Alexa স্যারাহ টমাস: বিস্ময়কর এক সাঁতারু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৭ ১৪২৬,   ২৩ সফর ১৪৪১

Akash

একটানা চারবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি

স্যারাহ টমাস: বিস্ময়কর এক সাঁতারু

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০১ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:২৯ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স্যারাহ টমাস

স্যারাহ টমাস

কথায় আছে, ‘ইচ্ছে থাকলে মানুষের পক্ষে সবই করা সম্ভব।’ সম্প্রতি তেমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন স্যারাহ টমাস নামের ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন এক নারী। কোনো বিরতি ছাড়াই চারবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন ক্যানসার জয়ী এই নারী।

রোববার ভোরে এই দুঃসাহসিক অভিযান শুরু করেন স্যারাহ টমাস। এক নাগাড়ে ৫৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাঁতার কাটেন তিনি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সাঁতারের শেষ ধাপটি সম্পন্ন করেন। তার এই সাঁতার ৮০ মাইল দীর্ঘ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে ১৩০ মাইলের মতো সাঁতরে পার হতে হয়েছে। এর আগে মাত্র চার জন সাঁতারু একবারও না থেমে তিনবার চ্যানেলের এপার-ওপার পাড়ি দিয়েছিলেন।

স্যারাহ টমাস পেশায় একজন সাঁতারু। তিনি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মাত্র এক বছর আগে তার চিকিত্সা শেষ হয়েছে। তার এই ‘ইংলিশ চ্যানেল জয়’ করার ঘটনাকে তিনি উত্সর্গ করেছেন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে যারা বেঁচে আছেন তাদের উদ্দেশ্যে। বড় বড় সাঁতারুরা বলছেন, মানুষ যখন মনে করছে যে তারা তাদের ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে, তখনই সেসব রেকর্ড ভেঙে দেয়া হলো।

একটানা ৫৪ ঘণ্টা সাঁতার কাটা সত্যিই অনেক কষ্টকর। তাহলে স্যারাহ টমাসের বেলায় কীভাবে সম্ভব হল? তিনি জানান, পুরো যাত্রায় তিনি প্রোটিন-সমৃদ্ধ পানীয় পান করেছেন। তার সঙ্গে মেশানো হয়েছিল ইলেকট্রোলাইটস এবং সামান্য ক্যাফেইন যা তার ঘুম তাড়াতে সাহায্য করেছিল। এই পানীয়গুলোই তাকে শারীরিক ভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। জয়ের ক্ষুধাই ছিল তার মানসিক সাপোর্ট।

অনেকেই একে বিস্ময়কর এবং অতিমানবীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন। একজন নারী হিসেবেই এটি খুব কষ্টকর, আর তিনি তো ক্যান্সারজয়ী। এমনকি স্যারাহ টমাসও বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি এটি করেছেন। তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে কী আমি নিজেই হতভম্ব হয়ে পড়েছি। আমার সঙ্গে দেখা করতে এবং আমি যাতে সফল হতে পারি সেই শুভ ইচ্ছার কথা জানাতে অনেকেই তীরে হাজির হয়েছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

স্যারাহ টমাসের মা বলেন, আমার মেয়ে একটু ‘পাগলা’ ধরনের। ইংলিশ চ্যানেল জয় করার সবশেষ এই অভিযানে তাকে পেট-ব্যথার সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এর আগেও টমাস ইংলিশ চ্যানেলে সাঁতার কেটেছেন। ২০১২ ও ২০১৬ সালেও তিনি চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে