Exim Bank Ltd.
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

কোরিয়ানদের নিষ্প্রান কর্মচাঞ্চল্য

মেহেদী হাসান শান্তডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
কোরিয়ানদের নিষ্প্রান কর্মচাঞ্চল্য
ছবি: সংগৃহিত

'গোয়ারোসা' একটি কোরিয়ান শব্দ। এর অর্থ 'অতিরিক্ত কাজের ফলে মৃত্যু'! কথা হচ্ছিলো পার্ক হিউন সুকের সঙ্গে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বসবাসরত এই মধ্যবয়স্কা নারী সদ্য তার স্বামীকে হারিয়েছেন। গোয়ারোসায় মৃত্যুবরণ করেন ভদ্রলোক।

স্বামীর সঙ্গে একটি ছবি বের করতে বলায় পার্ককে স্মৃতি আওড়াতে হলো অনেকক্ষণ। ফোন স্ক্রল করতে করতে বলে যাচ্ছিলেন, 'একবার কোথায় যেন ঘুরতে গিয়ে সেলফি তুলেছিলাম আমরা, এখন তো মনে পড়ছে না। ' শেষমেশ খুঁজে পেলেন বটে একটা, স্বামী ভদ্রলোকটি তার অফিসের একটি বিশেষ ইউনিফর্ম গায়ে জড়ানো, আপাদমস্তক আবৃত। সম্প্রতি সিএনএনে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় এভাবেই অতীতের স্মৃতি হাতরাচ্ছিলেন পার্ক।

পার্কের স্বামী চ্যা সু হং একটি খাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে চাকরি করতেন। জ্যাংজরিম নামক গরুর মাংস দিয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় কোরিয়ান খাবার উৎপাদনের মান ও সময় তদারক করা ছিলো তার কাজ। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানির ফ্যাক্টরিগুলোতে ঘুরে বেড়িয়ে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের সঠিক মান নিশ্চিত করতেন তিনি। শনিবারগুলো কাটতো কোম্পানির প্রধান অফিসে, সারা সপ্তাহের কাজের খসড়া করতে তৈরি করতে হতো ওইদিন। কাজ থেকে ফিরেও তিনি কাজেই ডুবে থাকতেন। সন্ধ্যাগুলো কাটাতেন কোম্পানির শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায়, বিশেষ করে যেসব বিদেশ শ্রমিকরা কোরিয়ায় এসে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতেন তাদেরকে যত্নের সহিত কাজ সম্পর্কে নির্দেশনা দিতেন। পার্ক তার স্বামী সম্পর্কে বলেন, '২০১৫ সালে যখন তিনি উক্ত কোম্পানিতে যোগ দেন, তখন সেখানে মাত্র ৩০ জন লোক কাজ করতেন, তার মৃত্যুর আগে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০ তে। একটা দিনের জন্যও তার কাজ বেড়েছে বই কমেনি!' সারাদিনের কাজ শেষে চ্যা এতটাই ক্লান্ত হয়ে ফিরতেন যে, বাসায় কাটানো পুরোটা সময় তিনি ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিতেন। এমনকি ২০১৭ সালের আগস্টের এক শনিবার, যেদিন তার মৃত্যু হয়, সেদিনও তিনি অফিসের জন্য রেডি হতে হতে হঠাৎ বলে উঠলেন যে তার খুব ক্লান্ত লাগছে। পার্কের ভাষ্যমতে, “আমি কথাটিকে তেমন পাত্তা দেই নি। সে এমন এক কাজপাগল লোক ছিলো, যে সর্বদাই ক্লান্ত থাকত। আমার উচিৎ ছিলো তার চোখের দিকে তাকানো, সে যে কতটা অসুস্থ তা অনুভব করতে পারা। চ্যা ওইদিন আর বাড়ি ফেরেন নি। সন্ধ্যা সাতটায় মৃত্যু হয় তার। চ্যায়ের সহকর্মীরা তাকে বিদ্ধস্ত চেহারা নিয়ে অফিসের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তার মৃত্যুর সঠিক কোনো কারণ বের করা সম্ভব হয় নি।

সিএনএনের প্রতিবেদন দেয়া সরকারি হিসাবমতে, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৭ সালে চ্যা এর মতো সহস্রাধিক মানুষ মাত্রাতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুবরণ করেন। জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ উন্নত দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ানদের প্রতিদিন গড় কাজের সময় অনেক বেশি। এমনকি অতি শিল্পোন্নত দেশ বলে স্বীকৃত জার্মানির অধিবাসীদের তুলনায়ও কোরিয়ানরা প্রতিদিন দেড়গুণ বেশি পরিশ্রম করে থাকেন! এ সমস্যা সমাধানে জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ কাজের সময়কে ৬৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৪০ ঘণ্টায় এনে আইন প্রণয়ন করে। এর সঙ্গে সপ্তাহে মাত্র ১২ ঘণ্টা বেতনভুক্ত ওভারটাইমের সুপারিশ রাখা হয়।

প্রেসিডেন্ট মুন জ্যা-ইন এ আইন পাসের পর তার বক্তব্যে বলেন, অতিরিক্ত কর্মচঞ্চল সমাজ থেকে পরিবারকে প্রাধান্য দেয়া সমাজে পরিণত হওয়ার জন্য এ আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। মাত্রাতিরিক্ত কাজ, শিল্প প্রতিষ্ঠানে দূর্ঘটনা ও ঘুমকাতুরে চোখে গাড়ি চালানোর ফলে হওয়া সব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়ানোর জন্য এটি একটি মৌলিক সমাধান। কিন্তু ইতোমধ্যেই যেসব মানুষ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যস্ততার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের পরিবারগুলোর দূর্দশা চলতেই থাকে- বিশেষ করে ক্ষতিপূরণের জন্য তো রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়! স্বামীর মৃত্যু কর্মস্থলে হওয়ায়, পার্ক ভেবেছিলেন এটিকে কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হবে এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। শীঘ্রই তিনি বুঝতে পারলেন, কোরিয়াতে এ কথা ভাবা যতটা সহজ, পাওয়া ততটাই কঠিন। কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কোরিয়া সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘কমওয়েল’ পার্ককে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করার নির্দেশ দেন যে, চ্যায়ের মৃত্যু কী সত্যিই তার অফিসের কাজের চাপে হয়েছিল?

যদিও চ্যা প্রতিদিন সকাল সাতটায় অফিসে যেতেন ও রাত ১০ টায় ফিরতেন। তার অফিসে কোনো ওয়ার্ক লগ না থাকায় তার স্ত্রী পার্ক এর পক্ষে তা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। শেষে তার অফিসের পাশের হাইওয়ের একটি সিসি ক্যামেরার রেকর্ড থেকে তা প্রমাণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু শনিবারে অন্যত্র অফিস করায় তার রেকর্ড পাওয়া সম্ভব হয়নি। শুধু সপ্তাহের ৬ দিনের হিসাব করেই দেখা যায়, মৃত্যুর আগের দু সপ্তাহেই চ্যা কাজ করেছিলেন ১৮০ ঘণ্টা! যদিও অতিরিক্ত কাজের ফলে মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় কোনো সাংবিধানিক বিধান নেই, তারপরো সপ্তাহে ষাট ঘণ্টা বা তার অধিক কাজের জন্য হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকে মৃত্যু হলে কমওয়েল তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুপারিশ করে থাকে। কমওয়েলের সহায়তায়ই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ে সমর্থ হন পার্ক। গোয়ারোসায় মৃত্যুর কারণে খুবই অল্প সংখ্যক ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত কোরিয়ানদের মধ্যে চ্যা একজন। সাধারণের তুলনায় অতিরিক্ত কাজ করাটা কোরিয়ান সংস্কৃতিরই একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ কোরিয়ান মনে করেন, বেশি কাজে করা মানেই উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। পরিসংখ্যান কিন্তু মোটেও তা বলছে না। অরগ্যানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্টে (ওইসিডি) এর অন্যতম সদস্য দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। ৩৬ সদস্য দেশবিশিষ্ট জোটের মধ্যে দৈনিক গড় কর্মঘণ্টার হিসেবে মেক্সিকো ও কোস্টারিকার পরেই কোরিয়ার অবস্থান। কিন্তু ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতার দিক থেকে এই ৩৬ দেশের মধ্যে কোরিয়ানদের অবস্থান তলানিতে (শেষ থেকে তৃতীয়)।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে অবস্থার উন্নতিও লক্ষণীয়। অনেক কোরিয়ান অতিরিক্ত কাজের কুপ্রভাব সম্পর্কে নিজেদের সচেতন করে তুলছেন। কিম উ-টার্ক নামের এক শ্রম আইনজীবী এ সম্পর্কে বলেন- অতিরিক্ত কাজের এই সংস্কৃতিকে বলা চলে দুই কোরিয়া যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ, যে যুদ্ধ আজকের দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজের আঙ্গিক তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। যুদ্ধের পর অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে সব কোরিয়ানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিলো সময়ের প্রয়োজন। মানুষের সহনশীলতার চেয়ে অতিরিক্ত কাজে তখন থেকেই কোরিয়ান সংস্কৃতি ও প্রথার একটি অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।

গত বছর প্রেসিডেন্ট মুন ক্ষমতায়েআসেন সাপ্তাহিক কর্মমঘণ্টা সংক্ষিপ্তকরণ ও কর্মমক্ষেত্রে মানসিক চাপময় পরিবেশের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। পহেলা জুলাই থেকে নতুন করা আইনের প্রয়োগ হিসেবে আপাতত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫২ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যেসব কোম্পানিতে অন্তত তিনশতাধিক কর্মী রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আইনটি প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে এ আইনের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে কোরিয়ান টেলিকম (কেটি)। তাদের প্রত্যেক কর্মী নিজ মনিটরে 'কাজ শেষ হতে কতক্ষণ বাকি' এরকম একটি ঘড়ি দেখতে পারে। দিনের কাজের সময় শেষ হওয়ার পর ম্যানেজাররা কর্মীদের বাড়িতে যেতে এবং ওভারটাইম না করতে সহায়তা করেন! এ আইন প্রয়োগের ফলে সমাজে আরো বড় পরিসরে সুফল আসছে। সরকারি হিসাব বলছে, আইন প্রয়োগের মাত্র তিন মাস যেতেই নতুন তেতাল্লিশ হাজার পদ সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানীগুলো বাধ্য হচ্ছে পুরানো কর্মীদের দিয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ না করিয়ে নতুন লোক নেয়ার জন্য।

মূল লেখা : জেক কন ও আলেকজান্দ্রা ফিল্ড (সিএনএন) (সংক্ষেপিত)

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
মনোনয়ন ফরম কিনেছেন যে তারকারা
মনোনয়ন ফরম কিনেছেন যে তারকারা
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ মুক্তি পাচ্ছে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘হাসিনা- এ ডটারস টেল’ মুক্তি পাচ্ছে
বিয়ের পিঁড়িতে আবু হায়দার রনি
বিয়ের পিঁড়িতে আবু হায়দার রনি
কুমিল্লায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত !
কুমিল্লায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত !
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
উত্তাপ বাড়ছে নোয়াখালী-৫ আসনে
উত্তাপ বাড়ছে নোয়াখালী-৫ আসনে
স্বামীকে খুশির খবর দিলেন আনুশকা, জানেন কী?
স্বামীকে খুশির খবর দিলেন আনুশকা, জানেন কী?
প্রভার বিয়ের আয়োজন!
প্রভার বিয়ের আয়োজন!
মদেই ‘বেসামাল’ প্রিয়াঙ্কা!
মদেই ‘বেসামাল’ প্রিয়াঙ্কা!
জন্ম ভারতে, পর্ন স্টার আমেরিকার!
জন্ম ভারতে, পর্ন স্টার আমেরিকার!
পর্ন সাইটে হিনার ‘রগরগে’ ছবি!
পর্ন সাইটে হিনার ‘রগরগে’ ছবি!
অরুণ হাতের নখ কাটেনি ২৫ বছর!
অরুণ হাতের নখ কাটেনি ২৫ বছর!
‘বিছানায় তো হরহামেশাই যেতে হয়’
‘বিছানায় তো হরহামেশাই যেতে হয়’
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
অভিনেত্রীকেই শেখালেন অভিনেত্রী, কী জানেন?
অভিনেত্রীকেই শেখালেন অভিনেত্রী, কী জানেন?
সুস্মিতার বিয়ে পাকা ১৪ বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে!
সুস্মিতার বিয়ে পাকা ১৪ বছরের ছোট প্রেমিকের সঙ্গে!
মোনালিসার বিয়ে, পাত্র কে জানেন?
মোনালিসার বিয়ে, পাত্র কে জানেন?
আদালতে যা বললেন খালেদা জিয়া
আদালতে যা বললেন খালেদা জিয়া
​সম্পর্ক ছিল না তাদের, তবুও সমালোচনায়...
​সম্পর্ক ছিল না তাদের, তবুও সমালোচনায়...
শিরোনাম:
ময়মনসিংহে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু; অসুস্থ দেড় শতাধিক ময়মনসিংহে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু; অসুস্থ দেড় শতাধিক যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে মনোনয়ন দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী; দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহ করলে কঠোর ব্যবস্থা যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে মনোনয়ন দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী; দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহ করলে কঠোর ব্যবস্থা নির্বাচন না পেছাতে ইসিকে আওয়ামী লীগের অনুরোধ: এইচ টি ইমাম নির্বাচন না পেছাতে ইসিকে আওয়ামী লীগের অনুরোধ: এইচ টি ইমাম নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল তফসিল পেছানো যায় কি না, কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে: ইসি সচিব তফসিল পেছানো যায় কি না, কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে: ইসি সচিব