ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, ওসি মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, ওসি মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০১ ১০ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২১:১৮ ১২ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সোহেল মীর (৫৫) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুলিশ সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপরও তার মুক্তি মেলেনি। মেয়ের বাসায় যাওয়ার বদলে যেতে হয়েছে কারাগারে। গত ২ আগস্ট কোতোয়ালী থানার আম্বিয়া টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সোহেল মীর জানান, ২ আগস্ট রাজধানীর বসুন্ধরায় মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু মেয়ের বাসায় যাওয়ার বদলে তাকে যেতে হয়েছে হাজতে। প্রথমে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের শিক্ষার্থীদের সামনে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে পুলিশ কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেয় পুলিশ। তারপরও তাকে সাধারণ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। 

পরে ১০ আগস্ট এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা করেন সোহেল মীর। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তদন্ত করে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় অপর আসামিরা হলো- কোতোয়ালি থানার এসআই পবিত্র সরকার (৪২), এসআই খালিদ শেখ (৪৫), এএসআই শাহিনুর রহমান (৪২), কনস্টেবল মো. মিজান (৫২) ও সোর্স মোতালেব।

এ বিষয়ে লালবাগ বিভাগের ডিসি বিপ্লব বিজয় তালুকদার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মামলাটি আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্তের পর রিপোর্ট দেয়া হবে।

অপরদিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ–উন নবী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি জানান, ২ আগস্ট ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সব বন্ধ ছিল। সেদিন কাউকে গ্রেফতার হয়েছে কিনা তা তার জানা নেই। 

মামলায় বাদীর এজাহার ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২ আগস্ট কেরানীগঞ্জ থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে কোতোয়ালী থানার গুদারাঘাটে নেমে আম্বিয়া টাওয়ার এর সামনে এলেই মামলার আসামি এসআই পবিত্র সরকার, কনস্টেবল মিজান ও সোর্স মোতালেব সোহেল মীরের পথ আটকে তল্লাশি করে। কিছু না পেয়ে পকেটে থাকা দুই হাজার ৯শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়। টাকা ফেরত চাইলে ব্যবসায়ী সোহেল মিয়াকে মারপিট করে এবং ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলে। কিন্তু সোহেল ফের টাকা ফেরত চাইলে এসআই খালেদসহ অন্যরা তার নামে থানায় জেএমবি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পথচারীরা সমবেত হতে থাকলে কনস্টেবল মিজানুর রহমান নিজের পকেট থেকে ২১৪ পিস ইয়াবা বের করে সোহেলের পকেটে দিয়ে ছবি তোলেন। পুলিশ পথচারীদের বলে সোহেলের কাছ থেকে এসব মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখলে ঘটনার বিস্তারতি সত্যতা পাওয়া যাবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। সোহেল মীর ওই দিন মিটফোর্ড হাসপাতালের ধারে কাছেও যাননি বলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। 

পরে সোহেল মীরকে জেএমবি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। থানায় নিয়ে তার স্বজনদের আসতে বলেন এসআই খালিদ। সোহেলের স্ত্রী সাবিনা খাতুন ও বোন রাতে থানায় এলে  ওসি মিজানুর রহমানসহ অন্যরা বলেন- তাকে ছাড়াতে হলে ৫ লাখ টাকা লাগবে। না হলে কয়েকটা মামলায় ফাঁসানো হবে ও ক্রসফায়ারে দেয়া হবে। 

সাবিনা খাতুন জানান, কোনো উপায় না পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ২ লাখ টাকা দেন এসআই খালিদ ও এসআই পবিত্র সরকারকে। এ সময় এসআই শাহীনও উপস্থিত ছিলেন। পরে এসআই খালিদ আরো দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। তাহলে সোহেলকে সাধারণ মামলা দিয়ে কোর্টে পাঠানো হবে। পুলিশই উকিল দিয়ে ছাড়িয়ে আনবে। পরে সকালে দেড় লাখ টাকা দিলে কথা মতো কাজ করেন খালিদ। কোর্টে তার দেয়া উকিল ছাড়িয়ে আনেন সোহেলকে।

এ বিষয়ে সাবিনা আরো বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আদালত তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমরা সুবিচার চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এসআই