Alexa কে হচ্ছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনে এমপি?

ঢাকা, সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬,   ১৪ সফর ১৪৪১

Akash

কে হচ্ছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনে এমপি?

আব্দুল্লাহ আল মামুন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৮ ১৭ মে ২০১৯   আপডেট: ২০:৪২ ১৭ মে ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তফসিল অনুযায়ী আগামী সোমবারের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, তফসিল ঘোষণার প্রায় ৯ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। এই অবস্থায় গুঞ্জন উঠেছে কে হচ্ছেন বিএনপির নারী এমপি?

গত সোমবার ২০ দলীয় জোটের সর্বশেষ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শরিক নেতাদের জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একজনকে মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে বৈঠকে নির্দিষ্ট কারো নাম জানাননি তিনি।

এদিকে সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে প্রকাশ্যে কোনো তৎপরতা না থাকলেও গোপনে গোপনে লবিং-তদবির ও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বিএনপিতে। নীতিনির্ধারকদের কাছে সাংগঠনিক যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে মনোনয়ন চাইছেন তারা। রাজনৈতিক দক্ষতা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করা হলে মনোনয়ন পাবেন, এমন প্রত্যাশাও করছেন বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী। আর এজন্য দলের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।

সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় যারা আছেন:

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক মহিলা এমপি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির। তবে জানা গেছে, এদের মধ্যে লন্ডন দৌড়ে এগিয়ে আছেন শ্যামা ওবায়েদ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও নিপুন রায় চৌধুরী।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হারুন অর রশীদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

অপরদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যাংকক গেছেন। ওখান থেকে তিনি লন্ডন যাবেন। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সংরক্ষিত নারী আসন ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

সূত্রটি আরো জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে একমাত্র প্রার্থী বাছাইয়ে দলের মধ্যে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যারা নির্বাচনে সাধারণ আসনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের সংরক্ষিত আসনে না দেয়ার দাবি উঠছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

দলটির নিবার্হী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের আন্দোলন চলছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াইয়ে আমি সব সময় রাজপথে থেকেছি, আছি ও থাকবো। চেয়ারপারসনের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আমি একাধিকবার এই সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখন দল ও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাকেই আমি স্বাগত জানাব।

এদিকে নানা নাটকীয়তা শেষে দলীয়ভাবে সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মাত্র ৬ জন নির্বাচিত হন। যদিও মির্জা ফখরুল শপথ নেননি।

শেষ মুহূর্তে বিএনপির নির্বাচিত পাঁচজন সংসদে যোগ দেয়ায় দলটির ভাগের একটি নারী আসন পড়েছে। সেই অনুপাতে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী ২০ মের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র একজন রয়েছেন। এতদিন নির্বাচিতরা শপথ না নেয়ায় বিএনপির জন্য নির্ধারিত একটি নারী আসন স্থগিত রাখা হয়েছিল।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা ২০ মে, বাছাই ২১ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৮ মে ও ভোট ১৬ জুন।

সাধারণত দলগুলো একক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় নারী প্রার্থীদের। মির্জা ফখরুলের আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ভোটের তফসিল দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর