Alexa কে এই ‘রিভলবার দাদী’, ৮৭ বছর বয়সেও বন্দুকবাজিতে সেরা?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

কে এই ‘রিভলবার দাদী’, ৮৭ বছর বয়সেও বন্দুকবাজিতে সেরা?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১০ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:১৭ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বয়সের ভারে বেশ নুয়ে পড়েছেন তিনি। খুব জোরে হাঁটাচলা করতে পারেন না। বলিরেখা ভরা মুখ, বয়সের ভারে কোমরের সমস্যা থাকায় বাঁ হাতটা কোমরে রেখেই হাঁটেন। বয়স হার মেনেছে শুধু একটা জায়গাতেই। নিশানা আর লক্ষ্যভেদ। 

দৃঢ় দৃষ্টি আর নির্ভুল নিশানায় আজও তিনি যেকোনো লক্ষ্যকে ভেদ করতে পারেন। এই বয়সেও তার বন্দুকবাজিতে মেতে সারা গ্রাম। তিনি ‘রিভলবার দাদি’। প্রকৃত নাম চন্দ্র তোমর। বিশ্বের প্রবীণতম শুটার।

যে বয়সে কাজ থেকে অবসর নিয়ে নেন সবাই, সেই বয়স থেকেই এক নতুন যাত্রা শুরু করেন চন্দ্র। ৬৫ বছর বয়সে তিনি প্রথম তার অসামান্য এবং নির্ভুল শুটিংয়ে তাক লাগিয়ে দেন বিশ্বকে। এখন তিনি ৮৭ বছরের। বয়সের ছাপ যদিও বন্দুকবাজিতে বিন্দুমাত্র পড়েনি। 

অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন তিনিউত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার জহরি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। প্রত্যন্ত এই গ্রামে মেয়েদের বাড়ির বাইরে বেরনো ছিল একপ্রকার ‘নিষিদ্ধ’। নাররা বাইরে গিয়ে কাজ করবেন! ছি ছি পড়ে যেত গ্রামে। এমন একটা গ্রামে থেকে ৬৫ বছর বয়সে বাড়ির বাইরে পা দেয়াটা ভীষণ কঠিন ছিল তার কাছে। কিন্তু নিশানা যদি সঠিক হয়, লক্ষ্যভেদ যে হবেই। রিভলভার দাদির ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। 

ছোট থেকেই শুটিংয়ে খুব আগ্রহ ছিল তার। তবে রক্ষণশীল পরিবারে কোনো দিন মুখ ফুটে নিজের ইচ্ছা জাহির করার অবকাশ ছিল না। সংসার, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি এই নিয়েই জীবনের ৬৫টা বছর কাটিয়ে দেন তিনি। তার ৮ সন্তান, ১৫ নাতি-নাতনি। নাতনি শেফালির বন্দুকবাজিতে আগ্রহ দেখে একদিন তাকে সঙ্গে করে জহরির রাইফেল ক্লাবে ভর্তি করাতে যান চন্দ্র। সেখানে গিয়ে নিজে হাতে বন্দুক তুলে শুট করেন। 

রিভলবার হাতে বামে ভূমি পেডনেকর ও ডানে তাপসী পান্নুপ্রথম শুটিংয়েই টার্গেটের ঠিক মাঝখানে লাগিয়ে দেন তিনি। তার বন্দুকবাজি দেখে রাইফেল ক্লাবের প্রত্যেকে অবাক হয়ে যান। নাতনির সঙ্গে তাকেও প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য জোরাজুরি করেন কোচ। দাদিও তাতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু প্রশিক্ষণ নিতে গেলে যে সময় তাকে দিতে হবে, তার উপায় ছিল না। এর তীব্র বিরোধী ছিল তার রক্ষণশীল পরিবারও। প্রথম প্রথম স্বামীর সমর্থনও পাননি তিনি। গ্রামবাসীরাও তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে শুরু করে।

সব বাধা উপেক্ষা করে ৬৫ বছর বয়সে নতুন পথে চলা শুরু তার। পরিবারের কেউ যাতে তার দিকে আঙুল তুলতে না পারেন, সেজন্য ভোরে ঘুম থেকে উঠে সংসারের কাজ করতেন। রান্না করা, গরুর দেখভাল করা- এসব শেষ করে তারপর যেতেন প্রশিক্ষণ নিতে। আর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে বাড়িতেই চর্চা করতেন তিনি। ভারী বন্দুক ধরে নিশানা করার সময় হাত যাতে কেঁপে না যায়, তাই একটা বড় জগে জল ভর্তি করে দীর্ঘক্ষণ বন্দুকের মতো ধরে থাকতেন। ফের সকাল হলেই সংসারের কাজে লেগে পড়তেন।

এভাবেই লক্ষ্যভেদ করে ১০০টারও বেশি পদক জিতে নিয়েছেন তিনি। তারমধ্যে ৩০টা জাতীয় স্তরের পুরস্কার রয়েছে। তিনি বিশ্বের প্রবীণতম শুটার। এতদিন যারা তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতেন, তারাই এখন সমীহ করে চলেন। পরিবারও তাকে পূর্ণ সমর্থন দেয়। চন্দ্র তোমর বর্তমানে গ্রামের অনুপ্রেরণা। জোহরি থেকে বহু মানুষ শুটিং প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেছেন তার কাছে। গ্রামের মেয়েরাও শুটিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন। 

প্রকাশি তোমর ও চন্দ্র তোমরশোনা যায়, গ্রামে কোনো মেয়ের বিয়ে দেয়ার সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে পণ চাইলে তারা নাকি দাদি আম্মার কথা বলা হয়। দাদি আম্মার নাম শুনে কেউ আর পণ নেন না। সম্প্রতি তার জীবনী ক্যামেরাবন্দি করেছেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। চলতি বছরই চন্দ্রার বায়োপিক ‘সান্ড কি আঁখ’ মুক্তি পাবে। তাতে তাপসী পান্নু এবং ভূমি পেডনেকরকে দেখা যাবে।

জহরি গ্রামে আরও এক দাদি আম্মা রয়েছেন। তারও রিভলভারের নিশানা তাক লাগানো। তিনি প্রকাশি তোমর। তিনি সম্পর্কে চন্দ্র তোমরের জা। ২০০০ সালে প্রকাশি তোমর শিরোনামে আসেন। তার বয়সও ৬০ বছর পেরিয়েছে। বড় জা চন্দ্র তোমরই তার অনুপ্রেরণা, জানিয়েছেন তিনি। তারও কাহিনি অনেকটা চন্দ্রর মতোই। 

চন্দ্র তোমরের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মেয়ে সীমা তোমরকে তিনি রাইফেল ক্লাবে ভর্তি করাতে গিয়েছিলেন। কারণ মেয়ে সীমাও একা যেতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন। কীভাবে রাইফেল ধরে নিশানা লাগাতে হয়, তা সীমাকে হাতে ধরে বোঝাচ্ছিলেন নিজেই। তার নিশানা দেখে অভিভূত হয়ে যান কোচ। তাকে প্রশিক্ষণ নিতে বলেন তিনি। ‘সান্ড কি আঁখ’ ছবিতে তার উল্লেখও রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস