‘কেউ চাইলে ক্যাটারিং ব্যবসাও করতে পারেন’
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=92401 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৪ ১৪২৭,   ৩০ মুহররম ১৪৪২

Beximco LPG Gas

‘কেউ চাইলে ক্যাটারিং ব্যবসাও করতে পারেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ২১ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৭ ২১ মার্চ ২০১৯

রন্ধনশিল্পী: আফরোজা নাজনীন সুমি

রন্ধনশিল্পী: আফরোজা নাজনীন সুমি

বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কৈশোর ও তারুণ্যের দিনগুলি কেটেছে তার। একে একে পরিচয় হয়েছে বিভিন্ন ধরণের রান্নার সঙ্গে। রান্নার সঙ্গেই গড়েছেন সখ্যতা, আবার ক্যারিয়ার হিসেবেও বেছে নিয়েছেন রন্ধনশিল্পকে। নানা রকম রান্না করতে, পরিবেশনায় অভিনবত্ব আনতেও তার জুড়ি নেই। শিখে নিয়েছেন ফুড ফটোগ্রাফি। দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনা করে হয়েছেন পরিচিত মুখ, বলা হচ্ছে আফরোজা নাজনীন সুমির কথা। দেশ ও দেশের বাইরে রন্ধনশিল্পকে এগিয়ে নিতে স্বকীয় ভূমিকা রাখছেন তিনি। ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি আয়োজনে থাকছে তার কথা। কথোপকথনে ছিলেন স্বরলিপি

ডেইলি বাংলাদেশ: পেশা হিসেবে রন্ধনশিল্পে কেনো?

আফরোজা নাজনীন সুমি: আমি মনে করি এই কাজটা খুবই ভাল। প্রতিটি মেয়েই নিজের বাড়িতে রান্না করে থাকেন। সেই  রান্নাটাই যখন পেশা হিসাবে নিচ্ছেন তখন নিজের অর্থ উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ আর দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ:  পেশাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক কোনো ট্রেনিং নিয়েছেন?

আফরোজা নাজনীন সুমি: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন থেকে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশনের উপর ন্যাশনাল সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেছি। ফুড হাইজিন অ্যান্ড স্যানিটেশনের উপর কোর্স করেছি। এরপর ইন্টার্নি করেছি হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ঢাকা থেকে। এছাড়াও বারিস্তা থেকেও ট্রেনিং নিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ:  ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

আফরোজা নাজনীন সুমি:  কলকাতার হেফেলে অ্যান্ড দ্য ভোজ কোম্পানির আয়োজিত কুকিং কম্পিটিশন ‘দ্য কুলিনারী ডিভা-২০১৮’এর একজন বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। এছাড়া- জি বাংলার ‘রান্নাঘর’ অনুষ্ঠানসহ বেশ কয়েকটি রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। ভারতের কলকাতাতে কাজ করতে সব সময়ই ভালো লাগে। বাংলাদেশ ও কলকাতার ভাষা বাংলা হওয়াতে মনেই হয় না অন্য কোনো দেশে কাজ করছি। কাজের পরিবেশও অনুকূল। সব সময়ই অনুভব করেছি এদেশের মানুষের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ। রন্ধনশিল্পে অবদানের জন্য ভারত থেকে সম্মাননাও পেয়েছি দুই বার। নিজের দেশের বাহিরে কাজের স্বীকৃতি পাওয়া আমাকে কাজের প্রতি আরো বেশি দায়িত্বশীল করে তুলেছে। আনন্দবাজার পত্রিকা, সানন্দা ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ফুড ম্যাগাজিনে আমার রেসিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতীয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য ও আফরোজা নাজনীন সুমিডেইলি বাংলাদেশ:  রন্ধনশিল্প নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

আফরোজা নাজনীন সুমি:  রন্ধনশিল্প দিন দিন শিল্পে পরিণত হয়েছে। আমি নিজে এইচআর নিয়ে এম.বি.এ করেও এই পেশায় এসেছি। এই পেশায় নিজের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগানোর একটা সুযোগ থাকে। হোটেল রেস্তোরাঁতে কাজের পাশাপাশি কেউ চাইলে ক্যাটারিং ব্যবসাও করতে পারেন। আবার ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের মাধ্যমেও নতুনদের শেখানোর পাশাপাশি দেশের বেকারত্ব দূর করায় ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদান রাখা সম্ভব। রান্না নিয়ে এখন নানারকম গবেষণা প্রতিনিয়তই চলছে, খাবার পরিবেশনা হয়েছে আরো শিল্পীত।  

ডেইলি বাংলাদেশ: রন্ধনশিল্পে আপনার অর্জন কী?

আফরোজা নাজনীন সুমি: কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিসিআরইউ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮, এজেএফবি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, রেডিও স্বদেশ সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, গোল্ডেন পেন অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, ইনডেক্স মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, নব প্রজন্মের সেরা রন্ধনশিল্পী অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ অর্জন করেছি। এছাড়া- কলকাতায় ‘সৃজন সম্মান-২০১৮’ এবং ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব-২০১৮’  সম্মাননা লাভ করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জানতে চাই?

আফরোজা নাজনীন সুমি: দুই সন্তান আর স্বামীকে নিয়ে আমার সংসার। স্বামী অ্যাডভোকেট। মেয়ে ও ছেলে দুজনেই খুব ভাল ছবি আঁকে। রান্নার প্রতিও রয়েছে দুজনেরই সমান আগ্রহ । 

ডেইলি বাংলাদেশ: ভবিষৎ পরিকল্পনা কী?

আফরোজা নাজনীন সুমি: কষ্ট লাগে যখন ছোট ছোট বাচ্চাদের কাজ করতে দেখি। স্পেশাল চাইল্ড ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ: বর্তমান ব্যস্ততা কিসে?

আফরোজা নাজনীন সুমি: বুটিক ব্যবসার পাশাপাশি ক্যাটারিং নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। একটা স্কুলের বাচ্চাদের ক্যান্টিনের টিফিন ও কয়েকটি অফিসে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে