.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৪ রজব ১৪৪০

কুয়াশায় কাজ করছে না কোটি টাকার ফগ লাইট

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৯:০৩ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৯:০৩ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া -পাটুরিয়া নৌরুটে প্রায় পাচঁ কোটি ব্যয়ে ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হলেও কুয়াশায় তা কাজ করছে না । ফলে প্রায় বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল। 

ঘন কুয়াশার কারণে প্রতিবছরই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেরি খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হয়।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে পরীক্ষা মুলক এ লাইটগুলো সংযোজন করা হলেও ওই বছরের শীত মৌসুমে  কোনো কাজ করেনি লাইটগুলো। এরপর তিন বছর পার হলেও লাইটগুলো মেরামতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার সকাল ৭ টা থেকে সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এ সময় যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে মাঝ নদীতে আটকা পড়ে পাঁচটি ফেরি। 

ফেরি সার্ভিস আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার কারণে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ইউপি পর্যন্ত তিন এলাকায় আটকে পড়ে কয়েকশত যানবাহন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে কমতে থাকে যানবাহনের সিরিয়াল।

এ সময় ঢাকা থেকে ফেরি কেরামত আলীতে আসা যাত্রী বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রচন্ড শীতের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফেরিতে ফগ লাইট লাগিয়েছে। লাইটগুলো নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলোর ব্যবহার হচ্ছে না সঠিক মতো। 

যাত্রী খোকন মিয়া বলেন, ফেরিগুলো কুয়াশায় দিক হারিয়ে পদ্মার চরে বেধে যাচ্ছে যে কারণে এ কুয়াশায় মাঝ নদীতে আতঙ্ক নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।

যশোর থেকে ছেড়ে আসা সবজি বোঝাই ট্রাকের চালক আনোয়ার বলেন, এমনিতেই কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এর উপর ঘাটে এসে বসে থাকতে হয়। কয়েক ঘণ্টা এতে ভোাগান্তি বাড়ছে। এছাড়া ঘাটে বসে থেকে বাড়ছে পণ্য পরিবহন খরচ।

ফেরি শাহ আলীর মাস্টার ( চালক ) পরিমল চন্দ্র সরকার বলেন, ফগ লাইট শুধু রাতের বেলায় সামান্য কাজ করে কিন্তুু কুয়াশা ভেদ করে সামনে কিছুই দেখা যায় না। যে কারণে যখন কুয়াশা পরে তখনই ফেরি বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। এর একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা এক প্রাকৃতিক কারণ এতে কারো হাত নেই। আমাদের এ রুটে চলাচলকারী বর্তমানে ১৭ টি ফেরি আছে। কুয়াশায় কিছুটা যানজট হলেও কুয়াশা কেটে গেলে দ্রুত সময়ে যাত্রীদের পারাপার করা হয়। আর ফেরিতে ফগ লাইটের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। কারণ সেটি প্রকৌশলী বিভাগের তত্বাবধায়নে রয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ