.ঢাকা, শনিবার   ২৩ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৯ ১৪২৫,   ১৬ রজব ১৪৪০

কেউ অপমান করলে কী করা উচিত?

তাইয়্যেবা ইসলাম ইমা

 প্রকাশিত: ১৮:৫৯ ৬ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৮:৫৯ ৬ আগস্ট ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মানুষ কখনো একা বসবাস করতে পারে না। সমাজে বসবাস করতে হলে অবশ্যই বিভিন্ন মানুষের সাহচর্য প্রয়োজন। আমাদের সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বসবাস করে। প্রতিদিন এসব মানুষের সাথে আমাদের ওঠাবসা হয়। মানুষ ভেদে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও ভিন্ন। কারো আচরণ খুব বন্ধুত্বপূর্ণ আবার কারো আচরণ খুব তিক্ত। কিছু মানুষ আছে যারা কারণে-অকারণে মানুষকে অপমান করেন। এ ধরনের মানুষ সব সময় সবাই কে অপমান করে আনন্দ উপভোগ করে। আবার সবার সামনে কাউকে অপমানিত করে ছোট করতে পছন্দ করেন।এ ধরনের মানুষ থেকে কিভাবে নিজেকে এড়িয়ে চলবেন তা নিয়ে আজকের এ প্রতিবেদন।

যারা অপমান করে তাদের থেকে এড়িয়ে চলা সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো তাদের সাহচর্য এড়িয়ে চলা। কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের সাহচর্য এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। সে হতে পারে আপনার পরিবারের কোন সদস্য বা আপনার কাছের কেউ।অফিসের কোন কর্মচারী বা আপনার বন্ধুদের মধ্যে একজন।

অপমানকারী ব্যক্তি সব সময় নেগেটিভ মনের অধিকারী হয় তারা অন্যকে ছোট করতে বা তুচ্ছ কোন বিষয়ে অপমান করতে পছন্দ করেন। কারো অগোচরে তার সমালোচনা করেন। তারা এমনটি কেন করেন তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে সকলের মনে। চলুন প্রথমে জেনে নেই এ সম্পর্কেঃ

মনোবিজ্ঞানীদের মতে মানুষ প্রধানত চারটি কারণে অপমান করেন:

১) নিরাপত্তাহীনতা: যারা কথায় কথায় মানুষকে অপমান করেন তাদের প্রথম কারণ হলো নিরাপত্তাহীনতা।তাঁরা নিজেদের সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা পোষণ করেন না। অন্যের কাছে নিজেকে ভালো প্রমাণের উদ্দেশ্যে সকলের সামনে কাউকে অপমান বা ছোট করতে পছন্দ করেন।

২) হিংসা: হিংসা মানুষকে পশুত্বে পরিণত করে। যারা কথায় কথায় অপমান করেন তাদের মনে অন্যকে নিয়ে প্রচুর হিংসা থাকে। মূলত এ কারণেই হিংসার বশবর্তি হয়ে মানুষকে অপমান করে। অন্যের উন্নতি বা সফলতা এমন ব্যক্তি কখনোই সহ্য করতে পারেন না। তাই তারা মানুষের সামনে আপনাকে অপমান করে নিচু করার চেষ্টা করবে।

৩) সংযতার অভাব: একজন অপমানকারী ব্যক্তি সংযতার অভাব থাকে। সে অন্যকে কিভাবে অপমান করবেন তা নিয়ে সবসময় ভাবতে থাকেন। আপনি কোন কাজে সফল হলো সে খুঁজে খুঁজে আপনার ভুল ত্রুটি গুলো বের করার চেষ্টা করবে। আপনাকে সকলের সামনে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করার চেষ্টা করবে। এমন পরিস্থিতিতে উল্টো তাকে অপমান করতে মন চায়। বুদ্ধিমানের কাজ হলো এ পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখা। কোন প্রতিত্তোর না করা।

কখনো কখনো অপমান কারী ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃত এমন কিছু মন্তব্য করেন যা আপনার মনে কষ্ট দেয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করবেন। কোন ধরনের মন্তব্য বা রাগান্বিত না হওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যারা অপমান করেন তারা চাইবেন অপর ব্যক্তিটি যেন তার হাসি-ঠাট্টায় উত্তেজিত হয়ে সাড়া দেয়।এ কাজটি ভুলেও করবেন না।তাদের আনন্দের মূল কারণ আপনাকে রাগিয়ে উত্তেজিত করে তোলা। ধৈর্য সহকারে হাসি মুখে পরিস্থিতি সামলে নিবেন। অপমানকারী ব্যক্তির সামনে কখনো ভেঙে পড়বেন না বা মন খারাপ করবেন না।এতে সে ব্যক্তি বারবার আপনার দুর্বলতার সুযোগ  নিতে চেষ্টা করবে।উত্তেজিত হওয়া মানে আপনি তাকে নিজেই সুযোগ করে দিলেন বারবার অপমানিত করার।এছাড়াও আপনি এমন পরিস্থিতিতে কোনো রকম মন্তব্য, মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন করবেন না এতে সে অপমান করে মজা না পেয়ে পরবর্তীতে অপমান করতে আসবে না।কারণ কোনরকম প্রতি উত্তর না পেলে সে অপমান করে একটা সময় নিজে থেকেই চুপ হয়ে যাবে।আবার এ ধরনের মানুষ থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় হলো তার মন্তব্য শুনে মুচকি হাসি দেওয়া। তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে আপনি তার কথায় কোন পাত্তা দেননি। যদি অপমান সহ্য করার ক্ষমতা কম থাকে তাহলে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসুন। উল্টো কখনো তাকে অপমান করবেন না এতে ওই ব্যক্তির সাথে আপনার কোনো পার্থক্যই থাকবে ছোটখাটো কোনো ব্যাপারকে সিরিয়াসলি নেয়া যাবে না।

 অপমানকারী ব্যক্তি যদি আপনার কাছের কেউ না হয় তাহলে তাদের সঙ্গ একেবারে ত্যাগ করতে হবে। আর যদি সে ব্যক্তি আপনার আত্মীয় হয় তবে তাদের সাথে সব সময় একটা দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। এমন ধরনের মানুষগুলো যেন বুঝতে পারেন যেহেতু তারা আপনার ক্ষতি ও অমঙ্গল চায়,তাই তাঁদের সঙ্গ থেকে দূরে থাকছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই