Exim Bank
ঢাকা, সোমবার ২১ মে, ২০১৮
iftar
বিজ্ঞাপন দিন      

ক্যাফেইন: উপকারিতা এবং অপকারিতা

 নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৬ মে ২০১৮

আপডেট: ১৮:৫১, ১৬ মে ২০১৮

১৭৫৪ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমরা প্রতিনিয়ত চা, কফি, চকলেট, হাল্কা পানীয় যেমন- কোকোকোলা, সেভেন-আপ, পেপসি এমনকি ওষুধের সাথেও ক্যাফেইন গ্রহন করছি।

এটি তিক্ত স্বাদযুক্ত একটি পদার্থ। আমাদের দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এর অনেক প্রভাব আছে। বিশেষ করে ক্যাফেইন আমাদের দেহের স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করতে পারে।

এটি আপনাকে আরো সজাগ করতে পারে এবং আপনাকে করতে পারে আরো শক্তিদীপ্ত।

ক্যাফেইন উৎস:
ক্যাফেইন এর মুল উৎস Coffea arabica (পরিবার- Rubiaceae)। অদ্যবধি বিভিন্ন পরিবারভুক্ত প্রায় ৬০ টি উদ্ভিদে ক্যাফেইন পাওয়া গেছে, তন্মোধ্যে cocoa beans, kola nuts, tea leaves, yerba maté, guarana berries, guayusa, yaupon holly এবং coffee beans-ই প্রধান।

বাড়ীতে তৈরিকৃত এক কাপ কফিতে সাধারণত ৩০ থেকে ১৭৫ মিগ্রা ক্যাফেইন থাকে। এছাড়া বাজারে যে সব ক্যাফেইন সমৃদ্ধ প্রোডাক্ট পাওয়া যায় তা হল – চকোলেট (১ - ১২০ মিগ্রা), এনার্জি ড্রিংকস (৩৩ – ৪০০ মিগ্রা), কার্বনেটেড বেভ্যারেজ (২২ – ৬৯ মিগ্রা), এলকোহলিক বেভ্যারেজ (৩ - ৯ মিগ্রা), ফাস্ট-ফুডস (১ - ৪৯ মিগ্রা), ক্যাফেইনেটেড ওয়াটার (৪২ – ১২৫ মিগ্রা), ক্যাফেইনেটেড সফট ড্রিংকস (৩০ – ৪৮ মিগ্রা), ডি-ক্যাফেইনেটেড কফি (১ – ৫ মিগ্রা), এসপ্রেসো (৫০ – ১৫০ মিগ্রা), টি-ব্যাগ (২ – ১৩০ মিগ্রা), ব্রেওয়েড/পার্কোলেটেড, ডি-ক্যাফেইনেটেড (৩ - ১২ মিগ্রা) ও ইন্সটান্ট/রেগুলার ড্রিপ (৩০ – ৩৩০ মিগ্রা)।

খাদ্যে ক্যাফেইন:
ক্যাফেইন একটি উপাদান যা কি না বেশ কিছু উদ্ভিদে পাওয়া যায়। আবার এটি মানুষের দ্বারা তৈরি হতে পারে এবং খাবারে উপস্থিত থাকতে পারে। এটি একটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপক এবং একটি মূত্রবর্ধক, যা কি না আমাদের দেহে উপস্থিত পানিকে মুক্ত করে দেয়।

ক্যাফেইন গ্রহণের ইতিবাচক প্রভাবসমূহ:

(১) ক্যাফেইন দীর্ঘদিন ধরে খাবারের সাথে গ্রহণ করলে হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়।

(২) বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে অবধারণ বা বোধশক্তি ক্ষমতা কমে যাবার প্রবণতাকে ক্যাফেইন কমিয়ে দেয়। সাথে অ্যালঝিমার্স বা যে কোনো কিছু ভুলে যাওয়া রোগের ঝুঁকি কমায়।

(৩) ক্যাফেইন আমাদের দেহে নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এদের মধ্যে রয়েছে নরএপিনেফরিন, অ্যাসিটাইলকোলিন, ডোপামিন, সেরোটোনিন, এপিনেফরিন এবং গ্লুটামেট।

(৪) অ্যাসিটাইলকোলিন আমাদের মনোযোগ, একাগ্রতা, শিক্ষা, এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু আমাদের এই স্মরণশক্তি এবং বোধশক্তির ওপর ক্যাফেইনের প্রভাব আছে বলে এখনও পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

(৫) নিম্নমাত্রার ক্যাফেইন আমাদের ব্রেনের সতর্কতা বৃদ্ধি করে এবং আমাদের ক্লান্তি দূর করে।

(৬) ক্যাফেইন আমাদের দেহে বিপাকীয় হার বৃদ্ধি করে।

(৭) খুব সম্ভবত ক্যাফেইন ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমিয়ে আনে এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হারকে বিলম্বিত করে।

(৮) পারকিনসন নামক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে ক্যাফেইন সাহায্য করে। তাই ক্যাফেইন পারকিনসন রোগের জন্যে সৃষ্টি স্নায়বিক লক্ষণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

(৯) ক্যাফেইন খুবসম্ভবত টাইপ–২ ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি কমিয়ে আনে।

(১০) ক্যাফেইন কয়েক ধরণের যকৃত ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

(১১) ক্যাফেইন আমাদের দেহে উপস্থিত কিছু ক্ষতিকর ফ্রি-রেডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্যে স্বাস্থ্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সক্রিয় উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।

(১২) কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা আমাদের অন্ত্রে ব্যথা উপশমকারী (Pain Killers) ওষুধগুলোর কার্যকারিতাকে বৃদ্ধি করে দেয়। বিশেষ করে মাইগ্রেন এবং মাথাব্যথা রোগীর চিকিৎসার জন্য এটা অনেক উপকারী।

ক্যাফেইন গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাবসমূহ:

(১) যারা অনিয়মিত ভাবে ক্যাফেইন গ্রহণ করে, তাদের রক্তচাপ বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। আর রক্তচাপ বৃদ্ধি স্ট্রোক এবং মস্তিষ্কের রক্তনালীর রোগ হবার সম্ভাবনার সাথে সম্পর্কিত। যা কি না পরবর্তীতে মস্তিষ্কের ভেতরে ঠিকঠাক মতো রক্ত সরবরাহতে বাঁধা পড়বার ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

(২) ক্যাফেইন আমাদের মোটর স্নায়ুর আন্দোলিত হবার হারকে কমিয়ে দিতে পারে। যার ফলে হাত কাঁপতে পারে।

(৩) ক্যাফেইন কর্‌টিসল নামক স্টেরয়েড হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে দেয়। যার ফলে আমাদের দেহে কিছু সহ্য ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং হরমোন ঘটিত সমস্যা দেখা দেয়।

(৪) ক্যাফেইন আমাদের ঘুমে সমস্যা করে এবং শরীরকে কড়া করে দিয়ে অনিদ্রা সমস্যার সৃষ্টি করে।

(৫) ক্যাফেইন আসক্তি সৃষ্টিকারী একটি উপাদান। যারা নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ করেন তারা কোনো কারণে এটি নেয়া বন্ধ করলে মাথাব্যথা, দেহে ক্লান্তি আসা সহ ব্রেনের সতর্কতা কমে যাবার মতো নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে।

(৬) অতি উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইন (৩০০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি) গ্রহণ করলে উদ্বেগ বা উৎকন্ঠা সৃষ্টি হতে পারে।

(৭) ক্যাফেইন অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে শ্রবণ শক্তির সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

(৮) বিশেষ করে বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে অধিক ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয় হয়ে যাবার হার বৃদ্ধি পায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

সর্বাধিক পঠিত