.ঢাকা, শনিবার   ২০ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৭ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪০

ক্যালকুলাস নিয়ে বাজারে ভালো বই নেই - চমক হাসান 

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৯ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:১২ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চমক হাসানের ক্যারিকেচারটি করেছেন মোরসালিন

চমক হাসানের ক্যারিকেচারটি করেছেন মোরসালিন

চমক হাসান, যিনি গণিত নিয়ে বেশ মজার মজার বই লিখে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। গণিতের বিভিন্ন খুঁটিনাটি প্রশ্নের সমাধান পাওয়া যায় তার বইয়ে। বিষয়টির প্রতি ভালোবাসার টানেই লিখে যাচ্ছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতায় অমর একুশে গ্রন্থমেলায় থাকছে তার লেখা ‘নিমিখ পানেঃ ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমন’। বই ও নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি ডেইলি বাংলাদেশ-এর মুখোমুখি হয়েছেন।

দীর্ঘ সাত বছর পর বই মেলায় পাঠকদের সঙ্গে আড্ডা দেবেন। কেমন লাগছে? 

অবশ্যই এটা দারুণ অনুভূতি। আমার বইমেলায় বই প্রকাশিত হবার সময় আমি কখনোই বই মেলায় থাকতে পারিনি। আমার প্রথম যে অনুবাদ বইটি প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে, 'গল্পে জল্পে জেনেটিক্স'। ততদিনে আমি আমেরিকায় চলে এসেছি। তারপর ২০১৫ তে প্রকাশিত হলো 'হাসিখুশি গণিত',  ২০১৮ তে প্রকাশিত হলো ‘অংক ভাইয়া’, আর এ বছর ‘নিমিখ পানেঃ ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমণ’। বিগত বছরগুলোতে বইমেলায় থাকতে পারি নি৷ কিন্তু এ বছর পারবো ভেবে ভালো লাগছে।

এতদিন পর দেশে ফিরে দেশের কোন জিনিসটি খুব অবাক করেছে? 

নতুন নতুন রাস্তাঘাট দেখে খুব অবাক হচ্ছি, ভালোও লাগছে। চিনতে পারছি না ঠিক মতো। আমার বাসা মিরপুরে, ওখানে মেট্রো রেলের প্রজেক্ট চলছে। আমি আমার বাসার এলাকাই ভুলতে বসেছিলাম।

মেলায় আপনার নতুন বই ‘নিমিখ পানেঃ ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমন’ বইটি সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন-

গনিতে আধুনিক যে শাখাগুলো রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে জরুরি হলো ক্যালকুলাস। আমার মতে, ক্যালকুলাস নিয়ে বাজারে ভালো বই খুব একটা নেই। যে বইগুলো আছে, সেখানে যে বিষয়ের উপর জোর দেয়া হয়েছে তা হলো কিভাবে অংক করতে হয়। মূল জিনিসটা কি কেন এটা এভাবে আসলো,  এর পেছনের ইতিহাসটা কেমন, এ ব্যাপারে কিছু বলা হয় নি। শুধু ফর্মুলাগুলো বলে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকে কি করে অংক করতে হয় তা দেখানো হয়েছে। আমার মনে হয়, ক্যালকুলাস খুবই চমৎকার একটি ব্যাপার। এটি খুব সহজে বুঝানো সম্ভব। ক্যালকুলাস তো আর একদিনেই এই রূপে আসেনি। এর জন্য অনেক অনেক বছর লেগেছে। ক্যালকুলাসের ধারণা কিভাবে আস্তে আস্তে উন্নত হলো, কিভাবে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছাল, সে বিষয়গুলোই আমি প্রতিটি চ্যাপ্টারে অল্প অল্প করে বলতে চেয়েছি। আমার মনে হয় যখন একজন এই ইতিহাসগুলো জানবে, তখন তার মাঝে শেখার জন্য এক ধরণের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সেই আগ্রহ সৃষ্টি করতেই বইটা লেখা। এই বইটার দুটি খণ্ড হবে।

গণিতের পাশাপাশি আপনার গানের প্রতিও এক ধরণের ভালোবাসা স্পষ্ট। কিন্তু গানের জন্য কি কখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়া হয়েছিল? 

না, একেবারেই নেই। গানের প্রতি এক ধরণের ভালোবাসা অবশ্যই আছে। তাছাড়া আমার পরিবার সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। আমার বড় চাচা নাটক লিখতেন,  আমার বাবারও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। আমার পরিমণ্ডলটাই একটু সাহিত্য দিয়ে আচ্ছন্ন ছিল। আর আমার ক্ষেত্রে তা বাঁক নিয়েছে গানের দিকে। কারণ আমি বড় হয়েছি কুষ্টিয়াতে। ওখানে লালন সন্ধ্যার আয়োজনে যাওয়া হত। মূলত লালন থেকেই ভালোবাসাটা শুরু। তারপর ওখানে রবি ঠাকুরের কুঠি বাড়িতে গানের অনুষ্ঠান হত। তবু পড়ালেখার জন্যই গানের দিকে সেভাবে যাওয়া হয়নি। আমি যখন ক্লাস সিক্স- সেভেনে পড়তাম তখন থেকেই গান লিখতে শুরু করি। তো তখন থেকেই ভালোবাসাটা। 

গান নিয়ে কি ভবিষ্যতে কোনো পরিকল্পনা আছে?  

আসলে আমি যেটা মনে করি, গান গুরুমুখী বিদ্যার মতো। আমি যদি গান না শিখে গাই, তবে শখের জন্য ঠিক আছে। যদি কখনো বড় পর্যায়ে গান গাওয়া হয় তবে আমি মনে করি যারা সত্যিকারের গান বোঝেন তবে তাদের কারো কাছ থেকে শেখা প্রয়োজন। তবে কিছু কাজ করার ইচ্ছে আছে, কিন্তু এখনই না।

আপনার পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন-

পাঠকদের উদ্দেশ্যে যেটা বলবো ,ভালো লাগা কিংবা আনন্দ জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আমরা যখন কোনো কাজ আনন্দ নিয়ে করি তখন আর তা কঠিন মনে হয় না। কাজটা উপভোগ্য হয়। আমার পাঠক বা ভক্ত যারা আছেন তাদের আমি কখনোই বলি না কেবল গণিতকে ভালোবাসতে হবে। আমি চাই তোমরাও কোনো না কোনো কিছুকে ভালোবাসো। সেটাকে সময় দাও। সেখান থেকে আনন্দ নেয়ার চেষ্টা করো। জীবনটাকে অর্থবহ করে তোলো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে