কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে মাস্কের গুরুত্ব 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৭,   ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে মাস্কের গুরুত্ব 

 প্রকাশিত: ১৪:১৩ ২৪ জুলাই ২০২০  

ডা. মো. সোহরাব হোসেন

ডা. মো. সোহরাব হোসেন রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য ভাইরাল জুনোস বিশেষজ্ঞ। কাজ করেছেন জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ পরামর্শক হিসেবে। বর্তমানে রেবিজ ইন এশিয়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রেবিজ টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যও তিনি। লেখালেখিতেও রয়েছে বিশেষ ঝোঁক। স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা পরামর্শমূলক লেখা নিয়ে সরব রয়েছেন গণমাধ্যমে।

বাংলাদেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয় । এ দেশ এরইমধ্যে পৃথিবীর অধিক পরিমাণ করোনা সংক্রমণশীল দেশসমূহের কাতারে অন্যতম স্থান দখল করেছে। ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহের মধ্যে বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষা কম হলেও জনসংখ্যা অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা  বেশি,  প্রতি ১০ লাখে  বাংলাদেশে আক্রান্ত ১ হাজার ২৩৯, ভারতে ৭৫৪, পাকিস্তানে ১ হাজার ১৮৫ জন এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে সংক্রমণের সংখ্যা ১ হাজারের কম (প্রথম আলো, ১৯ জুলাই, ২০২০) এবং রোগ সনাক্তের গড় হার এ অঞ্চলের অধিকাংশ দেশ অপেক্ষা বাংলাদেশে  বেশি, ২০% বা তদুর্দ্ধ, ভারত ৭%, পাকিস্তান ১৫% বা তার চেয়েও কম (প্রথম আলো ২০ জুলাই, ২০২০)। করোনা বিস্তারের ক্রমাবনতির পরিবর্তন না হলে এ দেশের কি সর্বনাশ হতে পারে তা সকলের ভেবে দেখা বিশেষ প্রয়োজন।  

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের এ অধোগতির জন্য যে শুধু সরকারই দায়ী, জনসাধারণের কোনো দায়বদ্ধতা নেই তা বলা যাবে না। কারণ এ সমস্যা নিরসনে সরকার এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্ৰথম থেকেই অত্যাবশ্যক ছিল। ব্যাপক পরীক্ষার মাধ্যমে কোভিড-১৯ রোগী সনাক্ত এবং সুচিকিৎসার  ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব এবং এ কাজে সরকারকে সহজোগিতা প্রদান, জনগনের কর্তব্য। এ রোগ প্রতিরোধের কৌশলসমূহ বাস্তবায়নে জনগণের  সরাসরি অংশগ্রহণও অত্যাব্যশ্যক। করোনা প্রতিরোধ কৌশল যেমন লগডাউন (অধিকহারে সংক্রমণ প্রবন এলাকায় অবস্থানকারীদের অবরুদ্ধ থাকা), কোয়ারেন্টাইন (সঙ্গনিরোধ থাকা), আইসোলেশন (রোগীকে অন্যদের নিকট হতে পৃথক থাকা ), সামাজিক দূরত্ব (পরস্পর দূরত্ব বজায় রেখে চলা), মাস্ক পরিধান, বারংবার সাবান পানি দিয়ে  হাত ধোওয়া, হাঁচি কাশির শিষ্টাচার প্রভূতি আচারাদি অনুশীলন করা জনসাধারণের কাজ। কিন্তু বাস্তব অর্থে এ দেশের মানুষ কি তা করছে? বরং এ ক্ষেত্রে তারা যে ঔদাসীন্য প্রদর্শন করছে তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশেই হয়তো এর নজির পাওয়া যাবে না। মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে, চলাফেরা, কাজকর্ম , ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভূতি নানা ক্ষেত্রে যে বেপরোয়া আচরণ প্রদর্শন করছে তাতে মনেই হয় না এদেশে কোভিড-১৯ এর মত একটি ভয়ংকর মহামারী বিরাজ করছে। করোনা সকলের জন্য সমান বিপজ্জনক নয়। অপেক্ষাকৃত কম বয়স বা সুস্থ সবল মানুষের বেলায় এরোগ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তার রোগ নমুনা প্রকাশ পায় না বা আক্রান্ত ব্যাক্তি অনুধাবন করতে পারে না। কিন্তু এক্ষেত্রেও সে যতক্ষণ করোনা পজিটিভ থাকে ততক্ষণ অন্যকে ইহার বিস্তার ঘটায়। সুতরাং করো না সংক্রম বিস্তার রোধে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য রোগী এবং সুস্থ মানুষ সকলেরই স্বাস্থ্যবিধি তথা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা, মাস্ক পরিধান, বারংবার সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি কাশি শিষ্টাচার অনুশীলন করা আবশ্যক।      

মাস্ক পরিধান করা এতো বেশি জরুরি কেন?
মানুষের কফ, থুতু,  হাঁচি, কাশি, অট্র হাসি এবং কথা বলা ও শ্বাস-প্রশাসের সময় নাক মুখ দিয়ে লক্ষলক্ষ  ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলকণা বের হয়ে আসে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষের নাক মুখ হতে বিচ্ছুরিত এ সকল  জলকণার সঙ্গে করোনা ভাইরাস বের হয়ে আসে  তা সরাসরি বা বাতাসে ভাসমান অবস্থায় নাক, মুখ ও চোখ দিয়ে  সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতঃ এ রোগের  সংক্রমন ঘটায়।  সুতরাং  করোনা পজিটিভ যেকোন ব্যক্তি মাস্ক পরিধান করলে তা উক্ত ব্যাক্তি হতে বিচ্ছুরিত  ভাইরাস সমৃদ্ধ জলকণা  অন্যের নিকট গমনের পথে প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে এবং তার দ্বারা অন্যেরা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অপরদিকে সুস্থ মানুষ মাস্কপরিধান করলে তা তার নাক ও মুখে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্যের নিকট  হতে ও বিচ্ছুরিত ভাইরাস সমৃদ্ধ জলকণা দ্বারা তাকে সংক্রমণ বাধাগ্রস্থ হয়। ফলে এ রোগ সংক্রমণ সম্ভাবনা বহুলাংশে হ্রাস পায়। সুতরাং মাস্ক পরিধানের মতো অতি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করেও করোনা সংক্রমণ হার বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব হতে পারে। 

সকলের জন্য মাস্ক ব্যবহার সহজ ও অপরিহার্য করতে নিম্নবর্ণিত বাবস্থাবলী গ্রহণ করা আবশ্যক।  

১) মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারে সকলকে সচেতন, অভ্যস্থ ও উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক প্রচার করা ।  

২) মাস্কের প্রাপ্যতা সহজ করতে প্রস্তুতকারী সংস্থাকে প্রচুর পরিমাণ তা তৈরি ও বাজারজাত করতে উদ্বুদ্ধ করা।  
 
৩) প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সব নাগরিক কর্তৃক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জনস্বার্থে আইন প্রয়োগ করা।

এ দেশে করোনাকাল কত দিনে শেষ হবে তা বলা দুঃসাধ্য বিষয়। সুতরাং যেহেতু মাস্ক পরিধান করোনা প্রতিরোধের একটি সহজ কৌশল কাজেই সকলেরই এর অনুশীলন করা একান্ত আবশ্যক।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর