ক্যাফেইনের ক্যারিশমা…

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

ক্যাফেইনের ক্যারিশমা…

 প্রকাশিত: ১৫:৫১ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:৫১ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে প্রতি বছর ক্যাফেইনের মোট চাহিদা প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন। ভাবতে পারেন এ ওজন ১৪টি আইফেল টাওয়ারের সমান! আমরা সাধারনত কফি এবং চা পানের মাধ্যমে ক্যাফেইন গ্রহণ করি। তবে কফি ও চা’তে প্রাকৃতিকভাবে থাকা ক্যাফেইন ছাড়াও কিছু কোমল পানীয়, চকোলেট, ক্যাফেইন পিল এসবেও ক্যাফেইন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ক্যাফেইন ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিলেও আমাদেরকে কোনো বিষয়ে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে, আমাদের মস্তিষ্ককে সতর্ক করে,  দেহকে চাঙা করে এবং মনে আনে খুশি খুশি ভাব। কিন্তু একই সাথে এটি আমাদের রক্তচাপ ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ক্যাফেইনের খুব খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।ক্যাফেইনের বহুল ব্যবহার একে বিশ্বের সবথেকে বহুল ব্যবহৃত ওষুধে পরিণত করেছে।  কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্যাফেইন কিভাবে আমাদের ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে জাগিয়ে রাখে? 

নানা প্রকার উদ্ভিদে যেসকল ক্যাফেইন পাওয়া যায়, সেগুলোর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা। ক্যাফেইন বহনকারী উদ্ভিদের পাতা ও বীজে থাকে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন, যা পোকামাকড়ের জন্য বিষ হিসেবে কাজ করে। ওইসব গাছের পাতা বা বীজ খেলে পোকামাকড় মুহূর্তেই মৃত্যুবরণ করতে পারে। তবে সেসব উদ্ভিদের ফুলের মধুতে থাকে স্বল্পমাত্রার ক্যাফেইন যা মধু আহরণকারী পতঙ্গের দলকে ওই ফুল চিনে রাখতে এবং পুনরায় মধু গ্রহণে আসতে বাধ্য করে। তবে মানব মস্তিষ্কে ক্যাফেইনের প্রভাব কীভাবে কাজ করে? আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের জন্য ক্যাফেইন একটি উত্তেজক হিসেবে কাজ করে। অ্যাডিনোসিন নামক এক ধরণের হরমোনের আবেশে আমাদের মস্তিষ্ক ঘুমের সংকেত পায় এবং দেহকে ঘুমের জন্য তৈরি করে। ক্যাফেইন এই অ্যাডিনোসিনকে তার কার্যকলাপে বাঁধা দেয়।

দেহকে সচল বা জীবিত রাখতে হলে এতে অনবরত শক্তি সরবরাহ দরকার। এ শক্তি আসে অ্যাডিনোসিন ট্রাই ফসফেট (এটিপি) নামক উচ্চ শক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক অণুর ভাঙনের মাধ্যমে। এটিপি অণুর প্রধান অংশ হলো অ্যাডিনোসিন যা এই ভাঙনের ফলে মুক্ত হয়। মস্তিষ্কের নিউরনে এই অ্যাডিনোসিন গ্রহণের জন্য বিশেষ ধরনের রিসেপ্টর রয়েছে। অ্যাডিনোসিন অণুগুলো যখন নিউরনসমূহের রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেখানে বিশেষ ধরণের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার ঝড় বয়ে যায়। পরিণামে নিউরনের কাজকর্ম শিথিল হয়ে যায়। মস্তিষ্ক থেকে দেহে সংকেত বহনকারী অণুগুলোর সরবরাহ চলে মন্থরগতিতে, তখনই আমরা ঘুম অনুভব করি। ক্যাফেইনের কাজই হলো এই অ্যাডিনোসিন রিসেপ্টরগুলোকে অ্যাডিনোসিন গ্রহণে বাঁধা দেয়া। ক্যাফেইন ও অ্যাডিনোসিন অণুর গঠন ও আকার অনেকটা একই হওয়ার কারণ এরা আগে থেকেই নিউরনের অ্যাডিনোসিন রিসেপ্টরগুলোকে ব্লক করে রাখে। এর ফলে অ্যাডিনোসিন নিউরণের কাছে এলেও তা রিসেপ্টরে সঠিকভাবে বসতে না পারায় সক্রিয় হতে পারে না। সহজ কথায় বলতে গেলে, অ্যাডিনোসিনের বাসায় মাত্র একজন লোকেরই সংকুলান সম্ভব। ক্যাফেইন সাহেব আগে থেকেই সেখানে ঢুকে যাওয়ায় অ্যাডিনোসিন সেখানে ঢুকতে না পেরে তার স্বাভাবিক কাজ করতে ব্যহত হয়। বিনিময়ে আমরা উপহার হিসেবে পাই নিদ্রাহীনতা।

ক্যাফেইন যে শুধু ঘুমকেই বিলম্বিত করে তা নয়, ইতিবাচক অনুভূতিগুলো বৃদ্ধি করতেও ক্যাফেইনের জুড়ি নেই। এই ব্যাপারটির কারণ বিশ্লেষণ করা যাক- কিছু কিছু নিউরনের অ্যাডিনোসিন রিসেপ্টরের সঙ্গে ডোপামিন রিসেপ্টর সংযুক্ত থাকে। মস্তিষ্কে ডোপামিনের বহু ভূমিকার মধ্যে একটি হলো সুখানুভূতি সৃষ্টি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যখন অ্যাডিনোসিন তার রিসেপ্টরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়, তখন ডোপামিন সঠিকভাবে তার রিসেপ্টরে বসতে পারে না। এর ফলে ডোপামিনের কার্যক্রম ব্যহত হয়। কিন্তু ক্যাফেইনের ক্ষেত্রে এমন ঝামেলা নেই। সে নিজে অ্যাডিনোসিনের রিসেপ্টরে বসার পরেও ডোপামিনকে তার রিসেপ্টরে বসার ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করে না। ফলে ডোপামিন তার জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াসমূহ সম্পন্ন করে আমাদের মনে সুখানুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics