Alexa কোস্টারিকার প্রাচীর

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৯ ১৪২৬,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

কোস্টারিকার প্রাচীর

 প্রকাশিত: ১২:২৩ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ০০:৪৬ ৯ জুন ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আর মাত্র ৭ দিন পরেই বিশ্বকাপের মহারণ। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বব্যাপীই তুমুল আলোচনা ও বিশ্লেষণে মত্ত ফুটবল সমর্থকগণ। ফুটবল মানেই গোলের খেলা যেখানে বল পজিশনে এগিয়ে থাকা, দূর্দান্ত ড্রিবলিং, অসাধারণ পাস বা ক্রসিং সমর্থকদের আনন্দ দিয়ে থাকলেও ফলাফলের ক্ষেত্রে গোলটাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আর গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলরক্ষকরা। একটি ভুল পাসের মাসুল হয়তো একজন মিড ফিল্ডার পুষিয়ে নিতে পারেন কিন্তু একজন গোল রক্ষকের একটি ভুল তাকে ইতহাসের খলনায়কে পরিণত করে। তাই স্বাভাবিকভাবেই গোল রক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্ববহন করে। এবারের বিশ্বকাপেও বেশকিছু গোলরক্ষক দলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। "ডেইলি বাংলাদেশ" এর নিয়মিত আয়োজনে আজ রয়েছেন কোস্টারিকার গোলরক্ষক কেইলর নাভাস।

কেইলর নাভাস একজন কোস্টারিকান ফুটবলার যিনি কোস্টারিকা জাতীয় ফুটবল দল এবংলা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রথমত সাপ্রিসায় খেলেছেন, পরবর্তীতে তিনি আলবাসেতেতে এক মৌসুম খেলেন এবং তিনি মৌসুম লা লিগার ক্লাব লেভান্তে-এ খেলেন। অতঃপর রিয়াল মাদ্রিদে ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে যোগদান করেন।

২০০৮ সাল হতে অভিষেকের পর, নাভাস কোস্টারিকার হয়ে ৭০ ম্যাচেরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি দু`টি কনকাকাফ গোল্ড কাপ এবং ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপে কোস্টারিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নাভাস মূলত আলোচনায় আসেন ২০১৪ বিশ্বকাপের মাধ্যমেই। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। কোস্টারিকা বনাম গ্রীসের মধ্যকার ট্রাইব্রেকারে শট নিতে এসেছেন গ্রীসের থেওফানিস গেকাস। পোস্টের নিচে তখন কোস্টারিকার কেইলর নাভাস। গেকাস ছুটে এসে ডান পায়ে শট নিয়েছিলেন পোস্টের বাঁ দিকের ফাঁকা জায়গা লক্ষ্য করে। কিন্তু বল পোস্টে ঢুকার আগেই কেইলর নাভাস যেন চিলের মতই শোঁ করে বলটাকে ঠেলে দিলেন পোস্টের বাইরে। আর তাতেই ট্রাইব্রেকারে কোস্টারিকা ম্যাচ জিতেছিল ৫-৩ এ। প্রথমবারের মত ওঠেছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন কোস্টারিকার স্বপ্ন পূরণের নায়ক কেইলর নাভাস।

বিশ্বকাপের পর নাভাসকে দলে ভিড়াতে তোরজোড় করেছে ইউরোপের অনেক ক্লাবই। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ থেকে প্রস্তাব আসার পর আর না করতে পারলেন না। তবে ইকার ক্যাসিয়াসের জন্য ওই মৌসুমে মাত্র ৬ ম্যাচ খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় এই কোস্টারিকানকে। ক্যাসিয়াস চলে যাওয়ায় নাভাসের সুযোগ আসে দলের এক নম্বর জার্সি পরে লস ব্লাঙ্কোসদের গোলপোস্টে দাড়ানোর।

যদিও রিয়াল মাদ্রিদ পোস্টের নিচে চাচ্ছিলেন আরো হাই-প্রোফাইল কাউকে। আর তাই তারা ম্যানচেস্টার ইউনাটেডের সাথে আলোচনা করেন নাভাসকে দিয়ে ডে গিয়াকে আনতে। দুই ক্লাবের মাঝে প্রায় সবরকম কথাবার্তাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ৩১ আগস্ট, দলবদলের শেষদিনে এই দুই গোলকিপারের কাগজপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিফা’র কাছে জমা না দেয়ায় তাদের দলবদল আর হয়ে ওঠেনি। সেদিন শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা না হলে হয়ত আজ আর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা হত না তার।

৪ মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ৯৪ ম্যাচে দারুণ আস্থার প্রতিদানই দিয়েছেন। জিতেছেন লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা। কনকাফ গোল্কিপার অফ দ্যা ইয়ার ও প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার নির্বাচিত হয়েছেন দুইবার করে।

আসছে বিশ্বকাপে কোস্টারিকার অন্যতম ভরসাও হয়ে থাকবেন তিনি। গোলবারকে ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড এবং সার্বিয়ার থেকে অক্ষত রাখতে পারলেই তো কোস্টারিকার দ্বিতীয় পর্বের টিকেট নিশ্চিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics