কৃমি ও দাঁতে ব্যথার চিকিৎসা ইলেকট্রিক শক! 

ঢাকা, শনিবার   ৩০ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭,   ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কৃমি ও দাঁতে ব্যথার চিকিৎসা ইলেকট্রিক শক! 

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৪ ১৩ জুন ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সময়ের সাথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রতিনিয়তই নিত্য নতুন আবিষ্কারের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে পুরাতন সব জিনিস।আর এই অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে প্রযুক্তির কল্যাণে। তবে প্রযুক্তি শুধু বিনোদন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রেই অবদান রাখেনি।বরং পুরোপুরি বদলে দিয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। এমনকি পূর্বে এমন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে তা দেখে বর্তমানের যে কোন মানুষই ফেটে পড়বে হাসিতে। প্রাচীন কিছু কিছু চিকিৎসা ব্যবস্থা শুধু হাস্যকরই ছিল না বরং তা ছিল অনেকাংশে ভয়ংকরও। ফলে এই ভুল চিকিৎসাতে মৃত্যু হত হাজার হাজার মানুষের। তবে দেরি না করে জেনে আসা যাক প্রাচীন কিছু ভুল চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে। 

ইলেকট্রিক শক
আমরা সিনেমা নাটকে প্রায়শই মানসিক রোগীদেরকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে সুস্থ করার প্রক্রিয়া দেখে থাকি। বাস্তবেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানসিক রোগীদেরকে শক ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু প্রাচীন কালের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। বিদ্যুৎ এর আবিষ্কারের পর থেকে মানুষ বিদ্যুৎকে জাদুকরী শক্তি হিসেবেই মনে করতে থাকে। শুধুমাত্র সাধারণ জনগনই নয় বরং চিকিৎসকরাও বিদ্যুৎকে জাদুকরী শক্তি হিসেবেই দেখতে শুরু করে। ফলে তারা অনেক অরোধ্য রোগের চিকিৎসা হিসেবেই মানুষকে ইলেকট্রিক শক দিতে থাকে। সতেরশ শতকে শুরু হওয়া এই ভয়ানক চিকিৎসা চলে প্রায় উনিশ শতক পর্যন্ত। তখন প্যারালাইসিস, এপিল্যাপ্সি, বন্ধাত্ব্য এসকল ভয়ংকর রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হত ইলেকট্রিক শক। অতিমাত্রায় ইলেকট্রিক শক সইতে না পেরে মৃত্যু হয় হাজার হাজার মানুষের। ইউরোপের কিছু কিছু দেশে এই চিকিৎসা পদ্ধতি এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে কৃমি এবং দাঁতে ব্যথার চিকিৎসা হিসেবেও ব্যবহৃত হত ইলেকট্রিক শক! 

এবরা ক্যা ডেবরা
আমরা অনেকেই কোন জাদুর অনুষ্ঠানে কিংবা বাচ্চাদেকে জাদু দেখাতে এবরা ক্যা ডেবরা শব্দটি শুনেছি কিংবা ব্যবহার করেছি। তবে এই ওয়ার্ডটি কোনো জাদুকরী শব্দ নয়। বরং খৃষ্টপূর্ব দুইশ শতকে একজন জনপ্রিয় রোমান চিকিৎসক এই শব্দটিকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ বলে দাবী করেছিলেন। তার মতে একটি ছোট প্যাপিরসে নয় বার এবরা ক্যা ডেবরা শন্দটি প্রতিবার একটি বর্নমালা বাদ দিয়ে লিখে প্যারিরসটি মুড়িয়ে নয় দিন পর্যন্ত ম্যালেরিয়া রোগীর গলায় পড়ে থাকলে সমাধান হবে ম্যালেরিয়ার। এভাবেই এই শব্দটি রোমান অধিকৃত অঞ্চল এবং ইউরোপে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তবে এই উপায়ে বেশিরভাগ রোগীরই ম্যালেরিয়া না কমলে তিনি নয় দিন এভাবে থাকার পর সুস্থ না হলে রোগীদের শরীরে সিংহের চর্বী মাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। 

এজমা সিগারেট
এজমা বা শ্বাসকষ্ট একটি অতি পরিচিত রোগ। এজমা রোগীর জন্য ধোঁয়া বা কার্বন ডাই অক্সাইড অতি ক্ষতিকরক। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর ডাক্তাররা এই রোগ সুস্থের জন্য এমন এক সমাধান আনলেন যা কিনা যে কোনো মানুষের চোখ কপালে তুলতে বাধ্য। তারা এজমা রোগীদের জন্য বিশেষ একটি সিগারেট তৈরি করেন। যাতে শুধু সিগারেটের ভয়ংকর টোবাকোই থাকত না বরং স্ট্রেমোনিয়াম এবং ব্যালেডিয়ামের মত আরো  ক্ষতিকর রাসায়নিক যুক্ত করা হয়েছিল। এসকল এজমা সিগারেট সাধারণ সিগারেটের থেকে কয়েকগুন বেশি ক্ষতিকর ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত প্রায় একশ বছর  এই ভয়ানক সিগারেট এজমার চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল! 

রেডিয়াম
রেডিয়াম একটি তেজষ্ক্রিয় পদার্থ হলেও ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীতে রেডিয়ামকে একটি কার্যকরী ওষুধ হিসেবেই গন্য করা হত। তখনকার ডাক্তারেরা বাত, বন্ধত্য এবং বার্ধ্যকের শক্তিশালী সমাধান হিসেবে রেডিয়াম ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। এই চিকিৎসা এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে আমেরিকার প্রায় সব ঘরেই একটি বড় জাগ এ করে রেডিয়াম এবং পানি রাখা হত। কিন্তু অতিরিক্ত রেডিয়াম ব্যবহারের ফলে অনেক পরিবারেই দেখা যায় তেজস্ক্রিয়তা জনিত ক্ষতিকর সব রোগ এমনকি ক্যান্সার। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিজ্ঞানীরা রেডিমায় ব্যবহারের ভয়ংকর প্রভাব বুঝতে পারে এবং এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস