কেমন যাচ্ছে একুশে বইমেলা?

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

কেমন যাচ্ছে একুশে বইমেলা?

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৪৫ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

যে কয়টি উৎসবের জন্য বাঙালি জাতি অধীর হয়ে অপেক্ষা করে তার মধ্যে অমর একুশে গ্রন্থমেলা অন্যতম। এ বছরও মেলা শুরুর পর থেকে ঢাকার সাহিত্য রসিকদের প্রধান গন্তব্য বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।  

দেখতে দেখতে ঊনিশ দিন পার করে ফেলেছে গ্রন্থমেলা। এই ঊনিশ দিনে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ শিশুতোষ বই মিলিয়ে তিন হাজার নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে এবারের বইমেলায় এগিয়ে আছে কবিতা। গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস আছে তার পরের অবস্থানে। তবে প্রকাশে পিছিয়ে থাকলেও বিক্রিতে এগিয়ে আছে উপন্যাস। বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, উপন্যাসের পরই গল্পগ্রন্থ বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।  

প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেষ দশ বছর ধরেই উপন্যাসের বই বেশি কিনছে পাঠকরা। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। কবিতার বইয়ের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ থাকলেও বিক্রি হচ্ছে খুব কম। সে তুলনায় গল্পগ্রন্থ, গবেষনার বই ও ইতিহাস নির্ভর বইগুলো বিক্রি হচ্ছে বেশি।    

বইমেলায় আসা পাঠক শর্বরী দাসের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তর্জালে কবিতা পড়ার কারণেই বই কিনে আর কবিতা পড়তে চায় না পাঠকরা। কোন কিছু যখন ফ্রি তে পেয়ে যাবেন, তখন আর তার জন্য টাকা খরচ করতে হবে কেন? বেশিরভাগ পাঠকরাই এখন এমনটা ভাবেন। তবে উপন্যাস কিংবা এমন বড় লেখার বই তো অন্তর্জালে সহজলভ্য নয়। তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হয়।

আনিকা তাসনীম নামে আরেক বই পড়ুয়া বলেন, এখনকার কবিতাগুলো দুর্বোদ্ধ ও জটিল। অহেতুক শব্দ বা অর্থহীনতার কারণেও নতুনদের কবিতা পড়া হয় কম। আমি এখনো পুরনো কবিতাই পড়ি। বই কেনার সময়ও তাদের বই কিনতেই বেশি পছন্দ করি।

উপন্যাসের বেলায়ও অবশ্য একই কথা বলেছেন প্রকাশকরা। ঐতিহ্য প্রকাশনী সূত্রে জানা যায়, বেশির ভাগ পাঠকই নতুনদের লেখা উপন্যাসের তুলনায় পুরনোদের লেখা বেশি পছন্দ করেন। ফলে তাদের বই বিক্রি হয় বেশি। নতুনদের বইও চলে, তবে পুরনোদের তুলনায় সেটা অনেক কম।    

এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, নতুনদেরকে আরো চৌকস হতে হবে। তাদের লেখনীতে যদি নতুন ভাষার প্রকাশ না হয়, তাহলে বাংলা সাহিত্য এগিয়ে যাবে না। তাই বই প্রকাশ করার ঝোঁকের চেয়ে ভালো বই লেখার প্রতি বেশি মনোযোগী হতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএস/আরএইচ/এস