কেমন হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইফতার পার্টি

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ২ ১৪২৬,   ১১ শাওয়াল ১৪৪০

কেমন হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইফতার পার্টি

 প্রকাশিত: ১২:৪২ ৮ জুন ২০১৮  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম বিশ্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বরাবরই নিম্নমুখী। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে নিজের ইমেজ একটু শক্ত করতেই হয়তো পবিত্র মাস রমজান উপলক্ষে ট্রাম্প তার বাস ভবনে আয়োজন করলেন এক ইফতার ডিনারের। ইফতার ডিনারটি আয়োজিত হয় গত ৬ জুন, বুধবার। অনুষ্ঠানটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলামকে পৃথিবীর অন্যতম ‘মহান’ ধর্ম বলে আখ্যা দেন।

ইফতার ডিনারটিতে অংশ নেন সৌদি আরব, লিবিয়া, কুয়েত, আরব আমিরাত, জর্ডানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতগণ। সেইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের মন্ত্রীসভার সদস্য বর্গ।

সমবেত অতিথিদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আজকে আমরা সবাই একটি মহান ধর্মের অনুসারীদের পবিত্র একটি প্রথাকে সম্মান জানাতে একত্র হয়েছি।’’

নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি মুসলিমদেরকে আমেরিকায় প্রবেশাধিকারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চান, সেই ট্রাম্পের মুখে এই কথাকে অনেকেই বলছেন নাটকীয় পরিবর্তন।
তিনি গত বছর সৌদি আরবে তার দুই দিনের সফরকে ‘‘জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দুই দিন’’ বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প এমন সময়ে এই আয়োজনটি করলেন যখন সুপ্রিমকোর্ট তার সরকারের ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আইনী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। এ মাসের শেষ দিকে চ্যালেঞ্জের রুল হওয়ার কথা রয়েছে। যে নিষেধাজ্ঞাটি মুসলিমদের আটকানোর জন্যই করা হয়েছে বলে অনেক সমালোচকদের অভিমত।

যদিও বিভিন্ন মুসলিম সিভিল রাইটস গ্রুপ ট্রাম্পের এ ইফতার পার্টি বর্জন করে এবং ‘Not Trump’s Iftar’ নামে হোয়াইট হাউসের অদূরে একটি পার্কে এক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে।

উল্লেখ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করে এবং গত বছর ব্রিটেন এর একটি সংগঠনের মুসলিম বিদ্বেষী ভিডিও রিটুইট করে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন। সিএনএন নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইসলাম আমেরিকানদের ঘৃণা করে।’’ যদিও হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের এসব কাজকর্ম জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে ব্যাখ্যা দিয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় থেকেই হোয়াইট হাউসে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে এই ইফতার ডিনার আয়োজনের রীতি চালু আছে। এমনকি নাইন ইলেভেন হামলার কিছুদিন পরেও রমজান মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ ইফতার ডিনারের আয়োজন করেছিলেন যার প্রতিপাদ্য ছিল, “Evil has no holy days”. প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তার আমলে এ প্রথা বলবৎ রাখেন।
কিন্তু গতবছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এ প্রথায় ছেদ পরে। গত ২৮ বছরে প্রথম এমনটা ঘটেছে। কোনো ইফতার ডিনার আয়োজন তো দূরের কথা, এই বিশেষ দিনটিতেই সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসীদের কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দেয়া হয়।

যাই হোক, এবছরের অবস্থা অনেকটাই ভিন্ন। রমজানের শুরুতেই ট্রাম্প মুসলিমদের ‘রমজান মুবারাক’ বলে অভিবাদন জানান। পাশাপাশি মুসলমান সম্প্রদায়কে নির্বিঘ্নে ছুটি উপভোগ করার কথা বলেন। বিবৃতিতে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘‘আমেরিকান জীবনে মুসলিমরা যে ধর্মীয় ট্যাপেস্ট্রি যোগ করেছে, রমজান তারই প্রতিফলন।’’

আমেরিকান মুসলিমদের কমিউনিটি এই আয়োজনে কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। জরজটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিস ও আরবি ভাষার একজন সহকারী অধ্যাপক ঘায়েব আল আলী বলেন, ‘‘দেখুন, এই অনুষ্ঠানে কোন আমেরিকান মুসলিমদের ডাকা হয়নি। এ থেকেই বোঝা যায় মুসলমানরা কতটা অনাকাঙ্ক্ষিত এই দেশে; এসব আয়োজনে।’’ মুসলিমদের সঙ্গে সৌহার্দ্য বাড়তে ১৯৯০ সাল থেকে বিল ক্লিনটন এ অনুষ্ঠেনের সূচনা করলেও ট্রাম্পের এই ইফতার পার্টির উদ্দেশ্য এখন আর সেরকম নেই বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা যে সাতটি দেশের উপর আরোপিত আছে তাদের মধ্যে পাঁচটি- ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া এবং ইয়েমেন; এরা কিন্তু সবাই মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র। তালিকার অন্য দুই দেশ হল- উত্তর কোরিয়া এবং ভেনিজুয়েলা।

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিভিন্ন মুসলিম বিদ্বেষী চিন্তাভাবনার জন্য বেশ সমালোচিত ছিলেন। তাই এক বছর বন্ধ রাখার পর আবারো ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ইফতার ডিনারের আয়োজন করেন। ট্রাম্প এই কাজ দিয়ে মুসলিম বিশ্বে তার ইমেজ কতটা ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন তা সময়ই বলে দেবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে