছুরি ৬০-৮০ টাকা/প্রতি, বটি ৪৫০-৫শ টাকা কেজি, একটি কাস্তে ১৫০-২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে ।

কমলাপুর এলাকার রতন কামার বলেন, এক সময় তাদের এলাকায় অনেক অনেকেই এ পেশায় ছিল। দিনে দিনে এ পেশা পরিবর্তন করে ভিন্ন পেশা বেছে নিচ্ছে তারা। এক যুগ আগে তাদের এলাকায় যে সংখ্যক কামারশালা ছিল বর্তমানে দুই তৃতীয়াংশ কমে গছে। তার দাবি ক্ষুদ্র এ ব্যবসায়ীদের সহজ শতে ঋণ দেয়া হোক এবং কামারদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয়া হোক।  

মাগুরা জেলার ব্যবসায়ী মো. আসিফুর রহমান বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে তিনি নড়াইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে কামারদের তৈরি জিনিস পত্র নিয়ে ঢাকার কয়েকটি মার্কেটে বিক্রি করেন। এখানকার তৈরি জিনিসপত্রের মান খুব ভাল। বিভিন্ন জেলায় এ জিনিসপত্রের চাহিদা রয়েছে অনেক। এ ব্যবসা করে তিনি অনেক ভাল আছেন।

বেসরকারি সংস্থা স্বাবলম্বীর নির্বাহী পরিচালক কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, পৈত্রিক পেশা ধরে রাখলে ও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি কামারশালাগুলোতে । তাই এসব কামার পরিবারের ছেলে মেয়েরা নতুনভাবে এ কাজে আসছে না । এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, নড়াইল শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের উপ ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, নড়াইলের কারিগরদের তৈরি জিনিসপত্রের মান খুবই ভালো, এসব জিনিসের ব্যাপক চাহিদা  রয়েছে। কারিগররা নিজেরা  যদি উৎসাহিত হয়ে নতুন করে কোনো প্রতিষ্ঠান করতে চায় আমরা তাদেরকে সাহায্য করবো। কামারদের আধুনিকায়ন করার জন্য তাদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ