Alexa কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর যত পদ্ধতি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

পর্ব-২

কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর যত পদ্ধতি

নুরুল করিম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৬ ১ আগস্ট ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মানুষ ধীরে ধীরে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখছে! প্রচণ্ড গরম? তাতে কী, ফ্যান কিংবা এসি আছে তো! বন্যায় হাঁটা যায় না বলেই নৌকা বানিয়েছে মানুষ। প্রকৃতির হাজার হাজার উপাদান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছে বৃষ্টিকেও। কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত করার বিষয়টি প্রথম মাথায় আসে মার্কিন বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট শায়েফার। তিনিই সর্বপ্রথম প্রকৃতির মেঘকে মানুষের হাতে বৃষ্টিতে রূপান্তর করেন ১৯৪৬ সালের ১৩ নভেম্বর। প্রথম পর্বে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

প্রথম পর্ব পড়ুন: কৃত্রিম মেঘ ও বৃষ্টি আবিষ্কারের নেপথ্যে

অনেকেরই প্রশ্ন, কীভাবে সম্ভব হয়েছিল কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানো? এ ক্ষেত্রে দুটি উপায় অবলম্বন করা হয়। একটি হচ্ছে ভূমি থেকে কামান বা কোনো নিক্ষেপকের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার এলাকায় ঘনীভবনকারী পদার্থ ছুড়ে দেয়া। কিংবা ভূমি থেকে এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করা, অনেকটা ধোঁয়ার মতো রাসায়নিক পদার্থগুলোকে ধীরে ধীরে ওপরে পাঠানো। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বাহকের মাঝে রাসায়নিক ভরা হয়। যেহেতু এটি রকেটের মতো করে ছুঁড়ে মারা হবে তাই ওড়ার জন্য বাহককেও রকেটের মতো করে বানানো হয়। সেই রকেট একটি কামানের মতো নিক্ষেপক যন্ত্রের মাঝে রাখা হয়। পরে দিক ও লক্ষ ঠিক করে ছুড়ে মারা হয় ওপরে।

বিমানে করে রাসায়নিক ছিটানো পদ্ধতি

কৃত্রিম বৃষ্টির এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ। সে কারণে ধনী দেশগুলো ছাড়া এ সাহস সহসা কেউই করে না। তবে বর্তমান সময়ে নতুন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। যেসব রকেট বা মিসাইল আকাশে পাঠানো হয়, সেগুলো কয়েকটি অংশে বিভক্ত থাকে। যখন সেগুলোকে ওপরে ছোড়া হয় তখন কয়েকভাগ হয়ে যায়। এরমধ্যে মাত্র একটি অংশ আকাশে যায়, যেটি রাসায়নিক পদার্থ থাকে। বাকি টুকরোগুলো নিচে নেমে আসে। যে অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যায় সেটা নামার পথে প্যারাশুটে করে নামে। যাতে নষ্ট না হয়ে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী হতে পারে।

অনেকে দেশে আবার বিমানে করে উপরের মণ্ডলে গিয়ে বৃষ্টি উৎপাদক পদার্থ ছড়িয়ে দেয়। কারণ অনেক সময়ে রকেট বা মিসাইলের মাধ্যমে পাঠালে লাভের চেয়ে অপচয় হয় বেশি। সে তুলনায় বিমানে করে উপরে গিয়ে রসায়ন ছিটিয়ে দিয়ে অধিক উপযোগ পাবার নিশ্চয়তা থাকে বেশি। বিমানে করে প্রথম যেদিন কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর প্রক্রিয়া করা হয় সেদিন প্রথম দফা রসায়ন ছিটিয়ে দেয়ার পর রাডারে ধরা পরে আশেপাশে কোথাও বৃষ্টি হতে পারে। পরে আরেক দফা রসায়ন ছিটানোর ফলে হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নামে। অল্প-স্বল্প এলাকা নিয়ে নয়, বিশাল এলাকা নিয়ে নামে সে বৃষ্টি। বিমানের পাখার নিচে বিশেষ কায়দা করে রাসায়নিক পদার্থের বাহক রাখা হয়, উপরে উঠার পর সময় হলে সে বাহকের মুখ খুলে দেয়ার পর রাসায়নিক বের হতে থাকে ক্রমান্বয়ে।

লেজার পদ্ধতি

বিজ্ঞানের দিন দিন অগ্রগতি হচ্ছে, সব ক্ষেত্রেই উন্নতি হচ্ছে। কম ব্যয়ে অধিক লাভবান হচ্ছে বিশ্ব। আগের চেয়ে অপেক্ষার পালাও কমছে। বৃষ্টি নামানোর প্রযুক্তিতেও তেমনটা ঘটেছে। প্রথমে এল রকেট বা মিসাইল পদ্ধতি। এরপর বিমানে করে রাসায়নিক ছিটানো। সেটাও সেকেলে ও অনেক সময় সাপেক্ষ। তাই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন লেজার বীম ব্যবহার করে মাটিতে বসেই শক্তিশালী রশ্মি দিয়ে বৃষ্টি নামাতে।

লেজার বীম দিয়ে যদি বৃষ্টি নামানো সম্ভব হয়, তাহলে ঢাকার রাস্তায়ও ভ্যাপসা গরমের মাঝে বৃষ্টি নামিয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা যেতে পারে! কারণ লেজার প্রযুক্তি হলে এটা ব্যয়বহুল হবার কথা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা মেঘের ওপর উচ্চশক্তির লেজার রশ্মি ফেলে বৃষ্টি নামানোর উপায় বের করতে গবেষণা করছেন।

[কৃত্রিম বৃষ্টিকে ঘিরে সারা বিশ্বে নানা ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে কিছু ঘটনা মজার, আবার অনেক ঘটনা আপনাকে অবাক করবে। লেখাটিকে তিন পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এটি দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন, শেষ পর্ব পড়তে ডেইলি বাংলাদেশ-এ চোখ রাখুন]

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

Best Electronics
Best Electronics