ক্যান্সাররোধক উপদানসমূহ
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=80171 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৮ ১৪২৭,   ০৫ সফর ১৪৪২

ক্যান্সাররোধক উপদানসমূহ

ফাতিমাতুজ্জোহরা

 প্রকাশিত: ২১:১৬ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:১৬ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ক্যান্সার নামটি শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে! কারণ ক্যান্সার মানেই কোনো সঠিক চিকিৎসা নেই, নিশ্চিত মৃত্য। 

কিন্তু বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে নানা ধরণের গবেষণা হচ্ছে। বিভিন্ন রকম ক্যান্সারের জন্য নিত্য নতুন টিকা ও ওষুষ বের হচ্ছে। এছাড়াও গবেষণার মাধ্যমে জানা যায় যে, খাদ্য তালিকার কিছুটা পরিবর্তন করলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ আমাদের খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করে নানা ধরণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ানো সম্ভব। 

একইভাবে বেশ কিছু খাবার নিয়ম করে খেতে পারলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়। বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধে যেসব খাবার খাওয়া উচিত, সে সম্পর্কে জেনে নিন-

গাজর: গাজর প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। গাজরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন। যা যেকোনো ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। যেমন: ব্রেস্ট ক্যান্সার, শ্বাসনালী ক্যান্সার, অন্ত্রের ক্যান্সার ও পাকস্থলী ক্যান্সার। এ ধরণের যেকোনো রকম ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে গাজর। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে গাজর বা গাজরের জুস খেতে পারলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে।
 
রসুন: রসুন আমাদের স্বাস্থ্যের দিক থেকে খুবই উপকারি। রসুন ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। কারণ ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করতে পারে রসুন। এমনকি জীবাণু ভেঙেও ফেলতে পারে। সে কারণে প্রতিদিন নিয়ম করে এক কোয়া রসুন খেলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে। 

টমেটো: টমেটোকে খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার হিসেবে আমরা সবার চিনে থাকি। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারি। টমেটো অনেকে সবজি হিসেবে খান আবার অনেকে টমেটোকে ফলও বলে থাকেন। টমেটো ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য খুবই উপকারি। কারণ এতে লাইকোপেন নামক এক ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধকারী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। যা আমাদের হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে পারে। সেই সঙ্গে টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন সি। যা আমাদের ক্যান্সার রোগের পরম শত্রু। তাই নিয়ম করে টমেটো খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক সহায়ক হবে। এছাড়া টমেটো আমাদের শরীরের ডি এন এ এর ক্ষতিকর কোষগুলো নষ্ট করতে পারে। তাই সপ্তাহে কমপক্ষে দুটো করে টমেটো খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
 
বাদাম: বাদামও খুবই পুষ্টিকর খাবার। বাদামে সেলেনিয়াম নামক এক ধরণের অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান থাকে। যা আমাদের ফুসফুস ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও যকৃত ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আপনি বাদামের মাখনও খেতে পারেন। তাই প্রতিদিন চিনা বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর প্রতিদিন না হলেও ক্যান্সার প্রতিরোধে সপ্তাহে দুই দিন বাদাম খেতে পারেন। 

হলুদ: হলুদ আমাদের স্বাস্থ্যগত দিক থেকে খুবই উপকারি একটি মসলা। হলুদ ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য খুবই ভালো। কারণ হলুদে কার্কিউমিন নামক একটি উপাদান থাকে যা অ্যান্টি ক্যান্সার হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়াও হলুদ হলো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করে আমাদের দেহকে ভেতর থেকে ক্যান্সার মুক্ত রাখে। নিয়মিত হলুদ খেলে ক্যান্সারের ক্ষতিকর কোষগুলো শরীরের বাসা বাঁধতে পারে না। তাই প্রতিদিন তরকারিতে হলুদ খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া কাঁচা হলুদও খেতে পারেন। 

গ্রিন টি: গ্রিন টি হলো এক ধরণের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদানযুক্ত। যা আমাদের বিভিন্ন রকম ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়াও গ্রিন টি টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাওকেও কমিয়ে দিতে পারে। তাই দিনে কমপক্ষে এক বার গ্রিন টি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
 
তরমুজ: তরমুজ খেলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক কম থাকবে। কারণ তরমুজের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ। যেগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যেমন: মুখ গহ্ববের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, খাদ্য নালীর ক্যান্সার ও ফুসফুসের ক্যান্সার। তরমুজ খেলে এ ধরণের ক্যান্সারের হাত থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। 

সবুজ শাক: সবুজ শাক সবজি খাওয়া খুবই জরুরি। কারণ সবুজ শাকে রয়েছে ফাইবার, ফ্লামনয়েড, ফলিড এবং ক্যারোটিনয়েড। যা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে বিভিন্ন রকম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। তাই ক্যান্সারের কোষও শরীরের বাসা বাঁধতে পারে না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে সবুজ শাক খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

জাম জাতীয় ফল: ব্লু বেরী ও স্টারবেরী এ ধরণের ফলগুলো খেতে পারেন। এগুলোতে চিনি কম পরিমাণে থাকে কিন্তু প্রচুর পুষ্টিগুণে ভরপুর। এছাড়াও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে ও প্রচুর পরিমাণে  ভিটামিন থাকে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। এছাড়াও শরীরের ভেতরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এনজাইম বাড়িয়ে তোলে। তাই জাম জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। 

এছাড়াও পেঁয়াজের রসেও ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। ব্রকলি, ফুলকপি ও মাশরুম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে