ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

কেন প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়েছিল?

ফাতিমাতুজ্জোহরা ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২১:৫৭ ৮ জুলাই ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

 

১৯১৪ সালের ২৮জুন অস্ট্রো হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী ফ্রাঙ্ক ফার্দিনান্দের হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুত্রপাত হয়। হত্যাকারী ছিল অস্ট্রো-হাঙ্গেরির নাগরিক। কিন্তু জাতিতে ছিল বসনিয়া বংশের। সে সময় বসনিয়া ছিল তাদের সম্রাজ্যের অংশ।গাভরিলো প্রিন্সিপ নামের এই ছাত্রটি ছিল ‘তরুন বসনিয়া’ দলের সদস্য।

অস্ট্রো-হাঙ্গেরির শাসন থেকে মুক্তি ছিল যাদের লক্ষ্য।ঘটনাটি ঘটে বসনিয়ার রাজধানী সার্বিয়ায়। অস্ট্রিয়ার রাজা সার্বিয়াকে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিতে বলেন। এদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জটিল ও গোপনীয় হয়। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক শত্রুতার কারনে ব্রিটেন প্রথম দিন র্জামানির প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন মনোভাব দেখায়।

কিন্তু জার্মানি ব্রিটেনের সাথে নৌ প্রযুক্তিতে পাল্লা দেওয়ায় এটি প্রতিযোগীতামূলক হয়ে উঠে। ফ্রান্স ও রাশিয়াদের যুদ্ধের পর থেকে ফরাসি ও র্জামানিদের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। ফরাসিরা তাই রাশিয়ার সাথে মিত্রতা স্থাপন করে। অস্ট্রো হাঙ্গেরিকে তারা হুমকি হিসেবে দেখত। তাই তারা র্জামানির সাথে মিত্র চুক্তি করে।

সার্বিয়া উন্থানের সাথে সাথে স্লোভজাতিরা অনেক জোরদার হয়ে উঠে। সুযোগ পেয়ে অস্ট্রো হাঙ্গেরি সার্বিয়াকে কোনঠাসা করে ফেলে। সার্বিয়ার মিত্র ছিল রাশিয়া। তাই সার্বিয়াকে হূমকির আগ্রহ ও সাহস দেখায়, সৈন্য সমাবেশ শুরু করে। ভিন্ন মৈত্রী চুক্তি ও র্দুবল যোগাযোগ ব্যবস্থা , বিভিন্ন বিবৃতি রাষ্ট্রনায়কদের যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে ।

সময়টা ২৮ জুলাই ১৯১৪, অস্টোহাঙ্গেরি সার্বিয়ার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পরদিন রাশিয়া সৈন্যসমাবেশের মাধ্যমে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে র্জামানি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।এদিকে সার্বিয়ার সমর্থনে ফ্রান্স সৈন্য সমাবেশ শুরু করে। যুবরাজ হত্যার পর , র্জামানির হিসেবে ছিল যে , একটি সংক্ষিপ্ত আঞ্চলিক যুদ্ধে বিজয়ের সম্ভাবনা আছে।তাই তারা অস্ট্রিয়াকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সার্বিয়ায় হামলা করার অনুমতি দেয়। যা ছিল বিরাট ভুল।

র্জামানি অস্ট্রিয়াকে অনেক সমর্থন দেওয়ায়, ভবিষ্যত র্জামান শক্তির সম্ভাবনায় ফ্রান্স আতঙ্কিত হয়। যারা শিয়ার পক্ষ থেকে অনাকাংক্ষিত শত্রুতা ডেকে আনে। রাশিয়া ও ফ্রান্স সাথে সাথে যুদ্ধে যোগ দিলেও র্জামানি তাদের ভালই মোকাবেলা করছিল।ব্রিটেনের চোখে রাশিয়া ও ফ্রান্সের চেয়ে ও র্জামানি বেশি শক্তিশালী ও বড় হুমকি ছিল।

তাই তারা পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী ,নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখার জন্যই র্জামানির বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষনা করে। ব্রিটেনের মত পরাশক্তির আগমণ র্জামানির জন্য অনেক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে রাশিয়া পরাজিত হয়ে যুদ্ধ ত্যাগকরে। ৩বছর ধরে চলা যুদ্ধের শীতকালে রাশিয়ার আভ্যন্তরিণ আক্রমনে র্জামানির পরাজয় নিশ্চিত হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি