Alexa কোথায় গেল আমাদের সৎ চিন্তা?

ঢাকা, সোমবার   ২০ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৬ ১৪২৬,   ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

কোথায় গেল আমাদের সৎ চিন্তা?

 প্রকাশিত: ০৭:৪১ ২৭ এপ্রিল ২০১৮  

নয় মাস মায়ের গর্ভে অনেক যুদ্ধ কষ্ট করার পর জন্ম হয় একটি শিশুর। তারপর দুনিয়াতে শুরু হয় তার যাত্রা। অনেক যুদ্ধে জয়ী হয়ে পৌঁছতে হয় নির্দিষ্ট একটি জাগায়। ছেলে হোক বা মেয়ে, আজকের দুনিয়াতে দুই লিঙ্গেরই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য যুদ্ধ করতে হয়। যার জন্য অনেক সময়ই তাকে হতে হয় অপমানিত, ক্ষতি, অবহেলা, গালিগালাজ অথবা টিটকারির স্বীকার। তবে এসব একটি ছেলে থেকেও বেশি হতে হয় একটি মেয়েকে। আসলে বাস্তব সত্য কথা হলো একটা মেয়েকে অনেক কিছুই সহ্য করতে হয়।

নিশ্চই ভাবছেন কিভাবে, কি বলছি এগুলো, তাই না? আচ্ছা একটু উদাহরণ দিয়ে বলা যাক:

একটা মেয়ে মিডিয়াতে কাজ করে বা একটা ছেলে। কিন্তু আমাদের ধারণা এতটাই নিম্নমানের হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মিডিয়াতে কাজ করা মানেই খারাপ। আর মিডিয়া মানেই খারাপ তা তো আছেই! একজন মিডিয়া পার্সোন খারাপ হতেই পারে বা সংখ্যা একের অধিক হতেই পারে কারণ খারাপ ভালো মিলিয়েই তো দুনিয়া। তাই বলে সব মিডিয়া পার্সোনকে তো আর আমরা খারাপ বলতে পারবো না। অনেক মিডিয়া পার্সোন আছেন যারা স্ব-সম্মানে নিজের পার্সোনালিটি বজায় রেখে অনেক কষ্ট পরিশ্রম করে দিনের পর দিন কাজ করে যাচ্ছে। একজন খারাপ বলে সবাই খারাপ হবে এটা বলার অধিকার কি আপনার বা আমার আছে? প্রশ্নের উত্তরটা না হয় নিজের কাছেই থাক।

আবার, জার্নালিজমে পড়াশুনো করা মানেই একটা ভাল মেয়ে-ছেলে খারাপ হয়ে যাবে বা একটা খারাপ ছেলে-মেয়ে আরো খারাপ হবে এমনটাও কিন্তু নয়। তবে বর্তমানে তা শোনা যাচ্ছে। এ সকল কথা কিন্তু আপনি দূরে থেকে বলে দিতে পারেন না। এমনো ব্যক্তি সেখানেই বিদ্যমান আছে যারা নিজেকে নিয়ে সবখানে মানিয়ে চলতে পারে সু-সম্মানের সঙ্গে এবং সে জানে তাকে কি গ্রহণ করতে হবে আর কি নয়।

আবার বলা হয় ইন্টারনেট, ফেসবুক নিজের জীবনকে ধ্বংস করছে। কিভাবে আপনি ধারণা করে বলে দিতে পারেন এমন কথা। হুম, কিছু সংখ্যক ব্যক্তি এর খারাপ ব্যবহার করছে ঠিকই কিন্তু আরো কোটি কোটি মানুষ এর ব্যবহার অনেক ভালোভাবে করছে যা কিনা আমাদের পৃথিবী ও জীবনের জন্য সুবিধা বয়ে নিয়ে এনেছে।

অন্যদিকে হিজাবী বা বোরকা পড়া মেয়েদের অনেকেই দেখতে পারেন না। এর কারণ অনেকেই এই পবিত্র পোশাকের অপব্যবহার করছেন। আবার অনেকে খ্যাত মনে করেন আর মনে করেন তাদের চিন্তা বা জীবন ব্যবস্থা মর্ডান বা উচ্চ চিন্তাশীলতার নয়। অনুগ্রহ করে এমনটি মনে করে নিজের গুনাহার পাহাড় করবেন না আর যারা এই পোশাকের ভাল ব্যবহার করছেন তাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন না।

অনেক মা-বাবা তার সন্তানকে নিয়ে চিন্তা করেছেন যে, তার সন্তান পড়াশুনোয় মনোযোগী নয় শুধু টেলিভিশন দেখতে চায়। মা-বাবা বকার আগে অথবা হায় হায় করার আগে চিন্তা করে দেখুন আপনি ওই অভ্যাসটি গড়ে তুলিছেন কিনা ছোট থেকে অথবা আপনার মধ্যে ওই অভ্যাস বিদ্যমান কি না?

আজ কালকার কিছু শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতীদের হাই প্রেশার, ব্রেইন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। মানসিক রোগের স্বীকার হচ্ছে তারা। এর অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু আমরা কি এ কারণগুলো নিয়ে একটি বারও চিন্তা করি, হয়তো না আবার হয়তো হ্যাঁ। সন্তানের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক করতে পারছেনা অনেক মা-বাবা, অনেক মা-বাবা তার নতুন যুগে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না আবার মানিয়ে নেবার চেষ্টাও করছেন না। যার ফলে সন্তান সঙ্গে নিজেও ভুগছেন।

আবার আমাদের সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়ন খুবই ধীরগতি সাধিত বলে সমাজের সঙ্গেও খাপ-খাওয়াটা বেশ মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের নিম্নমানের চিন্তাশীলতা যা আমাদের কেই শেষ করছে।

দুঃখ লাগে, কোথায় গেল আমাদের সৎ চিন্তা। কোথায় গেলো আমাদের সেই নীতি বাক্যগুলো। সেগুলো কি শুধু পাঠ্যপুস্তকে আবদ্ধ করে রাখলে হবে নাকি নিজের জীবনেও তার প্রভাব ফেলতে হবে। আমরা কি পারি না আমাদের সেই সৎ চিন্তাগুলো ফিরিয়ে এনে জীবনকে সহজ করে তুলতে? একটা কথা আমাদের সবারই মনে রাখা উচিৎ, জীবন কিন্তু একটাই। তাই এই জীবনে সকল দুঃখ কষ্টকে মাটি দিয়ে, সমস্ত চিন্তা ভুলে গিয়ে সবার সঙ্গে মিলে মিশে থাকার চেষ্টা করি আমরা। হয়তো পারবো আবার হয়তো না। তবে চেষ্টা তো আমরা করতেই পারি!

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

[এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এর দায় ভার পুরোপুরি লেখকের। ডেইলি বাংলাদেশ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।]

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস