কৃষকের হাসি কেড়ে নিলো ব্লাস্ট

ঢাকা, সোমবার   ০১ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কৃষকের হাসি কেড়ে নিলো ব্লাস্ট

রতন কুমার রায়, ডোমার (নীলফামারী) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪১ ১৩ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফিরতে ছিল চলতি বোরো মৌসুমের ধানের বাম্পার ফলনে। তবে সেই হাসি ম্লান করে দিয়েছে নেক ব্লাস্ট রোগ। 

এ রোগে কোনো কৃষকের আংশিক আবার কারো কারো ক্ষেতের বড় অংশের ধান চিটা হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। কিন্তু কৃষি দফতর কৃষকদের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে দাবি করছে।

উপজেলার খামার বামুনিয়া এলাকার মতিউর রহমান বুলেট বলেন, আমি এবার ছয় বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। এরমধ্যে আড়াই বিঘা জমির ধান শতকরা ৮০ ভাগ ব্লাস্ট রোগে চিটা হয়ে গেছে। 

ওই এলাকার শাহিনুর রহমান, হবিবর রহমান, আলম হোসেন জানান, তাদের জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগে ধান চিটা হয়ে গেছে। তারা কৃষি কর্মকর্তাদের এ রোগের কথা জানালে, কৃষি কর্মকর্তারা ধান ক্ষেতে না গিয়ে দুইটি ওষুধ স্প্রে করতে বলে। স্প্রে করার পর নেক ব্লাস্টের আক্রমণ আরো বেড়ে যায়। 

আন্ধারুর মোড় এলাকার কৃষক নাজিমুদ্দিন বলেন, ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় চিন্তায় পড়ে যাই। তাই বাধ্য হয়ে আধা পাকা ধান কেটে আনি। এতে যা পাবো, তাই লাভ। 

বসুনিয়া এলাকার কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাস ধরে কোনো কাজ করতে পারছি না। এবারের ধানের বাম্পার ফলনে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছিলাম । তবে নেক ব্লাস্ট রোগে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা তদারকি করে যদি পরামর্শ দিত, তাহলে হয়তো এ রোগ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করতে পারতো না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান বলেন, করোনা মহামারির সময়ও আমরা কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। কিছু জায়গায় নেক ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করেছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের চেষ্টায় আমরা তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। নেক ব্লাস্ট শুধুমাত্র ব্রি ধান-২৮ জাতে আক্রমণ করে। কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে আমরা এ জাতের ধান চাষে নিরুৎসাহিত করে অন্যান্য উচ্চ ফলনশীল ধান চাষের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

এ উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ