ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল সাড়ে সাত কোটি বছর আগের ডাইনোসরও

ঢাকা, শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২০,   আশ্বিন ১৭ ১৪২৭,   ১৪ সফর ১৪৪২

ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল সাড়ে সাত কোটি বছর আগের ডাইনোসরও

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৬ ১১ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ডাইনোসর

ছবি: ডাইনোসর

পৃথিবীর আদি প্রাণীদের নিয়ে আলোচনায় সবার আগেই আসে ডাইনোসরের কথাই। বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানী ডাইনোসর এবং তাদের জীবন ধারণ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা করেছেন। প্রতিবারি উঠে এসেছে প্রথিবীর বুকে আদিম সময়ে জীবন ধারণ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য। সম্প্রতি ফের এই ডাইনোসর নিয়ে সামনে এল এক নতুন তথ্য।

সম্প্রতি কানাডাতে এক ডাইনোসরের কঙ্কাল পরীক্ষা করতে গিয়ে এইরকম এক নয়া তথ্য সামনে এনেছেন বেশ কিছু বিজ্ঞানী। জীবাশ্ম হিসেবে গবেষকদের কাছে বরাবর প্রাধান্য পেয়ে এসেছে ডাইনোসরের কঙ্কাল। আর কানাডার এক পার্কের ওই ধরনের একটি কঙ্কাল খুলে দিল নতুন দিক। কঙ্কালটির পায়ে বেশ কিছু সমস্যা ছিল বলে লক্ষ্য করেন গবেষকরা।  

ডাইনোসরওই ডাইনোসর আক্রান্ত ছিল এক বিরল বোন ক্যান্সারে। আর তার ফলেই ওই কঙ্কালের পায়ে সমস্যা চোখে পড়ে। পায়ের গড়নটি সঠিক না হওয়াতে সন্দেহ হয়েছিল গবেষকদের। আর তারপরেই গবেষণা করতে গিয়ে সামনে এল এই তথ্য। প্রায় সাত কোটি ৬০ লাখ বছর আগের ওই ডাইনোসরটি প্রথম ক্যান্সার আক্রান্ত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্যান্সার ক্রমেই মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে সাধারণ রোগ। প্রতি বছরই বহু মানুষ মারা যান এই রোগে। তবে আজ থেকে সাত কোটি ৬০ লাখ বছর আগে এই রোগের যে অস্তিত্ব ছিল তার প্রমাণ ওই কঙ্কাল। ওই কঙ্কালের পায়ে দেখা গিয়েছিল টিউমার। বিষয়টি নিয়ে এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন ওই বিশেষ ধরনের ক্যান্সার সাধারণ ভাবে হাড়ের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত যুবক এবং শিশুরা এর শিকার হয়।

ডাইনোসরের কঙ্কালতবে আজ থেকে কয়েক লক্ষ বছর আগে ডাইনোসরেরাও যে আক্রান্ত হত, এটা জেনে রীতিমত অবাক সকলে। মনে করা হচ্ছে ডাইনোসরের দ্রুত হারে বৃদ্ধির জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। এই টিউমার কার্যত হাড় নষ্ট করে দেয় এবং অন্যান্য নার্ভকে আক্রান্ত করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন মানুষ যদি এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন সে ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি এবং অপারেশন একমাত্র হাতিয়ার। তবে কোনো ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানোর জন্য অঙ্গ বাদ দিতেও হতে পারে।   

এর আগে অনেক বিপজ্জনক অবস্থায় পাওয়া যায় ডাইনোসরের কঙ্কাল। ১০ কোটি বছর পূর্বে সাহারা মরুভূমিতে ছিল ডাইনোসরের বাস। যেটি এখন দক্ষিণ-পূর্ব মরক্কো হিসেবে পরিচিত। এটি ভয়ঙ্কর হিংস্র মাংসাশী ডাইনোসরের এলাকা ছিল। ডাইনোসরের অনেক প্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বিভিন্ন প্রান্তে। খানে নাকি উড়ন্ত ডাইনোসরও ছিল।

সেখানকার জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা করে দেখা গিয়েছে, এদের দলের মধ্যে অন্তত তিনটি বিরাটাকারের ডাইনোসর থাকত। এদের প্রধান খাবার ছিল মাছ। সে সময় যেমন বিশালাকার সব প্রাণী ছিল ঠিক তেমনি সিলাকান্ত ও লাংফিসের মতো দীর্ঘকায় মাছও পাওয়া যেত। এছাড়াও একাধিক গবেষণায় ডাইনোসরের বিভিন্ন প্রজাতির যেমন সন্ধান পাওয়া গেছে। তেমনি এদের জীবনযাপন আর বিলুপ্তির করুণ কাহিনীও জানা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস