কেউ কথা রাখেনি, বিপাকে চাষি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

কেউ কথা রাখেনি, বিপাকে চাষি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:৪৮ ২১ মে ২০১৯  

গাইবান্ধার ফুলছড়ির হাটে ‘লাল সোনা’ খ্যাত মরিচ বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়ছেন প্রত্যন্ত চরের চাষিরা। এই ‘লাল সোনা’ কেনাবেচার হাট নিয়ে অনেকে অনেক কথা দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কথাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে চাষিরা হাটে খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তাদের উৎপাদিত মরিচ বিক্রি করছেন ।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত পুরাতন উপজেলা হেডকোয়ার্টার্স মাঠে ২০০৪ সাল থেকে মরিচের হাট বসে। ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন চরে উৎপাদিত লাল মরিচ বিক্রি করতে চাষিরা প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এই হাটে আসেন। প্রাণ, এসিআই কোম্পানির প্রতিনিধি এবং ঢাকা, বগুড়া, সান্তাহারসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এখান থেকে মরিচ কিনে নিয়ে যান। প্রতি হাটে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ চাষি ৭শ থেকে এক হাজার মণ মরিচ বিক্রি করে থাকেন। এই চাষিদের জন্য হাটে কোনো স্থাপনা নেই, নেই প্রকৃতির কাজ সারার কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা।

হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা উড়িয়া ইউনিয়নের চর কাবিলপুরের আক্কু মিয়া বলেন, যেহেতু সকাল ৭টা থেকেই হাট শুরু হয়, সেইজন্য হাটবারের আগের রাতে চর থেকে নৌকায় করে মরিচ নিয়ে আসতে হয়। হাটে তো থাকার কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে নৌকাতেই রাত কাটাতে হয়। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি হলে আমাদের খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় এই কষ্টের সুযোগটা নেয় দালালরা। তারা চাষিদের ভুল বুঝিয়ে কম টাকায় মরিচ বিক্রি করতে বাধ্য করে।

হাটে আসা বুলবুলির চরের হোসেন আলী বলেন, হাটে কোনো ঘর বা ছাউনি নেই। ঝড়-বৃষ্টি এলে মরিচের বস্তাগুলো রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। বৃষ্টিতেই সেগুলো ভিজে যায়। এছাড়া আমাদের মরিচ বিক্রির জন্য খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়।  

হাট ইজারাদার মুক্তার মিয়া বলেন, এ বছর আমি ৮৪ লাখ টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি। আগের ডিসি গৌতম চন্দ্র পাল হাট পরিদর্শনে এসে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ভুট্টা ও মরিচের কেনাবেচার জন্য দুটি শেড নির্মাণ করে দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর তার প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, দেড় বছর আগে ডিসি গৌতম চন্দ্র পাল ফুলছড়ির হাটে শেড নির্মাণ করার জন্য ১৭ লাখ বরাদ্দের ঘোষণা দেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর কাজটা আর এগোয়নি। তবে তিনি মনে করেন, এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য শেড নির্মাণ জরুরী। কারণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী এবং বড় বড় কোম্পানির লোকজনও আসে চরে উৎপাদিত লাল মরিচ কিনতে।

এ ব্যাপারে ফুলছড়ির ইউএনও আব্দুল হালিম টলস্টয় বলেন, তৎকালীন ডিসি গৌতম চন্দ্র পাল মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেটা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন নতুন উপজেলা পরিষদ হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে হাটে শেড নির্মাণ করা হবে।

নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ বলেন, হাটের অনেক জায়গা বর্তমানে স্থানীয় একটি দালাল চক্রের দখলে তাই আগে দালাল সরাতে হবে। তারপর উন্নয়ন করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম