Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

কোটা বাতিল: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সাংবিধানিক

 নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২৪, ১১ এপ্রিল ২০১৮

আপডেট: ২১:৫১, ১১ এপ্রিল ২০১৮

৭৮১ বার পঠিত

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি চালু থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এর প্রতিফলন ঘটে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হলেও এ নিয়ে তেমন জোরালো পদক্ষেপ কোনো পক্ষই নেয়নি। তবে গত কয়েকদিন ধরে এই ইস্যুতে সরাসরি রাজপথে নামে দেশের শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারে সরকারি সিদ্ধান্তের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের ডাক দেয়। ফলে অচল অবস্থা দেখা দেয় শিক্ষাঙ্গনে।

পরিস্থিতি শামাল দিতে সরকার পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে সোমবার আন্দেলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি নীতিগতভাবে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এক মাসের সময় চান। তাৎক্ষণিক সমঝোতা হওয়ার পরেও সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আন্দোলনকারীরা আবারো রাস্তায় নেমে আসে।

পরিস্থিতির এই মোড় পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটা পদ্ধতি আমাদের সংবিধানের বর্ণিত মৌলিক অধিকারের কিছুটা পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(১) এ বলা হয়েছে, কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।

অনুচ্ছেদ ২৯(১) অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে। (২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

(৩) এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই-

(ক) নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইবে। রাষ্ট্রকে নিবৃত্তি করিবে না।

এ থেকে বোঝা যায়, বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক ও যৌক্তিক। এক্ষেত্রে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে কোটা বাতিল ঘোষণার পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থাগ্রহণের কথাও বলেছেন। যা সংবিধানে উল্লেখিত বিধানেরই প্রতিধ্বনি। রাষ্ট্র সংবিধান অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা নেবে। তাতে বিভ্রান্তিকর কিছু নেই। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাটি সংবিধানেরই সঠিক বাস্তবায়ন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এসআই

সর্বাধিক পঠিত