Alexa কেন সূর্যের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয় না?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

কেন সূর্যের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয় না?

 প্রকাশিত: ০৭:২১ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ০৭:২১ ৩১ আগস্ট ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সম্প্রতি নাসার মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’ সূর্যের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিজ্ঞানীরা জানান, এই প্রথম কোনও মহাকাশযান পৌঁছবে সূর্যের পিঠ থেকে ৪০ লক্ষ মাইলেরও কম দূরত্বে। এটা একটি চমকে দেয়ার মতো ঘটনা। 

আর ২ থেকে ৪ বছরের মধ্যে নাসার ওই মহাকাশযান ঢুকে পড়বে সূর্যের বায়ুমণ্ডলের একেবারে বাইরের স্তর বা, ‘করোনা’র মধ্যে। যার তাপমাত্রা ১০ লক্ষ বা তারও কিছু বেশি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের পিঠের (সারফেস) তাপমাত্রা তার কাছে কার্যত, নস্যি! মাত্র ৬ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কিন্তু প্রশ্ন থাকতে পারে-এতো দিন কেন সূর্যের এত কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়নি? সেই কারণটা হল, পৃথিবী আর শুক্র গ্রহের জোরালো অভিকর্ষ বলের টান এড়িয়ে সূর্যের কাছাকাছি যাওয়াটা মোটেই খুব সহজ কাজ নয়। তার জন্য বিশেষ প্রযুক্তির প্রয়োজন। আর সেই প্রযুক্তিটা এত দিন বিজ্ঞানীদের হাতে ছিল না। সেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই এবার সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সূর্যের এত কাছাকাছি পৌঁছতে পারছে ‘পার্কার সোলার প্রোব’।

‘পার্কার সোলার প্রোব’র গতিবেগ সর্বাধিক হবে ঘণ্টায় ৭ লক্ষ কিলোমিটার। যে গতিবেগে এত দিন ছোটেনি কোনও মহাকাশযানই। পৃথিবী আর শুক্র গ্রহের জোরালো অভিকর্ষ বলের টান এড়াতেই এবার এত বেশি গতিবেগে ছোটাতে হচ্ছে পার্কার মহাকাশযানকে। 

এর আগে এত কাছ থেকে সূর্যের বায়ুমণ্ডলকে কখনো দেখার সুযোগ পাইনি আমরা। পার্কার মহাকাশযানের দৌলতে সূর্যের সেই বায়ুমণ্ডল (করোনা)-কে সরাসরি দেখা যাবে। কেন করোনার তাপমাত্রা প্রায় ১০ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সূর্যের পিঠের তাপমাত্রা ৬ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো, তার আরো কিছু কারণ পার্কার মহাকাশযান খুঁজে পাবে বলে আশা করছি। যেহেতু পার্কার সোলার প্রোব করোনার মধ্যেই ঘোরাঘুরি করবে, তাই সেখানকার চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য আরো সহজে মাপা যাবে। 

সূর্যের বায়ুমণ্ডল আবার সামঞ্জস্যহীন। তার কোনো জায়গায় বায়ুর গতিবেগ অনেক বেশি। আবার কোথাও সেই গতিবেগ বেশ কম। সূর্যের মেরু অঞ্চলে বায়ুর গতিবেগ অনেক বেশি। আর নিরক্ষীয় অঞ্চলে তা বেশ কম। যেহেতু পার্কার সোলার প্রোব সূর্যের মেরু ও নিরক্ষীয় অঞ্চল, দু’টি এলাকার ওপর দিয়েই যাবে, তাই এই প্রথম আমরা সরাসরি সেই বায়ুর গতিবেগ মাপতে পারব।

সূর্য থেকে অনেক শক্তিশালী কণাও সারা ক্ষণ আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। ওই কণাদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে। তাদের বৈশিষ্ট্য আরো ভাল ভাবে জানা ও বোঝা যাবে। তার জন্য পার্কার সোলার প্রোবে রয়েছে ২টি পার্টিকল ডিটেক্টর। রয়েছে ৩টি ম্যাগনেটোমিটার। করোনার চৌম্বক ক্ষেত্রগুলিকে মাপার জন্য। তা ছাড়াও পার্কার মহাকাশযানে রয়েছে করোনার ছবি তোলার জন্য একটি সর্বাধুনিক ক্যামেরা।

সূর্যের করোনার চেহারাটা আদতে যথেষ্টই অস্থিতিশীল বা ‘আনস্টেব্‌ল’। আবার তা ‘ডায়নামিক’ও বটে। তার মানে, করোনা প্রতি মুহূর্তে তার চেহারা বদলাচ্ছে। সেই করোনায় অনেক সময় বিস্ফোরণ ঘটে। যার নাম- ‘ফ্লেয়ার্স’ বা অগ্নিতরঙ্গ। তা ছাড়াও সেখানে হয়, ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ বা, ‘সিএমই’। তা অনেকটা যেন, সূর্যের করোনার শরীর ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা অংশ।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের পক্ষে ওই সব বিস্ফোরণ খুবই ক্ষতিকারক। তারা কোথায় তৈরি হয়, কীভাবে তৈরি হয়, তা আরো ভালভাবে জানা ও বোঝা যাবে এই ‘পার্কার সোলার প্রোব’র কল্যাণে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ