কৃষকের ধানের টাকা খাদ্য বিভাগ কর্মকর্তার পকেটে

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

কৃষকের ধানের টাকা খাদ্য বিভাগ কর্মকর্তার পকেটে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২০ ২২ মে ২০১৯  

লালমনিরহাটে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলছে দুর্নীতির মহোউৎসব। কৃষকের নামে সরকারি গোডাউনে ধান দিচ্ছে ধনী ব্যক্তিরা। ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চোখের জল পড়ছে কৃষকের। কিন্তু পকেটে টাকা ভরছে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের। এদিকে ঋণের দায়ে পালিয়ে বেডাচ্ছেন অনেক কৃষক।

লালমনিরহাটে সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরুর নামে চলছে নানান নাটকীয়তা। কৃষকরা জানেনই না যে সরকার কৃষকের ধান ক্রয় করছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টাকা দিয়ে ভাড়াটি কৃষক বানিয়ে তাদের মাধ্যমে ধান ক্রয় করছে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এভাবে অভৈধভাবে ভাড়াটে কৃষক দিয়ে ধান করায় ক্ষুদ্ধ প্রান্তিক কৃষকরা।

জেলায় সরকার চলতি বছর ২৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৪৯৩ মে. টন ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে ১০ হাজার ৭৩১ মে. টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে ৩৪৫ মে. টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। কিন্তু কৃষকের ধাম ঝড়ানো এই ধান ক্রয়ের নামে চলছে খাদ্য বিভাগের সীমাহীন দুনীতি। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ধান ক্রয় করার কথা থাকলেও লালমনিরহাট জেলায় এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউপি কৃষক আবু জাফর ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সরকার সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয় করার কথা বললেও এই দুর্নীতির সাথে খাদ্য বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা আইয়ুব আলী, অফিস সহকারী নুর আলম সিদ্দিকসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িত রয়েছে। এ ছাড়াও জেলা নিয়ন্ত্রণ অফিসের প্রধান অফিস সহকারী ফকরুলের বিরুদ্ধেও এই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কথা আরো কয়েকজন জানান। তবে প্রধান অফিস সহকারী ফকরুল তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগ উঠেছে জেলা খাদ্য অফিসের কর্মকতারা গোপনে টাকার বিনিময়ে কিছু কিছু প্রভাবশালীর ধান ক্রয় এর সুবিধার জন্য কৃষকের নাম মাত্র কাগজ ব্যাবহার করছে। এর সঙ্গে সদর ওসিএলএসডি তরিকুল ইসলামও জড়িত রয়েছে।

সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকার কৃষক তমিজ উদ্দিন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সরকার ধান ক্রয় করবে কৃষকের কাছ থেকে অথচ কৃষকরাই সে কথা তা জানে না। খাদ্য বিভাগের লোকজন ধনীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গোপনে ধান দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।

মহেন্দ্রনগর ইউপির কৃষক সালামত ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সরকার সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে টাকায় ধান কিনবে তা না করে বাস্তবে ধান দেয়ার সময় ধনীরা কৃষক হয়ে যায়। ওদিকে ১৬জন মিলার কে লাইসেন্স দেয়ার ঘটনায় লালমনিরহাটের মিল মালিকরাও আন্দোলন করে। এ কারণে ওই মিলাররা খাদ্য অফিস ঘেরাও করে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ডিসির কার্যালয়ে বৈঠক করে পরে সমঝোতা হয়।
 
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন মিল মালিক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কিছু কিছু মিলার এর সঙ্গে খাদ্য বিভাগের গোপন সু-সর্ম্পক থাকায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের টাকার বিনিময়ে অবৈধ সুযোগ নিচ্ছে। ওদিকে অভিযোগ উঠেছে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের অবৈধ মোটা অংকে টাকার বিনিময়ে এক ব্যাক্তি ২ এর অধিক মিল এর নাম ব্যবহার করে চাল বিক্রয়ে সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ বাবু ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়, তবে কেউ অনিয়ম করলে মিল সমিতি ব্যবস্থা নিবে।

লালমনিরহাট জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিসি মো. শফিউল আরিফ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কৃষক এর নামে ধান ক্রয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম