Alexa কুড়িয়ে পাওয়া বই দিয়েই তৈরি আস্ত এক গ্রন্থাগার!

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

কুড়িয়ে পাওয়া বই দিয়েই তৈরি আস্ত এক গ্রন্থাগার!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৭ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পুরনো বই ঘরে জমিয়ে না রেখে বিক্রি করে দেয় অনেকেই। আবার কেউ বন্ধুদের পড়তে দিয়ে দেয়, কেউ হয়তো পরিচিত কোনো গ্রন্থাগারে দান করে। এছাড়াও বহুসংখ্যক বই আবর্জনায় পরিণত হয় প্রতিবছর। অবহেলায় অনেকেই ফেলে দেয় অনেক বই।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, সেই ফেলে দেয়া বই খুঁজে খুঁজেই আস্ত একটা গ্রন্থাগার বানিয়ে ফেলেছেন ট্রাকচালক জোস অ্যালবার্টো গুতিয়ের্জ!  

এটি কোনো সাধারণ ট্রাক নয়, আবর্জনাবাহী ট্রাক চালান তিনি। আর সেই ট্রাক নির্দিষ্ট জায়গায় উপুড় করার সময়েই খেয়াল রাখেন, কোনো বই লুকিয়ে আছে কি না! সেই আবর্জনা হয়ে যাওয়া বইগুলো জমিয়েই সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন কলোম্বিয়ার বাসিন্দা গুতিয়ের্জ! তার বানানো এ গ্রন্থাগার এখন রীতিমতো বড় গ্রন্থাগারের সঙ্গে পাল্লা দেয়।

বহু বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আবর্জনা কুড়িয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন গুতিয়ের্জ। এক দিন হঠাৎই আবর্জনার মধ্যে একটি বইকে ভালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তিনি ওই বইটি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। লিও তলস্তয়ের ‘আনা কারেনিনা’ নামের বইটিই ছিল গ্রন্থাগারের প্রথম বই। তখন অবশ্য গ্রন্থাগারের কথা ভেবে বইটি রাখেননি গুতিয়ের্জ। নিছকই কৌতূহলে এনেছিলেন সেটি। কিন্তু এখন গুতিয়ের্জের বইয়ের সংখ্যা ২৫ হাজার। সব কটিই ফেলে দেয়া বই, আবর্জনা থেকে কুড়ানো।

প্রথম বইটি কুড়িয়ে আনার পর থেকেই যেখানে যত বই ভালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতেন, নিয়ে এসে বাড়িতে রাখতেন গুতিয়ের্জ। ক্রমে তার বাড়ির একতলাটা পুরো ভরে যেতে থাকে নানা রকমের বইয়ে। একসময়ে স্থানীয় মানুষের চোখে পড়তেই আনাগোনা শুরু করে তারা। কেউ কেউ বই পড়তে চায় সেই সংগ্রহ থেকে। কেউ আবার বাচ্চাদের জন্য চেয়ে নিয়ে যায় পুরনো গল্পের বই।

কোনো কিছু ভেবে শুরু না করলেও একসময় আবর্জনার স্তূপ থেকে ফেলে দেয়া বই খুঁজে আনাটা নেশায় পরিণত হয় গুতিয়ের্জের। কাজে বেরিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করার সময়ে খেয়াল রাখতেন, কেউ কোথাও কোনো বই ফেলে দিয়েছে কি না। সবাইকে অবাক করে, বেড়েই চলে এই বইয়ের কালেকশন। এত মানুষ এত বই ফেলে দিয়েছে! এটা ভেবেই অবাক হয়ে যায় অনেকে।

গুতিয়ের্জের এই সংগ্রহের নাম ‘লা ফুয়ের্জা দে লাস প্যালাব্রাস’। স্পেনীয় এই শব্দবন্ধের অর্থ হলো, ‘শব্দের শক্তি’। গুতিয়ের্জ একা তার পেশার মাঝে এই কাজ শুরু করলেও, তার পরিবারও এখন যুক্ত হয়েছে একই কাজে। তারাও আবর্জনা থেকে বই খুঁজতে সাহায্য করে গুতিয়ের্জকে। দেখাশোনা করে গ্রন্থাগারটির। এখন গুতিয়ের্জের গ্রন্থাগার দেখতে পর্যটকরাও আসে দেশ-বিদেশ থেকে। অনেকে সাহায্য করে এই গ্রন্থাগারের উন্নয়নে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ