Alexa কেন পড়বেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে?

ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

কেন পড়বেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে?

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৪ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারি পড়া বাদ দিয়ে কৃষিতেই কেন পড়বেন বা কৃষিতে পড়েই বা কি হবেন? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে।

এর আগে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নেই

১। কেনই বা পড়বো এই কৃষিতে?
২। কৃষি বিষয়ে পড়লে চাকরি কি জুটবে?
৩। দেশে কৃষিতে পড়া গ্রাজুয়েটদের মূল্যায়ন হয়?
৪। বিসিএস এর জন্য কৃষি কতটুকু সহায়ক?
৫। দেশের কল্যাণে নিজেকে কাজে লাগাতে পারবো?
৬। বিদেশে বৃত্তি নিয়ে পড়াশুনা করতে কৃষি আমাকে কতটুকু সুবিধা দিবে?
৭। গবেষণার সুযোগ কি আদৌ আছে?
৮। কৃষিতে পড়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়া সম্ভব?

হ্যা, সব কিছুরই উত্তর আছে। যেগুলো আপনার চিন্তার সঙ্গে মিলবেই। তবে এসব ভাবার আগে আমাদের উচিত নিজের প্যাশনটা ভালো করে বোঝা।

ময়মনসিংহে আছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সম্পূর্ণ আবাসিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় বাকৃবি। প্রতি বছর ছয়টি অনুষদে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী পড়ালেখার সুযোগ পায়।

এর মধ্যে ভেটেরিনারি অনুষদে ১৯১, কৃষি অনুষদে ৪০২, পশুপালন অনুষদে ১৯১, মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদে ১৩৩, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদে ১৫০ এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ১৩৩টি আসন।

এছাড়া রয়েছে দেশের ২য় বৃহত্তম সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে এ বছর ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী।

এখানেও রয়েছে ৬টি অনুষদ। আর সেগুলো হলো কৃষি, ভেটেরিনারি, এনিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস, মৎস্য বিজ্ঞান, কৃষি অর্থনীতি, কৃষি প্রোকৌশল ও কারিগরি, বায়োটেকনলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

এ ছাড়াও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে কৃষি বিষয়ে পড়াশুনার সুযোগ।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ সেশনে ১ম হয়েছিলেন ফাইজাসাদিয়া পরী। তিনি বলেন, কৃষিবিদরা বাংলাদেশ কর্ম কমিশনে (বিসিএস) টেকনিক্যাল ও সাধারণ উভয় ক্যাডারে আবেদনের সুযোগ পাওয়ায় দেশের সব কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারে। তাছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিরি), পাট, ইক্ষু, মসলা, তুলা, চা গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরির সুযোগ।

ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে গ্রাজুয়েটরা বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সার্জন পদে যোগদান করতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র ও দুগ্ধ খামার, হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, ছাগল প্রজনন কেন্দ্র, মহিষ প্রজনন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রাণী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরির সুযোগ।

মৎস্য বিজ্ঞান থেকে গ্রাজুয়েটদেরও রয়েছে এমনই অবারিত চাকরির সুযোগ। অন্যদিকে দেশের কৃষি ব্যাংকগুলোতে অগ্রাধিকারসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যাংকে চাকরির সুযোগ রয়েছে এখানকার গ্রাজুয়েটদের।

অনেকে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে নিজেই হয়ে ওঠেন উদ্যোক্তা, গড়ে তোলেন নিজস্ব খামার। শিক্ষাজীবনের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেন অসংখ্য বেকারকে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররা যেমন দেশে চাকরিতে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পান, তেমনি কৃষিতে স্নাতকোত্তর কৃষিবিদরাও প্রথম শ্রেণির মর্যাদাসম্পন্ন হবেন। কৃষিতে গ্রাজুয়েট হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে-বিদেশে রয়েছে অবারিত চাকরির সুযোগ।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আবু সাঈদ বলেন, বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষিবিদরায় পারেন তাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে। বর্তমানে জনগণের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এ যে কৃষিখাতের বৈপ্লবিক উন্নতির ফল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম