Alexa কৃষকের শিক্ষক ইউনূস লাভ করলেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

কৃষকের শিক্ষক ইউনূস লাভ করলেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক

 প্রকাশিত: ২১:০৩ ২২ জুলাই ২০১৭  

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধের ফলে এলাকার অনেকেই মোহাম্মদ ইউনূস আলীকে (৫০) কৃষকের ‘শিক্ষক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর এই ভাল কাজের সুনাম নিজ এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। দূর দূরান্ত থেকে কৃষকেরা তাঁর নিয়মিত তার কাছ থেকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং সে অনুযায়ী খাদ্যশস্য উৎপাদন করছেন। মোহাম্মদ ইউনূস আলীর এই ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গত রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তার হাতে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইউনূস নেদারল্যান্ডসের রাণীর উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাডের সহনশীল কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও লিংকেজ প্রোগ্রামের কৃষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করছেন। ইউনূস আলী খাদ্য নিরাপত্তা, সম্প্রসারণ সেবা, প্রযুক্তির ব্যবহার, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও ব্যবহার, কৃষকদের ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার, গুটি ইউরিয়া, ক্রমান্বয়ে ভেজা ও শুকানো প্রযুক্তিসহ কৃষির বিভিন্ন লাগসই প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাসহ নানামুখী অবদান রেখেছেন কৃষির উন্নয়নে। নতুন নতুন জাতের আম উৎপাদনে ইউনূসের বিরাট সাফল্য রয়েছে। আম উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি। পরবর্তীকালে ডিএই’র পৃষ্ঠপোষকতায় উন্নত ফল উৎপাদনের প্রযুক্তি হাতে-কলমে শেখার জন্য থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও জাপান সফর করেন। বর্তমানে আম উৎপাদকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ইউনূসকে। ইউনূছ আলী সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়ার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের অধিবাসী। আমের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় জাতের ফলমূল ও শাকসব্জি চাষে জড়িত। হাতে-কলমে কৃষকদের শেখানোর জন্য ইউনূস আলীকে মডেল কৃষক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয় সলিডারিডাড’র সফল প্রকল্প। আমচাষিদের সংগঠিত করা এবং তাদের এলাকা থেকে ইউরোপীয় ও দেশীয় বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘সাপ্লাই চেইন’ এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তিনি স্থানীয় আইপিএম ক্লাবেরও সভাপতি। মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, যেহেতু কৃষি আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি, তাই আমরা স্থানীয় ইকো-সিস্টেমের উপযোগী অভিযোজন প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারি। তিনি বলেন, লিড ফার্মার হিসেবে আমি যে প্রশিক্ষণ পেয়েছি তা তুলনাহীন। আমি আমার অভিজ্ঞতা এখন সহকর্মী কৃষক ভাইদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। তারা যেন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনূস বলেন, ‘আম উৎপাদনে আমি যে অসাধারণ সফলতা দেখিয়েছি তার স্বীকৃতি পেয়েছি। এজন্য আমাকে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাব, কম ফলন ও বিপণনের সুযোগের অভাবসহ নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাকে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের পরও আম উৎপাদনে যে সফলতা পেয়েছি তাতে অতীতের সব কষ্ট ভুলে গেছি।’ চলতি মৌসুমে ২.২৫ একর জমিতে আম (হিমসাগর ও ল্যাঙরা) উৎপাদন করে দুই লাখ টাকার বেশী আয় করেছেন কৃষক ইউনূস আলী। ডেইলি বাংলাদেশ/আইজেকে